আরো কিছু গ্রাম ঘুরে এলাম

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ
এ ই সময়ে একটি অধিক আলোচিত বিষয় হচ্ছে, প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ সালের বাজেট। আমি বাজেট সম্পর্কে আলোচনা না করে গ্রামীণ মানুষের জীবন-জীবিকা, দুঃখ-দুর্দশা ও অগ্রগতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। তার আগে বাজেট নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে সে সম্পর্কে দু’একটি কথা না বললেই নয়। সাধারণত টেলিভিশনে টকশো বা পত্র-পত্রিকায় লেখা-লেখিতে যেসব বিষয় তুলে ধরা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বাজেটের আকার, বরাদ্দ বিন্যাস, প্রবৃদ্ধির হার, বিভিন্ন রকমের কর ও শুল্ক এবং প্রস্তাবিত বাজেটের বাস্তবায়ন। এটি এমনভাবে করা হয় যেন সংখ্যাই মূল বিষয়। ধরা যাক, প্রবৃদ্ধির হার প্রস্তাব করা হয়েছে ৭.২ শতাংশ। কেউ কেউ বলছেন এই লক্ষ্য অর্জিত হবে, আবার কেউ কেউ বলছেন তা অর্জন মোটেই সম্ভব নয়। একইভাবে রাজস্ব আদায় সম্পর্কে মোটা দাগে বক্তব্য রাখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, কিছু কিছু কর কমালেই বিনিয়োগ বাড়বে, প্রবৃদ্ধি বাড়বে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে। বিনিয়োগের মাত্রা নিয়ে আলোচনায় জোয়ার পরিলক্ষিত হচ্ছে; বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগে জাতীয় আয়ের অনুপাতে এই বছর বাড়েনি বরং খানিকটা কমেছে; অপরদিকে সার্বিক বিবেচনায় সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ জাতীয় আয়ের অনুপাতে গত বছরের তুলনায় এ বছর খানিকটা বেড়েছে। যেহেতু জাতীয় আয় বেড়েছে তাই অনুপাত স্থির থাকলেও টাকার অংকে বিনিয়োগ বাড়তো, আর অনুপাত কিছু বাড়ায় তা আরো কিছু বেড়েছে। তবে একথা ঠিক বিনিয়োগ আরো বাড়াতে হবে যদি প্রবৃদ্ধির হার ৭ থেকে ৮ শতাংশ বা আরো বেশি পর্যায়ে নিয়ে যেতে হয়।

এ সকল আলোচনা মূলত সংখ্যা নিয়ে, সার্বিক অবস্থা নিয়ে, কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠীর পাওয়া না পাওয়া নিয়ে। অবশ্য কিছু কিছু আলোচনা নিরাপত্তা বেস্টনি নিয়েও হচ্ছে যা অতি দরিদ্র মানুষের দুর্দশা কমানোর লক্ষ্যে নিয়োজিত। তারপরও আলোচনার মূল সুর থেকে যাচ্ছে বরাদ্দ বিন্যাস, বাজেটের আকার, প্রবৃদ্ধির হার, কর বিন্যাস, প্রাক্কলিত রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা এবং গৃহীত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হবে কি হবে না ইত্যাদি সংক্রান্ত। অর্থাত্, আলোচনাটা মূলত দাঁড় করানো হচ্ছে নিউ ক্লাসিক্যাল ঢং-এ। দেশজ উত্পাদন এবং মাথাপিছু আয় বাড়লেই উন্নয়ন ঘটবে এবং সেটির ছোঁয়া আস্তে আস্তে পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে কোনো এক সময় পৌঁছে যাবে। অর্থাত্ এ সমস্ত আলোচনা নিম্ন আয়ের মানুষকে কেন্দ্র করে বিন্যস্ত নয়। কিন্তু টেকসই উন্নয়নের যে ধারা সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও এই বছর শুরু করা হয়েছে তার একটি ভিত্তিমূল ধারণা হচ্ছে, কাউকে বাদ দেয়া যাবে না, প্রত্যেককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও তাই নির্দেশ করে। সুতরাং বাজেট নিয়ে যে সমস্ত আলোচনা হচ্ছে সেগুলো এই আঙ্গিকের প্রেক্ষিতে সহায়ক হবে না।

অবশ্যই দেশে একটি বাজেট থাকবে, বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা থাকবে, যা প্রতি বছরই থাকে। মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনকারী বাংলাদেশে বঞ্চনামুক্ত, শোষণমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার যে তাগিদ রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, সেখানে যেভাবে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন, তা হলো দেশের সাধারণ মানুষ বাজেট বাস্তবায়ন থেকে কতটুকু উপকার পেতে পারেন এবং কি কি পরিবর্তন আনলে তাদের অংশগ্রহণ আরো জোরদার হবে, দারিদ্র্য টেকসইভাবে আরো দ্রুত কমে আসবে, সামাজিক বৈষম্য সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে, প্রত্যেক ব্যক্তির ন্যায্য অধিকার অর্জন সহজতর হবে এবং অর্জিত প্রবৃদ্ধি কিভাবে সুবণ্টিত হবে সে সকল বিষয়কে কেন্দ্র করে। বাজেটে অনেক প্রস্তাব আছে যেগুলো দরিদ্র, পিছিয়ে-পড়া গোষ্ঠিসমূহ উদ্দীষ্ট, সেগুলোকে আরো জোরদার কিভাবে করা যায় এবং সঠিকভাবে কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সেদিকে নজর দিলেই প্রবৃদ্ধি বাড়া এবং তার সুবণ্টনের বিষয়টি সামনে চলে আসবে। অন্য কথায় বলা যায়, মানুষকে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষকে (যথা: কৃষক, কৃষি শ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমিক, প্রান্তিক নারী কৃষক ও নারী কৃষিশ্রমিক এবং বিভিন্ন পিছিয়ে-পড়া অঞ্চলের মানুষকে) কেন্দ্র করে পরিকল্পনা, কর্মসূচি বা বাজেট যাতে গঠিত হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দারিদ্র্যোত্তর উন্নয়ন যদি টেকসইভাবে ঘটে তাহলে বিদ্যমান প্রকট বৈষম্যও কমে আসবে এবং প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। বলা বাহুল্য বড় শিল্প ও ব্যবসায়সমূহ উচ্চকণ্ঠ বলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সম্প্রসারণে তারা পারঙ্গম। আমাদেরকে বিশেষভাবে কথা বলাতে হবে সাধারণ মানুষের অবস্থা নিয়ে এবং তাদের অবস্থার উন্নয়ন কিভাবে ঘটবে সেই বিষয় নিয়ে।

টেকসই উন্নয়নের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানব সক্ষমতার যথাযথ উন্নতি সাধন। এই প্রেক্ষিতে চলতি বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জাতীয় আয়ের ১.৮ থেকে বাড়িয়ে আগামী বাজেটে যে ২.৪ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে তা উল্লেখযোগ্য একটি অগ্রগতি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমরা আশা করবো যেন বরাদ্দকৃত এই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায়। সাধারণ মানুষের ছেলে-মেয়েরা যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ে, সেসব প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যেন নেয়া হয়। অবশ্য শুরুতে বলছিলাম বাজেট নিয়ে এ লেখায় কথা বলব না, তবে প্রাসঙ্গিকভাবে বেশ কিছু কথা বলা হয়ে গেলো। যাক সে কথা। আমি সম্প্রতি যে গ্রামগুলো ঘুরে এসেছি সেখানকার মানুষের অবস্থা এবং অবস্থা পরিবর্তনের জন্য তাদের নিজেদের প্রচেষ্টা সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। বিগত তিন-চার মাসে প্রায় বিশটি জেলায়, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সেগুলো থেকে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি কতটুকু হচ্ছে বা হচ্ছে না তা পরিদর্শন করেছি। গত ৩-৬ মে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলায় পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অনেক পরিবারের নানা কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করি এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করি। স্বল্প পরিসরে সবকিছু বিস্তারিত উপস্থাপন করা সম্ভব নয়, তাই এই লেখায় শুধু কমলগঞ্জে পিকেএসএফ সমর্থিত কয়েকটি কর্মকাণ্ড উল্লেখ করতে চাই। কমলগঞ্জে বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাস। এদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই দুর্বল। অবশ্য অন্যান্য সম্প্রদায়ের অনেক মানুষও দরিদ্র এবং অতি-দরিদ্র। পিকেএসএফ-এর মূল দায়িত্ব হচ্ছে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসইভাবে দারিদ্র্য বিমোচন ও তত্পরবর্তী উন্নয়ন যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি মানব-মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। এই লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে পিকেএসএফ যে এলাকায় যে ধরনের কাজ সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট মানবগোষ্ঠীসমূহ যে ধরনের কাজ করতে চায় তা বিশেষভাবে বিবেচনাধীন থাকে। অর্থাত্ মানুষই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তাদের বর্তমান অবস্থা ও পারিপার্শ্বিকতা এবং ভবিষ্যত্ করণীয় নিয়ে তাদের ভাবনা সবকিছুই কর্মসূচিতে যেন প্রতিফলিত হয়। এই আঙ্গিকে পিকেএসএফ কমলগঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েকটি কাজ হাতে নিয়েছে। অবশ্য পিকেএসএফ সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে না, বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা (এনজিও)-র মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করে। এই এলাকায় ‘হীড বাংলাদেশ’ পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। হীড দ্বারা বাস্তবায়নাধীন চারটি কর্মসূচির উল্লেখ এখানে করতে চাই।

পিকেএসএফ চুয়াডাঙ্গা জেলায় ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল’ পালনে উত্সাহ ও সহায়তা দিতে শুরু করে বেশ কয়েক বছর আগে। বর্তমানে ঐ এলাকায় পিকেএসএফ-এর সমর্থনে এবং এর সহযোগী সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল’ পালন ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। ওখানকার দরিদ্র ও অদরিদ্র প্রায় সব পরিবার এই ছাগল পালন করে। এই ছাগল পালনের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারসমূহ দারিদ্র্য থেকে এখন বেরিয়ে এসেছে। শুধু ছাগল পালন নয় পিকেএসএফ সমর্থিত অন্যান্য কর্মসূচিতেও তারা অংশগ্রহণ করে, তবে ছাগল পালন একটি মুখ্য কর্মসূচি। এই ছাগল পালনের মাধ্যমেই মূলত তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, হচ্ছে। কমলগঞ্জে ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল’ প্রজনন খামার সেদিন (৪ মে ২০১৬) উদ্বোধন করলাম। শুরুতেই কয়েকটি অতি-দরিদ্র পরিবারকে একটি একটি করে ছাগল অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে। যত পরিবার এই ছাগল পালন করতে এগিয়ে আসবে তাদেরকে ছাগলের বাচ্চা দেওয়া হবে, তবে সেগুলোর জন্য একটা নির্দিষ্ট স্বল্প দাম নেওয়া হবে। এবং যাদের নিজের অর্থ নেই তাদেরকে প্রয়োজনীয় ঋণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে অনেক নারীকে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল’ পালনে এবং একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, আর সেটা হলো মাচা পদ্ধতি। ছাগলগুলো রাত্রে এই মাচায় থাকে। এক্ষেত্রে ছাগলের বিষ্ঠা ও মূত্র নিচে পড়ে এবং ছাগলগুলো জীবাণুমুক্ত থাকে। একটি ছাগলের দাম আকার অনুযায়ী ৬/৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। চুয়াডাঙ্গার উদাহরণ থেকে বলা যায় দুই-তিন বছরের মধ্যে এসব পরিবারের প্রত্যেকটিতে ছাগলের সংখ্যা বেড়ে হয়ে যাবে ১০/১২টি বা আরো বেশি। তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে এবং টেকসই উন্নয়ন তাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি উল্লেখ করতে চাই তা একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট। একটি গ্রামে এই গোষ্ঠীর প্রত্যেক বাড়িতে মুরগির খামার প্রতিষ্ঠার কথা। এই নৃ-গোষ্ঠী কোনো ধরনের পশু বা হাঁস-মুরগির মাংস খায় না এবং এগুলো পালনও করত না। প্রথমে একটি পরিবার এগিয়ে আসে এবং হীড থেকে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মুরগির খামার প্রতিষ্ঠা করে এবং আয় উন্নতি করতে থাকে। বিষয়টি অন্যদের চোখে পড়ে এবং এই পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়। পরে যখন সবাই দেখে পরিবারটির অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে তখন এক এক করে সবাই এগিয়ে আসে। ইতোমধ্যে পুরো গ্রামটি মুরগির খামারের গুচ্ছ গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তারা এখন প্রত্যেকেই স্বাবলম্বী। অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তারা যুক্ত হচ্ছে। আশা করা যায়, অচিরেই এ সকল পরিবার টেকসই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশীদার হবে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা আরো বেড়ে যাবে।

তৃতীয় বিষয়টি হলো ‘বস্তা-পদ্ধতি’তে সবজি চাষ। এই এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট থাকে। তাই সবজি চাষের জন্য ‘বস্তা-পদ্ধতি’ উত্সাহিত করা হচ্ছে এবং পিকেএসএফ-এর সমর্থন ও হীড-এর সহায়তায় এটি এই এলাকায় সম্প্রসারিত হচ্ছে। একটি বস্তার মধ্যে মাটি দিয়ে তাতে একটি প্লাস্টিকের বোতল ঢুকানো হয়। বোতলটিতে কিছু ছিদ্র করা হয় এবং তাতে সময় সময় প্রয়োজনমত কিছু সার ও পানি দেয়া হয়। সবজির শেকড় এই বোতল থেকে সার ও পানি গ্রহণ করে। ফলাফল খুবই ভাল হয় বলে দেখা গেছে। দেশের অন্যান্য অনেক জায়গায় সফলভাবে বস্তা-পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়। তবে কমলগঞ্জে এর প্রচলন ছিল না।। এখন অনেক কৃষক সবজি চাষে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে লাভবান হতে শুরু করেছেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘কেঁচো সার’ বা ভার্মি-কম্পোষ্ট ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আলোচ্য এলাকায় এটি প্রচলিত ছিল না। পিকেএসএফ ও হীডের সহায়তায় ইতোমধ্যেই ‘কেঁচো সার’ অনেক কৃষক পরিবার ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। এটি খুব সহজেই কৃষকরা নিজেই উত্পাদন করতে পারেন। এই জৈবিক সার ব্যবহারে উত্পাদনশীলতা বাড়ে এবং পাশাপাশি এটি জমির ঊর্বরতা মান রক্ষা করে এবং উন্নত করে। আরো উল্লেখ্য, কেমিক্যাল সার ব্যবহারের ফলে ফসলে ক্ষতিকর বিষ সংক্রমিত হয়, অপরদিকে কেঁচো সার ব্যবহারে সবজি বিষমুক্ত থাকে। পিকেএসএফ ও হীডের সহায়তায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুঁচিয়া চাষ (বাইন মাছের মত কুঁচিয়া সাপসদৃশ একপ্রকার মাছ) সম্প্রসারিত হচ্ছে। কুঁচিয়া সাধারণত বাংলাদেশের মানুষ খান না। তবে কিছু গোষ্ঠী আছে যারা এটি খায়। এদের মধ্যে অনেক মানুষ কমলগঞ্জ এলাকায় বাস করে। বর্তমানে এখানে যে পরিমাণ কুঁচিয়া উত্পাদিত হয় তার চেয়ে বেশি চাহিদা এই এলাকায়ই আছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে কুঁচিয়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

পিকেএসএফ-এর এ সকল কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে মানুষকে কেন্দ্র করে, তাদের অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে। পিকেএসএফ ও হীড এই এলাকার দরিদ্র, অতিদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই এলাকায় হীড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন উল্লিখিত চারটি ছাড়া আরো অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আছে যা পিকেএসএফ সমর্থিত। দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অংশগ্রহণকারী সকলের মানবমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এসকল কর্মকাণ্ডের ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ঘটছে। ব্যাপকভাবে দরিদ্র মানুষের এভাবে অগ্রগতি হলে তা বৈষম্য হ্রাস এবং জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।