উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে চলা বাংলাদেশ

গত ৪৫ বছরে বাংলাদেশ ধীরগতিতে হলেও নিশ্চিতভাবে আর্থসামাজিক উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে। গত চার দশকে প্রমাণও করেছি যে, আমরা ‘ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস’ নই। ১৯৭২ সালে তত্কালীন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে নিয়ে এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। কঠোর পরিশ্রম, অঙ্গীকার ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। এমন কোনো কারণ নেই, যার জন্য আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হতে পারব না। আমরা এও দেখিয়েছি যে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে আর্থসামাজিক চ্যালেঞ্জ উতরাতে পারি এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মতো আন্তর্জাতিক প্রত্যাশাগুলোও পূরণ করতে পারি।
আমাদের বাজেট প্রক্রিয়ার বিবর্তন নিয়ে আলোকপাত করা যাক। ১৯৭২-৭৩ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের মেয়াদে আমাদের জাতীয় বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। ১৯৮০-৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের বাজেটের আকার বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নতুন করে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০১-০২ সালে বাজেটের আকার বেড়ে হয় ৪২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮-০৯ সালে অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের সময় এটি আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকায়। বাজেটের আকার বৃদ্ধির এ সিঁড়ি আরো বৃদ্ধি পায় ২০০৯ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর। ২০০৯-১০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের আকার দাঁড়ায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়ায় ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার হয় ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এখানে বলে রাখা ভালো, টাকা বা অন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার হঠাত্ মান পতনের জন্য বাজেটের আকার এভাবে বাড়েনি।
চলতি বছর ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদের অনুমোদন নিয়ে তার দশম বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটকে অর্থমন্ত্রী আখ্যায়িত করেছেন ‘উচ্চাভিলাষী কিন্তু অবাস্তব নয়’ হিসেবে। কারণ আমাদের বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা গত সাত বছরে অনেক বেড়েছে। এবারের বাজেটের আকার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি এবং অনুন্নয়ন বাজেট ২ লাখ ২৯ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার যে স্বপ্ন সরকার দেখছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে এ বাজেটে। যদিও বাজেট প্রস্তাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশে অর্থাত্ প্রায় ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। পরবর্তীকালে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এ ঘাটতি পূরণ করা হবে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ নিয়ে, ৩৬ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা বিদেশী উত্স থেকে ঋণ নিয়ে এবং ২২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ নিয়ে। আরো বলা হয়েছে, যদি বাজেটের সঙ্গে সংযুক্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায় এবং এনবিআরের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭ দশমিক ২ শতাংশে। এছাড়া আরো জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এবার সর্বশেষ বাজেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরার চেষ্টা করব।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর দেয়া ভালো হবে যে, এবার সরকার আগের নজির ভেঙে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এবার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৩২ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৯ কোটি টাকা। অর্থাত্ গত অর্থবছরের তুলনায় এবার বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এ বরাদ্দ আমাদের বর্তমান জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আমাদের মোট ব্যয়ের ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। নতুন এ বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এ প্রস্তাবিত বাজেটের ২৬ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবং ২২ হাজার ১৬২ কোটি টাকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য। শিক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে শিক্ষাবিদরা মতপ্রকাশ করে আসছিলেন। তাদের পরামর্শ মোতাবেক এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। বেশকিছু সময় ধরে শিক্ষাবিদরা বলে আসছেন, মানসম্মত শিক্ষার পেছনে বরাদ্দ বৃদ্ধির দিকে সরকারের নজর দেয়া উচিত। আর এখন সবাই একমত যে, আগামী তিন বছর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা, ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষার বিস্তৃতি ও মান বৃদ্ধি, কমপক্ষে তিন হাজার শিক্ষকের অবসর, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুনর্গঠন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রতি জরুরিভিত্তিতে সরকারের আরো বেশি মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে এবারের বাজেটে আটটি ফাস্ট-ট্র্যাক মেগা প্রজেক্টের প্রতি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এবং এজন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নতুন মাত্রা যোগ ও বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এটি করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, অর্থনীতি রূপান্তরের জন্য যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তার জন্য অবশেষে মোট ব্যয় হবে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। মেগা প্রজেক্টগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম রেলপথ। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে তা হলো, অন্য দুটি ফাস্ট-ট্র্যাক প্রজেক্ট— সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর ও এলএনজি টার্মিনালের জন্য কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো গভর্মেন্ট-টু-গভর্মেন্ট (জিটুজি) ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষজ্ঞরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে একই সময় তারা জবাবদিহিতা নিশ্চিত, পরিকল্পনা গ্রহণে সতর্ক নজরদারি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন, যাতে মান ও দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ফাঁক না থাকে।
প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখ করার মতো আরো কিছু চমত্কার দিক রয়েছে। এক. সরকার এ বছর পর্যন্ত সব ব্যবসায়ীর জন্য অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছে। বিপরীতে, সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য প্যাকেজ ভ্যাট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থায় ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের অবস্থান/আকার অনুযায়ী বার্ষিক ভ্যাট দিতে হবে। তবে এটি প্রস্তাব করা হয়েছে যে, দোকানভেদে ঢাকার ক্ষেত্রে প্যাকেজ ভ্যাট হার ১৪ হাজার থেকে ২৮ হাজার এবং চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার ঢাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে। এ প্রসঙ্গে এটিও প্রস্তাব করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন মফস্বল এলাকার ক্ষেত্রে প্যাকেজ ভ্যাট ৭ হাজার ২০০ থেকে ১৪ হাজার পর্যন্ত এবং অন্য এলাকায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। এটিই সবচেয়ে বিস্ময়ের! এর মাধ্যমে সার্বিক ভ্যাট আহরণ লক্ষণীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা।
দুই. এবারের বাজেটে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব প্রশমনে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলে (বিসিসিটিএফ) ১০০ কোটি প্রস্তাব করা হয়েছে। গত সাত বছরে সরকার কর্তৃক এরই মধ্যে বিদ্যমান ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সঙ্গে এটি যোগ হবে। নিঃসন্দেহে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয় এবং এটি বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সোলার প্যানেল, বায়োগ্যাস, বায়োফুয়েলের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিতের প্রচেষ্টা জোরদারে সাহায্য করবে বৈকি।
তিন. আমাদের অব্যাহত সাফল্য গল্পের ক্ষেত্র কৃষিতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এবার এ খাতে মোট বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ১ শতাংশ। এটি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের সামান্য কিছু বেশি, যেখানে আলোচ্য খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ১১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা (মোট সংশোধিত বাজেটের ৪ দশমিক ২১ শতাংশ)। খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করায় অন্য প্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্যই সম্ভবত অর্থমন্ত্রী কৃষিতে বরাদ্দ কমিয়েছে। যে কেউ অসম্মত হবে না যে, শস্য কাঠামোয় বৈচিত্র্য আনতে আলোচ্য খাতে গবেষণায় জোর দেয়া দরকার। এজন্য এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার ছিল।
চার. সরকার এ বাজেটে সরকারি খাতের মতো বেসরকারি আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সব খাতে নিয়োজিতদের পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে। এটি করা হচ্ছে, কারণ কেবল ৫ শতাংশ জনশক্তিই সরকারি খাতে নিয়োজিত, যারা অবসর ভাতা পায়। এটিও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ব্যক্তিখাতে নিয়োজিত ৯৫ শতাংশের মধ্যে কেবল ৮ শতাংশই অবসরের সময়ে গ্র্যাচুইটি পায়। অন্যরা পায় না। সেদিক থেকে ব্যক্তিখাতে পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এ উদ্যোগ এগিয়ে নেয়া জরুরি।
পাঁচ. এবার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনায় ১৭ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত পরিমাণের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এটি একটা ভালো সিদ্ধান্ত। নিঃসন্দেহে আলোচ্য বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট খাতের কিছু বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য অধিকতর অভিগম্য করতে সাহায্য করবে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতে ব্যাপকভিত্তিক প্রচেষ্টা এবং আলোচনা সত্ত্বেও বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের সুনির্দিষ্ট কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা এক্ষেত্রে সামনে এনেছে— ক. রফতানিতে উেস কর ১ দশমিক ৫ শতাংশ আরোপ, যা বর্তমানে রয়েছে শূন্য ৬ শতাংশে। এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে বিজিএমইএ। তাদের মতে, এটি তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমাবে এবং পোশাক খাতের রূপকল্প ২০২১-এর সম্ভাবনা অর্জন ব্যাহত করবে। খ. ব্যক্তি বিনিয়োগ ও জাতীয় সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো ঘাটতি দূরীকরণে প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই, যার সবই ব্যষ্টিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গ. আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির দক্ষতা বাড়ানোর বর্তমান হতাশাজনক অবস্থায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে অপরিণামদর্শিতা ও বাস্তবতাহীনতা দৃশ্যমান। ঘ. বিদ্যমান ১ দশমিক ২ মিলিয়নের নিম্ন করদাতা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা বৃদ্ধির সুস্পষ্ট রূপরেখা অনুপস্থিত এ বাজেটে। ঙ. বৃহত্তর পিপিপি নিশ্চিতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে। চ. বিদেশী বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুত্, জ্বালানি এবং গ্যাসের বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় জুতসই সমাধানের দিশা অনুপস্থিত, যদিও গত কয়েক বছরে আলোচ্য ক্ষেত্রে নামমাত্র কিছু অগ্রগতি হয়েছে। ছ. অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান উচ্চব্যয়ের ওপর সরকারের অতিনির্ভরতা, যেখানে বিদেশী ঋণ ও অনুদান ছাড়ের অবস্থা দুর্বল রয়ে গেছে। জ. রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় পুনরায় পুঁজি সহায়তায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ হিসেবে পুঁজিবাজারে ১৩ হাজার কোটি টাকা দেয়ার সরকারি পরিকল্পনার সমালোচনা; এ পরিকল্পনাকে জন-অর্থের অপচয় হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ঝ. কর-ব্যবধান কমানোর প্রয়োজনীয়তা, যা এখন উচ্চকরদাতা এবং নিম্নকরদাতার মধ্যে বলবত্ রয়েছে। ঞ. আইসিটি বিশেষজ্ঞ এবং মোবাইলফোন কোম্পানিগুলো ভোক্তার পরোক্ষ কর বৃদ্ধির ‘সিম কর’ কমানোর দাবি করছে, এটি দেশের মধ্যে ডিজিটাইলেজশন প্রক্রিয়ার বৃদ্ধিকেও ব্যাহত করতে পারে। ত. সংশোধিত কর বিবৃতিতে প্রবিধি অব্যাহত রাখা হয়েছে (২০১৮-১৯ সাল পর্যন্ত বলবত্ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে) যা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবং দুর্নীতিকে উসকে দেয়।
উল্লিখিত মতামতগুলো গভীর বিবেচনার দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় আমলে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবে বলে প্রত্যাশা।