৩০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়

তৃতীয়বারের মতো দেশের পণ্য রপ্তানি আয় ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩ হাজার ৬৬ কোটি ৪২ লাখ ডলারের আয় হয়েছে। এই আয় ৩ হাজার ২২ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং আগের ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৮১৪ কোটি ডলারের চেয়ে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি।
এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রথম ও পরের ২০১৪-১৫ অর্থবছর দ্বিতীয়বারের মতো ৩০ বিলিয়নের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল দেশের রপ্তানি আয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল বুধবার দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। চলতি অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে অর্থবছরের শেষ মাসে অর্থাৎ চলতি জুনে ২৮৪ কোটি ডলার রপ্তানি আয় দরকার। এটি সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত অর্থবছরে ৩ হাজার ১২০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছিল।
গত মে মাসে ৩০২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় আগের অর্থবছরের একই মাসের ২৮৪ কোটি ডলারের চেয়ে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। গত এপ্রিলে অবশ্য রপ্তানি হয়েছিল ২৬৮ কোটি ডলারের পণ্য।
এদিকে মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮১ দশমিক ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে। আলোচ্য সময়ে খাতটির রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৫০৮ কোটি ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ২৯১ কোটি ডলারের চেয়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। পোশাক খাত থেকে চলতি অর্থবছর ২ হাজার ৭৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে।
জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০২১ সালে পোশাক রপ্তানি ৫ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যেতে হলে প্রত্যেক অর্থবছরে ১২ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি দরকার। সেই হিসাবে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক কিছু না।’ তিনি আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক পোশাক কারখানাই সক্ষমতা অনুযায়ী পোশাক উৎপাদন করতে পারছে না। এই জায়গায় উন্নতি হলে প্রবৃদ্ধি বেড়ে যেত।
মোহাম্মদ নাছির আরও বলেন, ‘৫ হাজার কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন। এ জন্যই আমরা বাজেটে করপোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছিলাম। দাবিটি বাস্তবায়ন হলে পোশাক খাতে নতুন বিনিয়োগে গতি আসবে।’
তৈরি পোশাকের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০২ কোটি ৯২ লাখ ডলার আয় হয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে। তবে এই আয় গত অর্থবছরের ১১ মাসের ১০৯ কোটি ডলারের চেয়ে ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ কম। এ ছাড়া হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১০১ কোটি ডলার। এর মধ্যে চিংড়ি থেকে এসেছে ৪২ কোটি ডলার।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ১১ মাসে রপ্তানি খাতে পাট ও পাটজাত পণ্যে ৮২ কোটি, হোম টেক্সটাইলে ৬৯ কোটি, কৃষিজাত পণ্যে ৫৩ কোটি, প্রকৌশল পণ্যে ৪৮ কোটি ডলার, প্লাস্টিক পণ্যে ৮ কোটি এবং বাইসাইকেলে ৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত এবং প্রকৌশল পণ্য ছাড়া বাকিগুলোতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আয় কমেছে।