এগিয়ে চলেছে নারী এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

অনেক চ্যালেঞ্জ ও বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে বাংলাদেশের নারীরা দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে নিয়ে যেতে যেভাবে সহায়তা করছে, তাদের মধ্যে যে, আত্মবিশ্বাস, অগ্রগতির ধারা দৃশ্যমান তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাই নারীর অগ্রগতির পথে যেসব বাধা-বিপত্তি প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা নারীর পাশাপাশি পুরুষের সহায়তায় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হলে দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে। কারণ নারীর অগ্রগতি তথা, উন্নয়ন মানেই মানব উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন। মোহাম্মদ নজাবত আলী

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্যদিয়ে যে দেশের যাত্রা শুরু হয়, সেই বাংলাদেশ কী কেবল হতাশায় নিমজ্জিত? নিশ্চয় তা নয়। স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকে বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল অর্জন। নানা খাতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি সংস্থা, সংগঠনের দ্বারা বাংলাদেশ সাফল্যের গৌরব গাথা ইতিহাস অর্জন করেছে। সারা বাংলাদেশকে বিশ্ববাসী দেখছে অপার সম্ভাবনার দেশ হিসেবে। যেখানে কৃষিশিল্প, শিক্ষার পাশাপাশি নারী সমাজের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। নারীরা এগিযে যাচ্ছে সামনের দিকে।
শিক্ষা জাতি গঠনের শুধু মূল স্তম্ভই নয় শিক্ষার মাধ্যমে একটি জাতি উন্নতির দিকে এগিয়ে যায়। একটি রাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি ও নারী-পুরুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়লে দেশ অগ্রগতি,উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এক সময় বাঙালি নারীসমাজ শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়েছিল। শিক্ষা-দীক্ষা বাইরের পরিবর্তিত দুনিয়ার সঙ্গে তাদের কোনো পরিচয় ছিল না। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসার পথ দেখালেন। তিনি যে, নারী শিক্ষার আলো প্রজ্বলিত করেন সেই আলোয় আলোকিত হলেন নারী সমাজ। সব বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে নারী সমাজ শিক্ষাগ্রহণে ব্রতী হয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করেন। তাই বর্তমান নারী সমাজ শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছে। আজ নারী সমাজ অন্ধ অনুকরণ থেকে মুক্ত। সব ধরনের জড়তা, কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন সত্তা ও একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠার নিরন্তন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এ সংগ্রামে তারা অনেকটাই জয়ী। শিক্ষার আলোয় তাদের এই পথ দেখিয়েছে। শিক্ষাই তাদের পেঁৗছে দিচ্ছে সাফল্যের সুউচ্চ শিখরে। আজ নারী বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে আপন মহিমায় ভাস্বর। তাই নারী আজ ঘরের কোণে সেকালের মতো বন্দি থেকে অন্ধ অনুকরণ ও বিশ্বাসকে অাঁকড়ে না ধরে শিক্ষা তাদের অন্তর-বাহিরকে জাগরিত করেছে। তাই এ কথা আজ বলতে দ্বিধা নেই যে, শিক্ষা ছাড়া নারী সমাজের পরিবর্তন সম্ভবপর ছিল না। কারণ শিক্ষা শুধু একটি জাতি গঠনের মূল স্তম্ভই নয় বরং জাতির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে জাগ্রত করে। দেশ উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। যুগে যুগে নারী-পুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে গেছে সমৃদ্ধির পথে। আজকে আমাদের নারীর অগ্রগতি আশান্বিত করে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুধু পুরুষ নয় এগিয়ে চলেছে নারী, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ পথে নারীর নানা বাধা-বিপত্তি থাকলেও শিক্ষা চাকরি নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জিং পেশায় থেকে দেশ জাতির উন্নতি, অগ্রগতিতে কাজ করে যাচ্ছে।
বেগম রোকেয়া যে, নারী জাতির অগ্রগতি উন্নয়নের কথা ভেবেছিলেন তা আজ সত্যে পরিণত হয়েছে। এগিয়ে চলেছে নারী, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বর্তমান সমাজে নারী সেকালের বৃত্তের মধ্যে বন্দি নেই। সমাজ ব্যবস্থার আরোপিত শৃঙ্খল ভেঙে আত্মবিশ্বাসে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই নারী শুধু ঘরেই নয় এমন সব কর্মকা-ে নিয়োজিত থেকে তাদের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবলের পরিচয় দিয়ে অগ্রগতি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে তা শুধু নারীর অগ্রগতি নয়, দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত ও মজবুত হচ্ছে। জনশক্তি রপ্তানিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। এক তথ্যে জানা গেছে, বর্তমান প্রায় ৩ লাখ নারীশ্রমিক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, নারীশ্রমিকদের বিদেশ যাওয়া ইতিবাচক। তবে এ ক্ষেত্রে তারা হয়রানি ও নির্যাতনও হচ্ছে। নারী অভিবাসন সংগঠনগুলো তাই সচেতন হয়ে ও যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার কথা বলছেন। বিদেশে কর্মরত নারীশ্রমিকদের উপার্জিত অর্থ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে। এ ছাড়া নারী আজ নিজ বাসাবাড়িতে কাঁথা সেলাই, বিভিন্ন রং-বেরঙের কুটির শিল্প তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গ্রাম বাংলার গরিব অর্ধশিক্ষিত নারীরা। নিজ এলাকায় নানা ধরনের সমাজ সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে। বেগম রোকেয়ার যদি জন্ম না হতো তাহলে ভারত উপমহাদেশে বাংলার নারী এখনো সে অন্ধকার যুগেই পড়ে থাকত। তাই তিনি অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বাংলার নারীদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখিয়েছেন। সেই শিক্ষার আলোই আজ বাংলার নারী আলোকিত জীবন পেয়েছে। তাই তারা অগ্রগতির পথে উন্নয়নের পথে ধাবমান। তাদের চিন্তা-চেতনার পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। নারী শুধু রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ নয় একজন পুরুষের সঙ্গে তারাও সমানভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। উপযুক্ত শিক্ষা ও অনুকূল পরিবেশে বিস্তৃতি ঘটলে নিজের মেধা ও মননে নারী নিজেদের মেলে ধরেন সক্ষম বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি তা প্রমাণ করে।
যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনীতির মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। কারণ রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত ও বাস্তবায়িত হয়। রাজনীতি ও ক্ষমতা কাঠামো থেকে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে বাদ দিয়ে সত্যিকার অর্থে কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর। কবি নজরুলের এ মহান বাণীর অর্থ হলো জেন্ডার বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে নারীর অগ্রগতি দেশের উন্নয়ন। মোটা দাগে বলা যায়, নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি দেশের উন্নয়ন ঘটে। বর্তমান বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই নারী-পুরুষের যৌথভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলে দেশে গণতন্ত্র উন্নয়ন, সুসংহত হবে তেমনি সুশাসন দৃঢ় হবে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় নারী আর পিছিয়ে নেই, নারীর অগ্রগতি উন্নয়ন হয়েছে তার বড় প্রমাণ নারীর ক্ষমতায়ন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। এক সময় বাংলাদেশের প্রশাসনে নারীর পদচারণা তেমন লক্ষ করা যায়নি। দীর্ঘ ২১ বছর পর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী (১৯৯৬) ক্ষমতায় আসার পর তিনিই প্রথম সচিব, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পদে নারী নিয়োগ দেন। সে থেকে বর্তমান পর্যন্ত নারীর অগ্রগতি ক্ষমতায়নের দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। দেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধি আইন তৈরিসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অপরদিকে স্থানীয় পর্যায়ে নারী এলাকার উন্নয়নে, যথেষ্ট অবদান রাখছেন। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পরিষদে সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নারী সদস্যের সরব উপস্থিতিই প্রমাণ করে পুরুষের মতো নারীর অগ্রগতি হয়েছে। এটা শুধু কথার কথা নয়। বাস্তব ও দৃশ্যমান। আজ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
আমাদের সংবিধানে শুধু নারীর ক্ষমতায়ন প্রশ্নে ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবে। তাই কোনো অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে গেলে নারী-পুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। যে কথা বেগম রোকেয়া, কবি নজরুল অনেক আগেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিকসহ সর্বক্ষেত্রেই নারীর ক্ষমতায়ন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশে। সদ্যসমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নারী প্রতিনিধি নির্বাচনের ঘটনা প্রায় সর্বক্ষেত্রে নারী যে অগ্রসরমান সে চিত্রই ফুটে ওঠে। বিশেষ করে এক দশকে নারীর সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। নারী শিক্ষাই দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশ নারী। মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীর সংখ্যা ৫৩ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের নারীর অংশগ্রহণের সূচকে এ অঞ্চলের প্রথম সারির ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। সরকারি বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি কৃষি শিল্পসহ সামরিক, বেসামরিক প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। সাংবাদিকতা হিসেবেও নারী সাহসী ভূমিকা পালন করছেন। সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে আন্তর্জাতিক নারী সাহসিকতার পুরস্কার পেয়েছেন ‘৭১-এর টেলিভিশন চ্যানেলের অপরাধবিষয়ক সাংবাদিক এবং নারী অধিকারকর্মী নাদিরা শারমীন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৭০ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিচারপতি, পাইলটসহ রাষ্ট্রের ঝুঁকিপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীর উপস্থিতি লক্ষণীয়। আবার অনেক নারী বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করে। প্রশংসা অর্জন করেছেন। এমনকি আমাদের নারী এভারেস্টও জয় করেছেন। আজ নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্চেলর পদেও অধিষ্টিত। উপরন্তু নারী, জজ, ব্যারিস্টার, বিচারকসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবার মধ্যদিয়ে তাদের অগ্রগতি জানান দিয়ে যাচ্ছেন।
সুতরাং নারী অগ্রগতি শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়টি এখন বহুল আলোচিত। বর্তমান আমাদের জনসংখ্যা ১৬ কোটির অধিক। আবার দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এ বিপুল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে নিরক্ষর অবহেলিত অদক্ষ রেখে দেশের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই সংবিধানে নারী-পুরুষের সমাধিকার নিশ্চিত করেছে। নারীর অগ্রগতি শিক্ষা অর্জন ও উন্নয়ন কর্মকা-ে অংশগ্রহণের জন্য সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ফলে নারী শিক্ষা আজ নবযুগের সূচনা হয়েছে। আমাদের সংবিধান মোতাবেক নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব নাগরিকের শিক্ষা, সমাধিকারসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। সরকার নারী-পুরুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের সব ধরনের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা, সামাজিক দিক থেকে নারী সমাজকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও নারী উন্নয়ন নীতিমালা গ্রহণ করেছেন। এ নীতিমালার মূল সূর হচ্ছে নারী জাতিকে শিক্ষায় সুশিক্ষিত করা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা। তাই নারী সচেতনতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শিক্ষার আলো থেকেই তাদের বঞ্চিত করে নারীর অগ্রগতি উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। আবার শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন কখনো সম্ভব নয়। তাই আমাদের সংবিধান মোতাবেক শিক্ষা গ্রহণ করে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তবে নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে কিছু বাধা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এখনো নারী নির্যাতন বন্ধ হয়নি। তাদের পথচলা সুগম হয়নি। ঘরে-বাইরে তারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার। বাল্যবিয়ে, ঝরেপড়া নারীর শিক্ষা অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় বাধা। তবুও শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। ফলে অনেক নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষমতা অর্জন করছে।
অনেক চ্যালেঞ্জ ও বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে বাংলাদেশের নারীরা দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে নিয়ে যেতে যেভাবে সহায়তা করছে, তাদের মধ্যে যে, আত্মবিশ্বাস, অগ্রগতির ধারা দৃশ্যমান তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাই নারীর অগ্রগতির পথে যেসব বাধা-বিপত্তি প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা নারীর পাশাপাশি পুরুষের সহায়তায় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হলে দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে। কারণ নারীর অগ্রগতি তথা, উন্নয়ন মানেই মানব উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন।