চলতি বাজেটে সাফল্য অনেক

লক্ষ্য অর্জিত না হলেও অনেক সফলতা রয়েছে চলতি বাজেটে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকেই সরকারী চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল কার্যকর হয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙ্গে সাত শতাংশের ওপরে গেছে। অর্থনীতির সব সূচক এখন শক্ত অবস্থানে। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ। চালু করা হয়েছে মগবাজার ফ্লাইওভারের একাংশ। মেট্রোরেলসহ অবকাঠামো খাতের আরও বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। অর্থনীতিবিদদের চোখে বর্তমান সরকারের এসব অগ্রগতি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু চলতি বাজেটে সরকারী চাকরিজীবীদের জন্য ‘পেনশন ফান্ড’ ও ‘সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংক’ গঠনসহ অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হলে সাধারণ জনগণ আরও উপকৃত হবেন।

জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। নতুন বাজেটের সম্ভাব্য আকার হবে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) হবে ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু বিষয় প্রক্রিয়াধীন, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে অনেক ওয়াদাই পূরণ হয়নি। এর মধ্যে আরেকটি বাজেট দেয়ার সময় ঘনিয়ে এলো। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সব প্রতিশ্রুতি অনেক ক্ষেত্রে রক্ষা করা যায় না। নানা কারণে তা সম্ভবও হয়ে ওঠে না। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। তার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেটের বেশিরভাগ লক্ষ্য কখনোই অর্জিত হয় না। প্রাক্কলন ও বাস্তবায়নের মধ্যে বেশি ফারাক থাকে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এ ব্যবধান ক্রমশই বাড়ছে। তিনি মনে করেন, বাজেট বাস্তবায়নে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. আবুল বারকাত জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকারের অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। এসব অগ্রগতি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। বাজেটের সব প্রতিশ্রুতি পূরণ হলে সাধারণ জনগণ আরও উপকৃত হবেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব নয়। তার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা খুবই প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বেঁধে দিতে হবে সময়সীমা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে দেয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে কিছু আছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের। বাকিগুলো অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাবই বড় সমস্যা। তার সঙ্গে আছে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। তারপরও শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতি। বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু অর্থ মন্ত্রণালয়ের নয়। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়গুলো তাদের দৈনন্দিন রুটিন কাজ নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত থাকে যে, বাজেটে দেয়া অঙ্গীকারগুলো রক্ষায় যেভাবে গুরুত্ব দেয়া দরকার, সে অনুযায়ী হয় না। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যথাসময়ে কার্যকর হয় না।

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে পর্যালোচনায় দেখা গেছে, লক্ষ্য অর্জিত না হলেও বেশকিছু সফলতাও রয়েছে চলতি বাজেটে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকেই সরকারী চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল কার্যকর হয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ বা সাড়ে ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে সাত শতাংশের ওপরে গেছে। যদিও এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকসহ দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন। নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মূল্যস্ফীতি। দ্রব্যমূল্য এখনও স্থিতিশীল। বেড়েছে কৃষি উৎপাদন। বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গতি এসেছে রফতানিতে। প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্সও বেড়েছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পিপিপির আওতায় যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার চালু হয়েছে। চালু করা হয়েছে মগবাজার ফ্লাইওভারের একাংশ। অবকাঠামো খাতের এসব মেগা প্রকল্প চালু হওয়ায় রাজধানীর ঢাকার যানজট কিছুটা হলেও কমেছে। গত সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করা হয়েছে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজ। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও আশা করা যাচ্ছে, ঢাকার যানজট বহুলাংশে কমে আসবে। এ ছাড়া মেট্রোরেলসহ অবকাঠামো খাতের আরও বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।