স্বপ্ন জাগায় বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর হাস্যোজ্জ্বল মুখ

প্রধানমন্ত্রীর এই সম্মেলনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বন্ধন আরো দৃঢ় হলো; যা আমাদের উন্নয়নের পথে অন্যতম পাথেয়। নানা দিক থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বৈদেশিক বিষয়গুলো আরো সহজতর এবং সুসম্পর্কের আদলে সম্পাদন হবে। এর মাধ্যমে সবার সঙ্গে এক হয়ে এবং হাতে হাত রেখে অগ্রযাত্রার পথ রচিত হলো।
মো. মিঠুন মিয়া
দেশের নানা সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি প্রায়ই নজর কাড়ে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায় প্রধানমন্ত্রীর বদনখানি। কিন্তু শিল্পোন্নত দেশগুলোর সম্মেলন জি-৭-এর আউটরিচ অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এমন হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এমন সখ্য বাঙালির মনকে পুলকিত করেছে। আমাদের আশা জাগিয়েছে। স্বপ্ন বোনার ক্ষেত্রকে করেছে আরো প্রসারিত, যা নির্দেশ করে আমরা এখন ভিন্ন মাত্রায় পেঁৗছার পথে। যে যাত্রায় আমরা উপনীত হব সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে, যার জন্য ৩০ লাখ শহীদ তাজা প্রাণ দিয়েছে। এমন দৃশ্য নতুন করে আশা জাগিয়েছে ১৬ কোটি মানুষের হৃদয়ে। বিশ্বনেতৃত্বের সঙ্গে অবশ্যই ইতিবাচক কোনো না কোনো আলাপচারিতায় মগ্ন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। হাসিই তার একমাত্র প্রমাণ। একটি ছবি হাজারো কথা বলে। তাই যদি হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্ররি ওই হাসিমাখা অনন্য ছবির কথা বর্ণনাতীত। ছবিটি আভাস দেয় উন্নয়ন, শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় এবং কৌশলপূর্ণ বুদ্ধিদীপ্ত অবস্থানের। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনার এমন দৃশ্যপট ব্যক্ত করে সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে, বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে, একসঙ্গে বিশ্বশান্তি এবং কল্যাণের পথ প্রসারিত করতে। হাসি কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখে নয়, স্বতঃস্ফূর্ত হাসি ও মিথস্ক্রিয়া শোভা পায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, আইএমএফ-প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দসহ অন্যদের মুখে। ইতোমধ্যে ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। প্রাণবন্ত ছবিগুলো যেন হাতছানি দিচ্ছে সম্ভাবনার বাংলাদেশের।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও জি-৭ সম্মেলনের আয়োজক শিনজো আবের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জি-৭-এর সদস্য বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে এ আউটরিচ বৈঠকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। যার মধ্যে ছিল ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, শ্রীলংকা, পাপুয়া নিউগিনি ও আফ্রিকার দেশ শাদ। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল মনিটরিং ফান্ড (আইএমএফ) ও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। আউটরিচ বৈঠকের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বাম পাশের আসনে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ডান পাশের আসনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাতিও রেনজি। মাঝখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বসেন অনুষ্ঠানের মধ্যমণি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের উল্টো দিকে। একই সারিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, শাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস দেবি। তাদের উল্টো দিকের আসনে অর্থাৎ শিনজো আবের সারিতে বসেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ মিটিংয়ের টেবিলে সব আলো এদের ওপরই। এ টেবিলে আরো ছিলেন লাওস, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনির সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা। বলতে গেলে বিশ্বনেতাদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল এ সম্মেলন।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহাবস্থান বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচিত করে তুলছে। এখন কেবল বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে এবং জানতে আগ্রহ জাগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কী বিষয় নিয়ে এমন সখ্যে মেনে উঠেছিলেন। তাদের মাঝে হাসির বিষয়টি কী ছিল? ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। এখন একটি আশাবাদের দেশে পরিণত হয়েছে আমাদের এই সোনার বাংলা। ইতোমধ্যে নিম্নমধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ায় বিশ্ববাসী আমাদের নতুন করে চিনছে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর জি-৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বনেতাদের কাছে ফের নতুন করে পরিচিতি পেল। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ পাওয়া আসলে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় পাওয়া। সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন আমাদের নেত্রী, তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের কথা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সেখানে আয়োজনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সম্মেলনকে গুরুত্ববহ করে তোলে।
প্রধানমন্ত্রী আউটরিচ বৈঠকের দুটি পর্বের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, এশিয়া এবং বিশ্ববাসীর উন্নয়নে জাতিসংঘ নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন এবং উন্নত অবকাঠামো বিনির্মাণে সহযোগিতাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের শুরুতেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশ্বনেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন, গুণগত অবকাঠামো, জলবায়ু ও স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশের অর্জন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বৈঠকে বলেছেন, উন্নত দেশগুলো যদি কারিগরি সহায়তা, অর্থায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, তাহলে বিশ্ব আজকে যেসব সমস্যায় পড়ছে, তাতে পড়বে না। পরে প্রধানমন্ত্রী নেতাদের সঙ্গে ফটোসেশন এবং মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার চ্যালেঞ্জ উত্তরণে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সম্পদের সংযোজন এবং দরিদ্র দেশগুলোর সামর্থ্য বৃদ্ধির ব্যাপারে আরো তৎপর হওয়ার জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন ও দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করে জি-৭ সম্মেলনের আউটরিচ সভার প্রধানমন্ত্রী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কিত চারটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেন। শেখ হাসিনা নীতি প্রণয়ন ও রাজনীতিতে নারীদের গুরুত্ব দেয়া, সমাজে নারীদের অধিকার ও মর্যাদা তথা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য পরিসেবা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেয়ার জন্য বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে শেখ হাসিনা সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপ্রধানরা। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাস মোকাবেলায় বিশ্বনেতাদের এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এতে বিশ্বের অর্থনৈতিক হুমকি মোকাবেলায় প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর জোর দেন বিশ্বনেতারা। উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে তার সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরেন। গ্রামপর্যায়ে বাংলাদেশের কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো বিশ্বব্যাপী একটি ‘রোল মডেল’ বলে তিনি উল্লেখ করেন। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নারীর প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতায়ন, তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং অধিকার ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। কাজেই বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিটি বিষয় ছিল গুরুত্ববহ। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রত্যাশা এবং সমৃদ্ধি অর্জনের দৃঢ় প্রচেষ্টা। সেই সঙ্গে বিশ্বে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর প্রতি উন্নয়নের সুদৃষ্টির জন্য তিনি জোরালোভাবে বিশ্বনেতাদের মনোযোগ কাড়েন। বাংলাদেশের পাশে থাকতে তাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এটি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার সক্ষমতা ও বৈশ্বিক ভাবমূর্তির প্রতি স্বীকৃতি। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জি-৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল, জাতিসংঘ মহাসচিব ও আইএমএফ-প্রধানসহ বিশ্বনেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাপ হয়। বাংলাদেশ ছাড়া জি-৭-এর অন্য রাষ্ট্রগুলো বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করে। এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দেশের উন্নয়ন কর্মকা- নিয়ে সার্বিক আলোচনা এবং অন্যান্য দেশকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো। এর অংশ হিসেবে আমরা দেখি যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে চায়। সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্রিটেনের অংশীদারিত্বে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের অংশীদার হতে ইচ্ছুক।’ অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং একযোগে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পেঁৗছান। আলোচনার শুরুতেই বাংলাদেশের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিস্ময় প্রকাশ করেন ডেভিড ক্যামেরন। তিনি জানতে চান, অব্যাহত এ অর্জন কীভাবে সম্ভব হলো? উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রবৃদ্ধি একবারে ৬ থেকে ৭ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন টানা ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এরপর ১-২ পয়েন্ট করে ধাপে ধাপে এগিয়ে তবেই ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয় বৈঠকে। বাংলাদেশি ডায়াসপোরারাও এখন বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে বলে এতে উঠে আসে। আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তখন আগ্রহ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ যে অব্যাহত উন্নয়ন করে যাচ্ছে, এ উন্নয়ন গল্পে অংশ হতে চায় তার দেশ। দুই সচিব জানান, আলোচনা চলাকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত থাকবে কিনা এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শেখ হাসিনার পরামর্শ চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ব্রিটিশ জনগণ নেবে। তবে তিনি মনে করেন, বিশ্ব যখন আরো একীভূত হওয়ার পক্ষে, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন একটি কার্যকর জোট থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়া উচিত হবে না। ক্যামেরনকে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে গেলে গোটা ইউরোপে বাংলাদেশি ডায়াসপোরাদের স্বার্থও ক্ষুণ্ন হবে। তা ছাড়া, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য প্রধানমন্ত্রীর বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ও অন্য দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী ও রূপা হকও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ব্রিটেনের পক্ষে। সুতরাং এই জোটের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না বলেও মত জানান প্রধানমন্ত্রী। দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় মূলত দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত ও বিনিয়োগের বিষয় প্রাধান্য পায় এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারার প্রশংসা করেন।
এদিকে জি-৭ সামিটের আউটরিচ বৈঠকে অংশ নিতে জাপান সফরে যাওয়ার আগেই সম্মেলনের প্রচ্ছদে ঠাঁই পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি। সম্মেলনে অংশ নেয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রের নেতার মধ্যে পাঁচজনের ছবি তাদের প্রকাশনার প্রচ্ছদে স্থান দিয়েছে জি-৭ গবেষণা দল। কেবল তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্বের অন্বেষণে’ শীর্ষক বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবারের জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ম্যাগাজিনে। বিশ্বের সব শীর্ষনেতার পাশাপাশি শেখ হাসিনার নিবন্ধ স্থান পেয়েছে এই প্রকানায়। বিশ্বনেতারা ভবিষ্যৎ বিশ্বকে কেমন দেখতে চান, তাদের উন্নয়ন ভাবনা ও দর্শন কী_ সবই রয়েছে এসব নিবন্ধে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাতে লিখেছেন তার উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে। শেখ হাসিনা ছাড়াও প্রচ্ছদে রয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজে আবে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রধান ডোনাল্ড টাস্ক ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জন ক্লড বাঙ্কার। এই ম্যাগাজিনটির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর দেশের উন্নয়নের ধ্যানজ্ঞান। এতে বিশ্বনেতারা আবার বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা সম্পর্কে অবহিত হবেন। পুরো বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার একটি বিশেষ অবস্থানে উপনীত হলো বাংলাদেশ, যা আমাদের বড় পাওয়া। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাতারে আমাদের অবস্থানের বিষয়টি আশান্বিত করে। এ ছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। আমরা জানি, জাপান আমাদের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা অপরিসীম।
প্রধানমন্ত্রীর এই সম্মেলনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বন্ধন আরো দৃঢ় হলো; যা আমাদের উন্নয়নের পথে অন্যতম পাথেয়। নানা দিক থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বৈদেশিক বিষয়গুলো আরো সহজতর এবং সুসম্পর্কের আদলে সম্পাদন হবে। এর মাধ্যমে সবার সঙ্গে এক হয়ে এবং হাতে হাত রেখে অগ্রযাত্রার পথ রচিত হলো।

মো. মিঠুন মিয়া : প্রভাষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়