ঠোঙায় জীবন জীবিকা

ছোটবেলা থেকে স্বপন দাসের ইচ্ছা ছিল স্বাধীনভাবে কিছু করা। কিন্তু ভূমিহীন বাবার সংসারে সারা বছর অভাব লেগে থাকার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। কেননা তার কৈশোর ও যৌবন কেটেছে অর্ধেক খেয়ে আবার কখনও না খেয়ে। কিন্তু কর্মজীবনে গিয়ে সে দিন পাল্টে গেছে তার। বাড়িতে কাগজের ঠোঙা বানিয়ে তা বিক্রির মাধ্যমে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছেন। স্বপন দাস ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের প্রফুল্ল দাসের ছেলে।
স্বপন দাস জানান, ইচ্ছা থাকলেও চতুর্থ শ্রেণীর পর আর লেখাপড়া করা হয়নি। কেননা শৈশব থেকেই জীবিকার পেছনে দৌড়াতে হয়েছে। সংসার জীবনে পরের জমিতে কামলা খাটেন। পরে স্থানীয় কোলা বাজারে একটি ভ্যান রিকশা মেরামতের দোকান দেন। সেটাও কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কি করে সংসার চালাবেন সে নিয়ে ভাবতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাড়িতে কাগজের মিষ্টির ঠোঙা তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রথম পর্যায়ে তৈরি করা ঠোঙা স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে থাকেন। সংসার থেকে দূর হতে থাকে অভাব। এভাবে প্রায় ৩ বছর চলার পর বেশ কিছু টাকা জমাতে সক্ষম হন। এ টাকা খাটিয়ে ব্যবসা আরও বাড়াতে থাকেন। পরে গ্রামের বেশ কিছু অসহায় মহিলাকে হাজিরা চুক্তিতে কাজে লাগান। স্বপন দাস আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে তিনি নিজে ও তার স্ত্রী কাজ করতেন। কিন্তু এখন গ্রামের ১৮ গরিব অসহায় মহিলা প্রতি ঠোঙা ৭৫ পয়সা চুক্তিতে তৈরির কাজ করছেন। আর নিজে ব্যস্ত থাকেন বিক্রি আর ব্যবস্থাপনায়।
এখন প্রতিটি ঠোঙা পাইকারি সাড়ে ৫ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। তৈরি ও পরিবহনসহ সব খরচ মিলিয়ে প্রতি ঠোঙায় ৪ টাকা খরচ হচ্ছে। স্বপন দাস আরও জানান, ঠোঙা তৈরি করে ১৬ বছরের ব্যবধানে বাড়িতে প্রায় ৩ বিঘা জমি কিনেছেন। ঠোঙা তৈরির জন্য কাগজের রোল কাটার প্রায় ২ লাখ টাকা দিয়ে মেশিন কিনেছেন। নিজে লেখাপড়া করতে না পারলেও ছেলে প্রসেনজিৎ দাস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আর মেয়ে বৃষ্টিকে নবম শ্রেণীতে পড়াচ্ছেন। ঠোঙা তৈরিতে কাজ করা সুমিত্রা রানী দাস জানান, একজন মহিলা সারা দিন কাজ করলে ২০০ থেকে ২৫০ ঠোঙা তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে একজন মহিলা প্রতিদিন ঠোঙা তৈরি করে অন্তত ২০০ টাকা আয় করে থাকেন, যা দিয়ে তাদের সংসার চলে। ৩নং কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ূব হোসেন জানান, স্বপন স্বকর্মসংস্থান তৈরি করে একদিকে নিজে ভালোভাবে সংসার চালাচ্ছেন অন্যদিকে আরও কিছু অসহায় মহিলার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য স্বপন দাস আশীর্বাদ পেতে পারেন।