যশোরে উৎপাদিত পাথরভাঙা মেশিন রফতানি হচ্ছে

১৯৯২ সালে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে যশোর শহরে রিপন মেশিনারিজ নামে কৃষি যন্ত্রাংশের ব্যবসা শুরু করেন আশরাফুল ইসলাম বাবু। এর পর ১৯৯৫ সালে গড়ে তোলেন রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন হচ্ছে স্টোন মিনি ক্রাশার, ইটভাঙা, পাথরভাঙা মেশিনসহ বহু যন্ত্রাংশ। ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পাথরভাঙা মেশিন দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানি হচ্ছে বিদেশেও।

যশোরে আয়োজিত জাতীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও প্রযুক্তি মেলা ঘুরে জানা গেছে এসব তথ্য। ২৯ মে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ মেলার গতকাল ছিল শেষ দিন। মেলাটি উদ্বোধন করেন যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। এ মেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি, যশোর জেলা শাখা। এতে অঞ্চলের হালকা ও ভারী প্রকৌশল যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ৩০০ প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রদর্শন করে। রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপও এসব প্রতিষ্ঠানের একটি।

রিপন মেশিনারিজের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল ইসলামের ছেলে লিয়াকত হোসেন রিপন জানান, প্রতি মাসে তাদের উৎপাদিত ১৫টি পাথরভাঙা মেশিন ভারতে রফতানি হচ্ছে। এসব মেশিনের দাম প্রতিটি সাড়ে ৪ লাখ টাকা।

মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, বাস-ট্রাকের যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছে এনায়েত লেদ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার হোসেন জানান, এসব যন্ত্রাংশ আগে বিদেশ থেকে আমরা আমদানি করতাম। এখন আমদানির প্রয়োজন হয় না।

অগ্রণী ইঞ্জিনিয়ারিং সরিষার তেল ভাঙানো মেশিন, বোতলজাতের জন্য ফিল্টার উৎপাদন করছে। এসব পণ্য সরবরাহ হচ্ছে দেশের ৪০টি জেলায়। যশোর বিসিকে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং উৎপাদন করছে টিউবঅয়েল, বিচেলিকাটা মেশিন, বড় গাড়ির ড্রাম ও অটোবাইকের পার্টস। সহজশর্তে ব্যাংকঋণ পেলে এসব শিল্প আরো বিকশিত হতে পারতো বলে জানান প্রতিষ্ঠান দু’টির মালিকরা।

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি যশোর জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক সিরাজ খান মিন্টু বলেন, জেলায় ৩০০টি হালকা ও ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান ভারী শিল্পপণ্য উৎপাদন করছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বছরে হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি বলেন, সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা দিলে তারা আরো ভালো করতে পারত। এরই মধ্যে ভ্যাট আইন নিয়ে আমাদের মধ্যে ভীতি বিরাজ করছে। প্যাকেজ ভ্যাট উঠে গেলে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। সারা বছর পণ্য উৎপাদন করলেও বছরে মাত্র তিন-চার মাস তা বিক্রি হয়।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, যশোরের ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনেক আগে থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। খাতটির বিকাশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজতে হবে। আর ব্যাংকগুলোকেও এসএমই ঋণ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।