রাজশাহীতে পদ্মার কিনারে মাছ চাষে সচ্ছল ৩৫০ জেলে

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মা নদীর কোলে জমে থাকা পানিতে মাছ চাষ করে সচ্ছলতা ফিরছে সাড়ে ৩০০ জেলে পরিবারের। এসব জেলে পরিবারগুলো ভরা মৌসুমে পদ্মা নদীতে মাছ ধরেন। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে জমে থাকা পদ্মার পানিতে মাছ চাষ করে অর্থ উপার্জন করছেন তারা। এক্ষেত্রে স্থানীয় মত্স্য বিভাগ তাদের নানাভাবে সহায়তা করছে।

উপজেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুম শুরু হলে এখানে পদ্মা নদী কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। নদীর আসল প্রবাহ চলে যায় ভারতীয় সীমান্তে। এ পাড়ে থাকে ধু-ধু বালুচর। মাঝে মাঝে গ্রাম ঘেঁষে এ পাড়ে কিছু নিচু জায়গায় আটকে থাকে পানি। আর এ পানিতেই গত বছর থেকে শুরু হয়েছে মাছ চাষ।

উপজেলা সহকারী মত্স্য কর্মকর্তা নাইমুল হক জানিয়েছেন, উপজেলার নিমতলা, খারিজাগাতি, চকপাড়া, মোল্লাপাড়া, পিরিজপুর ও হরিশংকরপুরসহ আটটি এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে মাছ চাষ চলছে। মত্স্য বিভাগ জেলেদের সব ধরনের সহযোগিতা করছে। তাদের মাছের পোনা থেকে শুরু করে মাছ ধরার জালও দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। এছাড়া মাছ চাষে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ।

তিনি আরো জানান, এসব এলাকায় ৫০-৬০ জন করে মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি গড়ে তুলে নদীর কোলে মাছ চাষ করছেন। মত্স্য অধিদপ্তরের ‘উন্মুক্ত জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন ও পোনা অবমুক্তকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এসব জলাধারে চলতি মৌসুমে ১৬ লাখ টাকার পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির সেসব পোনার ওজন বেড়ে এখন এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও মাছ ধরে বিক্রিও শুরু করছেন চাষীরা। আসছে ভরা মৌসুমের আগেই সব মাছ ধরে বিক্রি করা হবে।

প্রকল্পটির মূল্যায়ন কর্মকর্তা শিরিন শিলা জানান, গোদাগাড়ী অঞ্চলে পদ্মা নদী শুকিয়ে গেলে জেলেরা বিপাকে পড়েন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হয় তাদের। তাই শুষ্ক মৌসুমেও যেন তাদের উপার্জনে ভাটা না পড়ে, সে লক্ষ্যে গোদাগাড়ীর ৩৫০ জন জেলেকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। অনগ্রসর জেলেদের উন্নয়ন ঘটানোই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য।

উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা শামসুল করিম জানান, প্রকল্পের আওতায় থাকা মাছ চাষীদের নিজস্ব একটি সমবায় সমিতি আছে। সমিতির নামে একটি ব্যাংক হিসাবও খোলা আছে। মাছ বিক্রির পর তারা যে পরিমাণ অর্থ পাবেন, তার ৬০ ভাগ তারা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেবেন। অবশিষ্ট ৪০ ভাগ জমা রাখা হবে ব্যাংক হিসাবে। এতে আগামীতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে পোনা বিতরণ বন্ধ হয়ে গেলেও তারা সঞ্চিত টাকায় মাছের পোনা কিনতে পারবেন।

তিনি বলেন, পদ্মায় পানি শুকিয়ে গেলে এ অঞ্চলের জেলেরা অলস সময় পার করতেন। এখন শুষ্ক মৌসুমে তারা মাছ চাষ করেন। আর ভরা মৌসুমে মাছ ধরেন।

নিমতলা মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু মণ্ডল জানান, তার সমিতিতে মোট ৬০ জন সদস্য আছেন। মত্স্য অধিদপ্তর তাদের এ জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করার পর মাত্র ৯০ দিনের মধ্যেই তারা মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করতে পারেন। মাছ বিক্রির পর এক একজন সদস্য অন্তত ৪০ হাজার টাকা মুনাফা পান।