সোনায় মোড়ানো মুস্তাফিজের বছর

শুরুটা বোধহয় এর চেয়ে আর ভালো হতে পারতো না। ভারতকে হারিয়ে শুরু করেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা আর জিম্বাবুয়ে বধ। এশিয়া কাপের ফাইনাল না জিততে পারলেও পাকিস্তান-শ্রীলংকাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এরপর আইপিএল। আর আন্দ্রে রাসেলকে হুমড়ি খেয়ে আউট করার দৃশ্যটা অনেক দিন ভুলবে না ক্রিকেটপ্রেমীরা।

এরই মধ্যে দেখতে দেখতে একটা বছর পার করলেন মুস্তাফিজ। এই সময়ই প্রাপ্তির পাল্লাটা অনেকখানি ভারি করে ফেলেছেন এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার। এবারের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে গোনার মধ্যেই আনেননি অনেকে। কেবল মুস্তাফিজ ছিলেন বলে বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর ছিল হায়দরাবাদের উপর। গড়পড়তা মানের একটি দলকে ফাইনালে জেতার কৃতিত্ব বহুলাংশে বাংলাদেশি এই পেস সেনসেশনের।

১৭ উইকেট নিয়ে এবারের আসরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন মুস্তাফিজ। অথচ এই দলটিকেই কেউ গণনার মধ্যেই আনেননি। এমনকি ফাইনালেও অঘোষিতভাবে অনেকে ব্যাঙ্গালুরুকেই এগিয়ে রখেছিলেন। অথচ ফাইনালে গেইল যখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন সেখানে প্রথম ওভারে মুস্তাফিজ দেন মাত্র ৪ রান। ইনিংসের শেষের দিক ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ওয়াটসনকে বিদায় করে দিয়ে ম্যাচটা পুরোপুরি হায়দরাবাদের করায়ত্বে আনেন তো মুস্তাফিজই।

নেহরা-ভুবনেশ্বর-মুস্তাফিজে গড়া হায়দরাবাদের বোলিং লাইন আপ ছিল এবারের টুর্নামেন্টের সেরা জুটি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজেকে দলের অপরিহার্য অংশ বানিয়ে রেখেছিলেন তিনি। উইকেটের দিক থেকে হয়তো পঞ্চম স্থানে ছিলেন মুস্তাফিজ তবে একটা জায়গায় ছাড়িয়ে গেছেন সেরাদেরও। এবারের আসরে সবচেয়ে কম রান দেয়া বোলার তিনি।

৬১ ওভার বল করে মাত্র ৪২১ দিয়েছেন মুস্তাফিজ। যার অর্থ প্রতি ওভারে সাতের চেয়েও কম রান দিয়েছেন তিনি। কার্যত অসাধারণ এই মৌসুম পার করলেন মুস্তাফিজ। আগামী দিনগুলোতেও মুস্তাফিজের কাছে এমন পারফরম্যান্স আশা করবে বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তরা।