নন্দিত ও প্রশংসিত মুস্তাফিজ

মুস্তাফিজুর রহমান ক্রমশই নন্দিত ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। তাঁর খেলা দেখে ক্রিকেটভক্তরা দারুণ খুশি এবং আনন্দিত। এককথায় আত্মহারা। মুস্তাফিজুর রহমান আবারও তাঁর খেলায় অসাধারণ নৈপুণ্য এবং প্রতিভার ছাপ তুলে ধরলেন আইপিএল আসরে। ভালো খেলার কারণে এই আসর থেকেই তাঁকে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে।
ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুস্তাফিজ খেলেছিলেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ফাইনাল খেলায় জয়ী হয়েছেন মুস্তাফিজের ওপর ভর করেই। মুস্তাফিজই জিতিয়ে দিয়েছেন হায়দ্রাবাদকে। ফাইনাল খেলার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিরাট কোহলির ব্যাঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হায়দ্রাবাদ। ওয়ার্নারের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে চড়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০৮ রানের বড় স্কোর গড়ে হায়দ্রাবাদ। জবাবে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০০ রান সংগ্রহ করে ব্যাঙ্গালুরু। এবারের আইপিএলে ওভারগুলোতে দুর্দান্ত বোলিং করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ফাইনাল খেলায় শেষ দুই ওভারে দারুণ বোলিং করেন তিনি। ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর স্টাম্প হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাসও করেন তিনি। টিম সংয়েও স্টাম্প হাতে ছিল তাঁর।

বাংলাদেশের এই তারকা খেলোয়াড় একের পর এক সাফল্যের চমক দেখানোয় বলা যায় আগামী খেলাগুলোতেও তিনি সাফল্যের বিচ্ছুরণ ছড়াবেন। তাঁর এক বছরের খেলার চিত্র শুধু সাফল্যের দ্যুতি ভরা। মুস্তাফিজের শুরুটাই চমক দিয়ে। ভারতকে হারিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা আর জিম্বাবুয়ে বধ। এশিয়া কাপের ফাইনাল না জিততে পারলেও পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এরপর আইপিএল। আর আন্দ্রে রাসেলকে হুমড়ি খেয়ে আউট করার দৃশ্যটা অনেক দিন ভুলবে না ক্রিকেটপ্রেমীরা।

এরই মধ্যে দেখতে দেখতে একটা বছর পার করলেন মুস্তাফিজ। এই সময়ে প্রাপ্তির পাল্লাটা অনেকখানি ভারি করে ফেলেছেন এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার। এবারের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে গোনার মধ্যেই আনেননি অনেকে। কেবল মুস্তাফিজ ছিলেন বলে বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর ছিল হায়দ্রাবাদের ওপর। গড়পড়তা মানের একটি দলকে ফাইনালে জেতানোর কৃতিত্ব বহুলাংশে বাংলাদেশি এই পেস সেনসেশনের।

এমনকি আইপিএলের ফাইনালেও অঘোষিতভাবে অনেকে ব্যাঙ্গালুরুকেই এগিয়ে রেখেছিলেন। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ দলটিকে কেউ গণনার মধ্যেই আনেননি। অথচ ফাইনালে গেইল যখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন, সেখানে প্রথম ওভারে মুস্তাফিজ দেন মাত্র ৪ রান। ইনিংসের শেষদিকে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ওয়াটসনকে বিদায় করে দিয়ে ম্যাচটা পুরোপুরি হায়দ্রাবাদের করায়ত্তে আনেন মুস্তাফিজই।
নেহরা-ভুবনেশ্বর-মুস্তাফিজে গড়া হায়দ্রাবাদের বোলিং লাইনআপ ছিল এবারের টুর্নামেন্টের সেরা জুটি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজেকে দলের অপরিহার্য অংশ বানিয়ে রেখেছিলেন তিনি। উইকেটের দিক থেকে হয়তো পঞ্চম স্থানে ছিলেন মুস্তাফিজ; তবে একটা জায়গায় ছাড়িয়ে গেছেন সেরাদেরও। এবারের আসরে সবচেয়ে কম রান দেওয়া বোলার তিনি।

৬১ ওভার বল করে মাত্র ৪২১ দিয়েছেন মুস্তাফিজ। যার অর্থ প্রতি ওভারে সাতের চেয়েও কম রান দিয়েছেন তিনি। কার্যত অসাধারণ এক মৌসুম পার করলেন তিনি। আগামী দিনগুলোতেও মুস্তাফিজ তাঁর খেলার সাফল্য ধরে রাখবেন- আমরা এমন আশা রাখি। তাঁর খেলার চমৎকার ও প্রশংসিত নৈপুণ্য দেখার অপেক্ষায় থাকবেন বাংলাদেশের ও বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা।