চালু হচ্ছে ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাওয়ার্ড’

অবশেষে চালু হচ্ছে ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাওয়ার্ড’ (পিএএ)। জাতীয় ও জেলা- দুই স্তরে এই পুরস্কার দেয়া হবে। আগামী ২৩ জুন ‘আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে’ এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। দেশের সব সিভিল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি বৃদ্ধি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ লাখ সদস্যের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। এই পুরস্কার ব্যক্তি, দল এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে মূল্যায়নের মাধ্যমে জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নামের শেষে ‘পিএএ’ ব্যবহার করতে পারবেন।উত্তম কাজের জন্য পুলিশ বিভাগে ‘বিপিএম’ ও ‘পিপিএম’, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশিষ্ট নাগরিকদের জন্য ‘স্বাধীনতা পদক’, সাহিত্যে ‘একুশে পদক’, থাকলেও জনপ্রশাসনে এই ধরনের কোন পদকের ব্যবস্থা ছিল না। এজন্য গত কয়েক বছর ধরেই জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এই পুরস্কার চালুর দাবি করে আসছিল ডিসিরা। এজন্য ‘জনপ্রশাসন পদক’ চালু হলে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সেবা প্রদানের মানসিকতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কাজে গতিশীলতা ও প্রকল্পের বাস্তবায়ন জোরালো হবে বলে জনপ্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন।প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৩ জুন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয়ভাবে পুরস্কার বিজয়ীদের মাঝে ‘পিএএ’ বা ‘সিভিল সার্ভিস এঙ্েিলন্স অ্যাওয়ার্ড’ (উত্তম জনসেবা পুরস্কার) বিতরণ করবেন। সুস্থপ্রতিযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিনিয়ত আত্মোন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত জনসেবা প্রদানে সরকারি কর্মচারীদের উৎসাহিত করা, সুবিধাভোগীদের চাহিদার ভিত্তিতে সৃজনশীলতা ও অভিযোজন এবং জনসেবা পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত পরিবর্তনের মাধ্যমে আস্থাশীল জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা সংবাদকে জানিয়েছেন।পুরস্কারের সম্মানী ও ক্রেস্টজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তি, দল (সর্বোচ্চ পাঁচজন) ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই পুরস্কার দেয়া হবে। জাতীয়ভাবে এবার এই পুরস্কার পেতে নিজ নিজ কর্মোদ্যোগ ও সাফল্যের প্রতিবেদনসহ ইতোমধ্যে ৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদন ও প্রতিবেদন এখন যাচাই-বাছাই হচ্ছে।জাতীয়ভাবে ব্যক্তির পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকা ও সম্মাননা, দলের পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকা ও এক ভরি ওজনের একটি গোল্ড মেডেল এবং প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার হিসেবে একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করা হবে। জাতীয়ভাবে এই পুরস্কারের জন্য ইতোমধ্যে ২৫ লাখ টাকার একটি ফান্ড গঠন করা হয়েছে।অন্যদিকে জেলা পর্যায়ে এই পুরস্কারের জন্য প্রায় দুই কোটি ৯০ লাখ টাকার ফান্ড গঠন করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ব্যক্তির সর্বোচ্চ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা ও সম্মাননা, দলের পুরস্কার এক লাখ টাকা ও সম্মাননা এবং প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার যথারীতি একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননা। পুরস্কারের তিনটি পর্যায়ের প্রত্যেকটিতে শুধু শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হবে।এ সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর ২৩ জুন আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে পূর্ববর্তী অর্থবছরের কর্মকা-ের ভিত্তিতে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। জনসেবার তিনটি ক্ষেত্রকে বিবেচনা করে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। ক্ষেত্রগুলো হলো_ ব্যক্তিগত অবদান বিশেষ করে জনসেবায় ব্যক্তির মেধা ও মননশীলতার স্বীকৃতি, দলগত অবদান বিশেষ করে জনসেবায় দলগত কার্যনিষ্পত্তি ও সৃষ্টিশীলতাকে স্বীকৃতি প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবদান বিশেষ করে জনসেবায় প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির উৎকর্ষ সাধন।পুরস্কারের অধিক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার প্রদান, নগর ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নাগরিক ক্ষমতায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, সরকারি সেবাদানে মৌলিক সংস্কার, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।আর অবদানের প্রকৃতির মধ্যে রয়েছে, কর্মকা-ে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, দায়িত্বশীলতা, সুযোগের সমতা, মান প্রমীকরণ, সহজ ও সুবিধাজনক কার্যপদ্ধতি প্রশাসনিক রূপান্তর, প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি সহজীকরণ, উন্নত অনুশীলন প্রদর্শন, দলগত উদ্যোগ উৎসাহিতকরণ, উন্নততর সেবা, অনন্য ধারণা বা বৈশিষ্ট্যম-িত নতুন প্রস্তাব প্রণয়ন, সুশাসন, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার বা ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং কার্যব্যবস্থায় সুবিধা প্রদান, দুর্নীতি হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন, দীর্ঘসূত্রতা নির্মূল, উন্নত আইন ও বিধিবিধান মেনে নেয়ার মানসিকতা অন্যতম।২০১১ সালের প্রথম দিকে এই পুরস্কারের জন্য একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এটি ঝুলে থাকে। অবশেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ পুরস্কার চালু হচ্ছে।