সিএসইতে জনপ্রিয় হচ্ছে ইন্টারনেট লেনদেন

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেনে দৈন্যদশা থাকলেও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইন্টারনেট ট্রেডিং সিস্টেম (আইটিএস)। বর্তমানে সিএসইর প্রতিদিনের গড় লেনদেনের প্রায় ১০ শতাংশ আসে আইটিএস পদ্ধতিতে। মূলত তরুণ প্রজন্মের বিনিয়োগকারীদের কাছেই প্রযুক্তিনির্ভর এই লেনদেন প্রাধান্য পাচ্ছে।

সিএসই সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে সিএসইতে আইটিএস পদ্ধতিতে লেনদেন হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে ২৪৫ কার্যদিবস হিসেবে প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪১ টাকা।

তবে ২০১৬ সালে আইটিএসের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরো বেড়েছে। ২০১৫ সালে যেখানে আইটিএস ক্লায়েন্ট ছিল ২৪ হাজার ৫৭৫ জন, সেখানে ২০১৬ সালের মে মাস পর্যন্ত আইটিএস বিনিয়োগকারী বেড়েছে আরো দুই হাজার। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৮২ কার্যদিবসে সিএসইতে আইটিএস পদ্ধতিতে ১৮০ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। দিনে গড় লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ২০ লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ টাকা।

আইটিএসকে জনপ্রিয় করতে সিএসই কর্তৃপক্ষ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করেছে। এর আগে আইটিএসকে জনপ্রিয় করতে ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ আইটিএস লেনদেনকারী ব্রোকারেজ হাউস, ব্রোকার এবং বিনিয়োগকারীকে পুরস্কৃত করেছিল সিএসই কর্তৃপক্ষ। প্রণোদনার অংশ হিসেবে শীর্ষ ১০ ব্রোকারেজ হাউস প্রতিনিধিকে তিন দিনের থাইল্যান্ড ট্যুর ও অন্যদের ল্যাপটপ দেওয়া হয়। তবে আর্থিক সংকটের কারণে গত বছর কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি।

ইতিমধ্যে সিএসই চিত্রা নামের ইন্টারনেটের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনের নতুন পদ্ধতি চালু করেছে। সিএসইর ইন্টারনেটের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনের পদ্ধতি চিত্রা রিয়েল টাইম স্ট্রিমিং সুবিধা প্রদান করে, যা ব্যবহারকারীর জন্য খুবই সহজ ও বন্ধুসুলভ বলে সিএসই সূত্র জানায়। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সিএসইর সামগ্রিক সূচক, বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য, সূচকের ওঠানামা, পরিসংখ্যান ও গ্রাফস এবং পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য খুব সহজেই খুঁজে পাবে।

সিএসইর ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস বিভাগের প্রধান এ কে এম শাহরোজ আলম বলেন, ‘সিএসইর ইন্টারনেট ট্রেডিং সিস্টেম সত্যিকারের ইন্টারনেটভিত্তিক ট্রেডিং পদ্ধতি, যা সরাসরি সিএসইর মেইন ট্রেডিং ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত। এই ট্রেডিং পদ্ধতি একই সঙ্গে একাধিক ব্রোকারকে সমর্থন করে ও সরাসরি ডিলার এক্সেস প্রদান করে। এই পদ্ধতি ডিলার এবং বিনিয়োগকারী উভয়কে অনলাইন ক্যাশ, মার্জিন ও ব্যাক অফিস রিপোর্ট প্রদান করে।’

শাহরোজ আলম আরো বলেন, ‘আইটিএসে একজন বিনিয়োগকারী লেনদেনে শতভাগ তাত্ক্ষণিক লেনদেন চিত্র দেখতে পায়, যা তিনি যেকোনো ব্রোকারেজ হাউসেও পাবেন। মূলত গত অক্টোবরে সিএসই ট্রেড ফেয়ারের পর থেকেই আইটিএসে লেনদেন বেড়েছে।’ ২০১৫ সালে আইটিএসে কোনো ধরনের প্রণোদনা না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপাতত বাজার খারাপের কারণে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে না।’

সিএসইতে আইটিএস লেনদেনে বরাবরই শীর্ষে আছে বি-রিচ লিমিটেড। ২০১৫ সালে মোট আইটিএস লেনদেনের ২১.৫৬ শতাংশ এসেছে বি-রিচ থেকে। ২০১৬ সালেও এখন পর্যন্ত আইটিএস লেনদেনে শীর্ষে আছে এই ব্রোকারেজ হাউস। এর পরেই ১১.৬৬ শতাংশ লেনদেন করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ইস্টার্ন শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ। আর মোট আইটিএস লেনদেনের ১০.০৯ শতাংশ করেছে লঙ্কাবাংলা।

শুরু থেকেই আইটিএসে লেনদেনে শীর্ষে থাকা বি-রিচ লিমিটেডের পরিচালক কাজী রফিকুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিএসই ২০১১ সালে আইটিএস লেনদেন চালু করেছে, কিন্তু নিজস্ব সফটওয়্যার দিয়ে ২০০৮ সালে বি-রিচ লিমিটেডে কার্যক্রম শুরুর দিন থেকেই ইন্টারনেট সিস্টেমে লেনদেন করে আসছে আমাদের বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে সিএসই আইটিএস চালু করার পর আমাদের বিনিয়োগকারীদের আলাদা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়েনি। আর বর্তমানে যারা বাজারে ঢুকছে তাদের বেশির ভাগই তরুণ। তারা প্রযুক্তির ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন। তারাই মূলত ইন্টারনেটে শেয়ার লেনদেন করে।’

কাজী রফিকুল হাসান আরো বলেন, ‘আইটিএসে লেনদেন আমাদের জন্যও ঝুঁকিমুক্ত। কারণ বিনিয়োগকারী নিজেই লেনদেন করে বলে ভালো বা খারাপ যাই হোক তা একজন বিনিয়োগকারীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’