রাজশাহীর আম যাবে বিদেশে

রাজশাহীতে শুরু হয়েছে প্রথম ধাপের আম পাড়া। এখান থেকে ৪০ টন আম রফতানি করা হবে সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে। এ কারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে ২৫ মে শুরু হয়েছে গোপালভোগ ও গুটি আম পাড়া। তবে ক্ষীরসাপাত ও লক্ষণভোগ ১ জুন, ল্যাংড়া ও বোম্বাই ১০ জুন, ফজলি ২৫ জুন, আম্রপালি ১ জুলাই এবং আশ্বিনা ১৫ জুলাই থেকে পাড়া ও বাজারজাত করা যাবে। তিনি জানান, রাজশাহীতে ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে রয়েছে আমের বাগান। প্রায় ২২ লাখ আমগাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টন আম উৎপাদনের আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তিনি আরও জানান, গত বছর থেকে রাজশাহীর আম বিদেশে রফতানি শুরু হয়েছে। ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদন করে রফতানি উপযোগী করা হচ্ছে। এবার রাজশাহীতে প্রায় ১ লাখ আম ব্যাগিং করা হয়েছে। প্রায় ৪০ টন আম সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে রফতানি করা হবে। গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৮২৫ টন আম বিদেশে রফতানি হয়েছিল। এবার তার দ্বিগুণ হবে বলেও আশা করছেন তিনি।
রাজশাহীর বানেশ্বরের আম ব্যবসায়ী মঞ্জুর রহমান বলেন, গত বছর তারা ২ টন আম সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। এবার ১৫ টন আম বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এজন্য ৫০ হাজার ক্ষীরসাপাত, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলি আম ব্যাগিং পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মতো অনেক ব্যবসায়ী বিদেশে আম রফতানি করবেন। তিনি আরও বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে গত দুই বছর ধরে রাসায়নিকমুক্ত আম পাচ্ছেন ভোক্তারা। বানেশ্বর থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকভর্তি আম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়া শুরু হয়েছে। তবে উৎপাদন কম হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বেশি দামে আম কিনতে হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।