থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্য মেলা শুরু আজ

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের কূটনৈতিক সম্পর্ক ৪৪ বছর ধরে। এ সম্পর্ক আরো জোরদারের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে এগিয়ে নিতে প্রথমবারের মতো দেশটিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মেলার আয়োজন করছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আজ শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এক্সপো ২০১৬’।

এ আয়োজনে থাইল্যান্ডের সামনে মেলে ধরা হবে বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার দিকগুলো। মেলায় অংশগ্রহণ করছে ৫৫টির মতো বাংলাদেশী রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। সেসঙ্গে থাকবে ১ হাজার ২০০ ব্যবসায়িক প্রতিনিধির দল। মেলায় অংশ নিচ্ছে থাইল্যান্ডের ২০০-এর মতো প্রতিষ্ঠান। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন থাইল্যান্ডের শিল্পমন্ত্রী।

থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ আরো থাই বিনিয়োগ আকর্ষণই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য বলে জানান থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, শুধু ব্যবসায়িক দিকটিই নয়, এ মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে চলে আসা বিভিন্ন ভুল ধারণা অবসানেরও সুযোগ তৈরি হবে। থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে আকাশপথে দূরত্ব মাত্র ২ ঘণ্টার। অথচ থাইল্যান্ডের বেশির ভাগ মানুষই জানেন না যে বাংলাদেশ মিয়ানমারের পরই অবস্থিত। সব মিলিয়ে এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক মেলবন্ধন আরো দৃঢ় হবে।

বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মাস ধরে দূতাবাস বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে আসছে। মেলার অন্যতম অগ্রাধিকার হলো থাইল্যান্ডের সামনে বাংলাদেশকে আরো বেশি পরিচিত করে তোলা। কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৪ বছরে চললেও এর আগে কখনই থাইল্যান্ডে এমন প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেয়নি বাংলাদেশ। যদিও কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে থাইল্যান্ড।

জানা গেছে, প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হবে। আজ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে বাংলাদেশী ও থাই ডিজাইনারদের ডিজাইনে রেশম ও বাংলাদেশী মসলিনের ফ্যাশন শো হবে। ফ্যাশন শোতে যেসব পোশাক উপস্থাপন হবে, তার শতভাগ থাইল্যান্ডের বিখ্যাত চিত্রালাদা প্রাসাদের সিল্ক প্রজেক্ট শপ ও বাংলাদেশের খাঁটি রেশম থেকে তৈরি। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশে বিদ্যুত্, পর্যটন, কৃষি ও পোশাক খাতসহ বিনিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্রও থাই বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরা হবে।

শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশকে সাংস্কৃতিক গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করাও এ প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান থাইল্যান্ডে বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ী মহলের বেশির ভাগই বাংলাদেশের উত্পাদন ও রফতানি সক্ষমতা এবং বিশ্ব স্বীকৃত রফতানি বাজার সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা নেই। এ প্রদর্শনী থাই ব্যবসায়ী ও জনগণের সামনে বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পর্কে জানার একটি সুবর্ণ সুযোগ।