বিশ্বপর্যায়ে সাফল্য ও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে করণীয়

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ
দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এবং এর নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা যে বিশ্ব পরিমণ্ডলে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণর্ হয়ে উঠছেন, তার সর্বশেষ উদাহরণ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সাত দেশের জোট ‘জি-সেভেন’ সভায় তাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে ‘আউটরিচ’ আয়োজনে আমন্ত্রণ। মে মাসের শেষ সপ্তাহে জাপানে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে জোটভুক্ত সাত দেশের নেতৃত্ব এবং জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএমএফপ্রধান ছাড়াও ‘আউটরিচ’ আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। এশিয়ার যেসব দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানরা আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন সেগুলো হচ্ছে_ বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও লাওস। এটা স্পষ্ট যে, এশিয়ার এ দেশগুলোকে আর্থ-সামাজিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে জি-সেভেন জোট। এতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই আমাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থার উল্লেখযোগ্য উদ্বোধনের ফল; একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

অনেকের মনে আছে, ২০০১ সালেও জি-এইট (তখন এই গোষ্ঠীতে রাশিয়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল) বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে-পরে বাংলাদেশের আর কোনো সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানায়নি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ওই জোট। ২০০১ সালে শেখ হাসিনা তখনকার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিকভাবে দুর্বলতর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দারিদ্র্য সামাল দেওয়া নিয়ে মূলত কথা বলেন। এবার কথা বলেছেন দৃপ্ত পদে এগিয়ে চলা একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ করণীয় নিয়ে। নারীর ক্ষমতায়ন, উন্নতমানের অবকাঠামো, উন্নত ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা_ এই চারটি বিষয় তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রগতি করেছে, তবে লক্ষ্যে পেঁৗছাতে পথ অনেক বাকি। বাংলাদেশ চেষ্টা চালিয়ে যাবে, তবে আন্তর্জাতিক কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন হবে লক্ষ্যে পেঁৗছতে।

দ্বিতীয় দফায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর টানা দ্বিতীয় মেয়াদের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে বিশ্ব পরিমণ্ডলে শেখ হাসিনার গুরুত্ব ক্রমেই বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ কেবল জি-সেভেনে আমন্ত্রণ দিয়েই পরিমাপ করার অবকাশ নেই। আমরা দেখেছি, গত মাসে পানি বিষয়ে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেলে বিশ্বের ১০ জন রাষ্ট্রপ্রধানের অন্যতম হিসেবে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। গত বছর সেপ্টেম্বরে চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এই পুরস্কার আরও অনেকে পেয়েছেন; কিন্তু শেখ হাসিনার বিশেষত্ব হচ্ছে, তার স্বীকৃতি এসেছে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী অবদানের জন্য। যে ক্ষেত্রে স্বল্প কয়েকজন মূলত রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার মানে জলবায়ু ইস্যুতে শেখ হাসিনা দেশের বাইরেও অর্থাৎ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। আমরা দেখেছি, ২০১০ সালে তিনি জাতিসংঘ পুরস্কার পেয়েছিলেন শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য।

আরেকটি খবর হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে অভিবাসন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি সভায় ‘কো-চেয়ার’-এর দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপর কো-চেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

প্রশ্ন হচ্ছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কেন বিশ্ব পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে? এর প্রথম কারণ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ টানা ৭-৮ বছর ধরে ছয় শতাংশের বেশি দেশজ উৎপাদন-প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে। এ বছর সেটা সাত শতাংশ পার করবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির আরেকটি বড় সূচক পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার পদক্ষেপ নেওয়া। এটা মেরুদণ্ড শক্ত করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পরিচায়ক। বাংলাদেশ যে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের সূচকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, সেটাও অর্থনীতিতে স্থিতিশীল অগ্রগতিরই পরিচায়ক। সেটা শেখ হাসিনার টানা দুই দফা নেতৃত্বে তার সরকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার কারণেই এ অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা সম্ভব হয়েছে। কমেছে অতি দারিদ্র্য ও দারিদ্র্যের হার। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণও এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিকতা ও সাফল্য। এটা ঠিক যে, আমরা দেশে এখন কিছু সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা লক্ষ্য করছি। তারা হত্যাকাণ্ড ও ভীতি ছড়িয়ে চলছে। কিন্তু ২০০১ সালের পর উদ্ভূত জঙ্গিবাদী তৎপরতার সঙ্গে এর গুণগত ও সংখ্যাগত পার্থক্য রয়েছে। ওই সময় তারা যেভাবে প্রকাশ্যেই মহড়া দিত, যেভাবে রাজশাহীর বাগমারাসহ দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘মুক্তাঞ্চল’ গড়ে তুলেছিল, সেই অবস্থা আর নেই। জঙ্গিবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী তখন যেভাবে সারাদেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার আগে বাংলাদেশে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীর যে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ও অর্থ নেটওয়ার্ক ছিল, তা ইতিমধ্যে দুর্বল হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এখন চলছে আসলে স্থানীয় ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা। তবে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হলেও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর আর্থিক সামর্থ্য ও নেটওয়ার্কিং এখনও নির্মূল করা যায়নি। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের যে অভিযোগ রয়েছে, তাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে এবং এর এক বছরপূর্তি উপলক্ষে যে ধরনের সহিংসতা চলেছে, তা কতখানি রাজনৈতিক আর কতখানি সন্ত্রাসবাদী, বিতর্কের বিষয়। ওই সহিংসতার সঙ্গে জড়িতরা দেশে জঙ্গিবাদ সম্প্রসারণেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল। ভবিষ্যতে যাতে তারা আর মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে আমার ধারণা, সরকার সচেতন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং খুবই প্রশংসনীয় এই অর্জনকে সুসংহত করে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ও তার নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার তৃতীয় কারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও মৈত্রীর ক্ষেত্রে তার দৃঢ় অবস্থান। সার্কের কর্ম-আওতা বাড়ানো ছাড়াও সার্কের বাইরে নানা আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক জোট এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি দেশের বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে নেতৃত্বের যে ভূমিকা রাখছেন, তা তাকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে নেতৃত্বের আসন লাভে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে বলে আমি মনে করি। জাতিসংঘ, জি-সেভেনের মতো আসরে তার বিশেষ মর্যাদা এ কারণেই। এসব কারণেই তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রণীত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন।

কথা হচ্ছে, বৈশ্বিক এই স্বীকৃতি, সম্মান ও প্রভাব অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে আরও কীভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলা যায়? বস্তুত দারিদ্র্য হ্রাস, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ প্রভৃতি কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলে স্বাতন্ত্র্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এর সঙ্গে যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ঘাটতিগুলো দূর করা হয় এবং যথাযথ সুশাসন যুক্ত হয়, তাহলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের ওপর পরিচালিত নিকৃষ্ট নির্যাতন। সমাজে সুশাসনের ঘাটতি থাকলেই জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালীরা এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দ্রুতই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করেছে। শ্যামল কান্তির পুনর্বাসনে ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে দোষীদের যথাযথ শাস্তিবিধান সময়ের দাবি। কুমিল্লায় সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে আমরা এভাবে দ্রুত সক্রিয় হতে দেখিনি প্রশাসনকে। এ ধরনের পরিস্থিতি জনসাধারণ তো বটেই, বিশ্ব পরিমণ্ডলেও ভুল বার্তা পেঁৗছে দিতে পারে। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতেই হবে। বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিবাদীরা যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, সেগুলোর ঘাতকদের শনাক্ত, আটক ও উপযুক্ত শাস্তি বিধান করতে হবে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল তাদের উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জঙ্গিরা ‘অভ্যন্তরীণ’ রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট। সেটা যদি জানাই থাকে, তাহলে দ্রুত তাদের শনাক্ত ও আটক করা জরুরি।

এ ছাড়া ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মধ্যে উপদলীয় কোন্দল ও সহিংসতাও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে দেখা যাচ্ছে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। প্রাণহানিও হচ্ছে। এসব বন্ধ করতে হবে। শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী নেতৃত্বের দলে এ ধরনের হানাহানি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বন্ধ করতে হবে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীর মধ্যে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে সেগুলোও। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের যেসব অভিযোগ ওঠে, তাও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। দায়ী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলে অন্যদেরও অনিয়ম-দুর্নীতির প্রবণতা কমে যাবে। এ ছাড়া যখন দারিদ্র্য দ্রুত কমছে, অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে, মাথাপিছু আয় ১,৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, তখন দেশে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য প্রকট। এটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে করণীয় সম্বন্ধে আমি অন্যত্র লিখেছি।

আমি মনে করি, শেখ হাসিনা পারেন অভ্যন্তরীণভাবে জনমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নততর শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে। তিনিই পারেন, যেমনটি নেতৃত্ব দিয়েছেন দারিদ্র্য ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, তেমনি দুর্নীতি, বৈষম্য ও হানাহানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সফল নেতৃত্ব দিতে। এ কাজগুলো অবশ্য করণীয়, এর বিকল্পও নেই। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলেন, তার সরকার টেকসই উন্নয়ন জোরদার করতে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। সুশাসনের মাধ্যমে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেই টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণের কাজে গতি আনতে হবে। যে জাতি মুক্তিযুদ্ধ করে মাত্র নয় মাসে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল, তারা একত্রিতভাবে দারিদ্র্য, বৈষম্য, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও সহিংসতার বিরুদ্ধেও লড়াই করে বিজয়ী হতে পারবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তিনি যেমন বিশ্ব পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রমাণ করে চলছেন; দেশের অভ্যন্তরে আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি অর্জনে এবং দারিদ্র্য ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সাফল্য দেখিয়ে চলছেন; তেমনই ন্যায্যভাবে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নততর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও বিজয়ী হবেন, আমার বিশ্বাস।

পরিশেষে বলতে চাই, এই পথপরিক্রমায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব শক্তিকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্তরিকভাবে দেশের স্বার্থে, দেশের সব মানুষের স্বার্থে দৃঢ় অবদান রাখতে হবে।

অর্থনীতিবিদ