জি-সেভেনে শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশের বাণিজ্য

বিশ্ব অর্থনীতির সাত পরাশক্তি নিয়ে গঠিত ‘জি-সেভেন’-এ বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে একমাত্র ইতালি ছাড়া বাকি ছয় দেশেই রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ২০ শতাংশ, জাপানে ১৮ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত করা ইপিবি’র (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো) পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জি-সেভেন সম্মেলনে আউটরিচ বৈঠকে অংশ নিতে জাপান সফর করছেন। ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। আউটরিচ মিটিংয়ে বিশ্ব নেতাদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। সরকারের কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপানের (জি-সেভেন) মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলো এখন বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভৌগোলিকভাবেও সুবিধাজনক অবস্থানও এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছে। বঙ্গোপসাগরে একচ্ছত্র অধিকার অর্জিত হওয়ার পর এখন ব্লু ইকোনমিতে (সমুদ্র অর্থনীতি) বাংলাদেশকে পাশে নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে ভারত ও চীন। এই আগ্রহ এখন জি-সেভেনের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী ওয়ারেছি বলেন, বাণিজ্য এমন একটি বিষয় যা পারস্পারিক সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সম্পর্কও নির্ধারিত হয় বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনা করে। সেই দিক থেকে জি-সেভেনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল উপস্থিতিই কাম্য। কারণ ওই দেশগুলো এখন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

ইপিবির হিসাবে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৬০ শতাংশ আসছে এই সাত দেশ থেকে। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। রানা প্লাজা ধসের পর ২০১৩ সালের জুনে পোশাক খাতের উন্নতিতে শর্ত দিয়ে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে দেয় দেশটি। এরপরও সেখানে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশটিতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির পরিমাণ ৫ হাজার ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৬৩৩ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার। জি-সেভেনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র জার্মানি বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে দেশটি থেকে প্রায় ৪ হাজার ৫০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় এসেছে। এটি ওই সময়ের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ৩ হাজার ১২৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা ওই সময়ের মোট আয়ের ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১০ মাসে ফ্রান্সে প্রায় ৬ শতাংশ, কানাডায় ৮ শতাংশ, জাপানে ১৮ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।