উত্তরাঞ্চলের বাজারগুলোতে আমের ব্যাপক সরবরাহ

গ্রীষ্ম মৌসুমের রসালো সুস্বাদু ফল আম আহরণের ওপর ২৫ মে পর্যন্ত আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরঞ্চলের অন্যান্য জেলার বাজারগুলোতে আমের ব্যাপক সরবরাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।আমের দুটি প্রধানজাত গোপালভোগ ও খিরসাপাতসহ অন্যান্য স্থানীয় জাতের নজরকাড়া আম বাজারে দেখা গেলেও চড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষ হতাশ। প্রাকৃতিকভাবে আম পাকার প্রয়োজনীয় সময় দেয়ার জন্য পূর্ববর্তী বছরের ন্যায় এবছর ২৫ মে পর্যন্ত গাছ থেকে আম পাড়া ও বাজারজাত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।রাসায়নিক মিশিয়ে অপরিপক্ব আম কৃত্রিম উপায়ে পাকানো ও অবাধে বাজারজাতকরণের প্রবণতা রোধে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কৃত্রিম উপায়ে পাকানো আম সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্ক বয়ে আনে।রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, রাসায়নিক মিশ্রিত আম বাজারজাত প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন নানা সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছে, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৮০০ কেজি আম ধ্বংস করা হয়েছে। জুনের মাঝামাঝি সকল জাতের আম বাজারে পাওয়া যাবে। তবে এ অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবছর অপরিপক্ব আম ঝরে পড়ায় দুই জেলায় আমের উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।অনেক আম উৎপাদক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মৌসুমের শুরুতে স্বল্পবৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টিতে আমের মুকুল ঝরে পড়ায় এবছর আমের ফলন কম হতে পারে।রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের (ডিএই)অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, বেশীরভাগ বাগান মালিক তাদের বাগান এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে লিজ দিয়েছেন। এ অঞ্চলে ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ২২,৮২,৯৩০টি আমগাছ রয়েছে ।গত বছর ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ২০লাখ গাছ থেকে ২লাখটন আম উৎপাদিত হয়েছে। এ অঞ্চলে লেঙরা, ফজলি ও খিরসাপাতসহ ১৫০ প্রজাতির সুস্বাদু আম উৎপাদিত হয়।তবে গাছ থেকে আম নামানোর দিনক্ষণ বেঁধে দেওয়ায় আম চাষিদের একাংশ খুশি হলেও অন্যরা ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, একেক জাতের আম একেক সময় পাকে। ফলে দিনক্ষণ বেঁধে আম নামাতে হলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাজশাহীর জুটমিল বাগানের মালিক হায়দার আলী জানান, গত বছর জুন মাসে আম নামাতে হয়েছিল। ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। এবার কিছুটা সময় এগিয়ে দেওয়ায় ভালো হয়েছে। জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকে আম নামাতে পারলে আরও ভালো হতো। তার কথার সুর রাজশাহীর অন্য চাষিদের। আমের সুনাম রক্ষায় দুই বছর থেকে স্থানীয় প্রশাসন গাছ থেকে আম নামানোর দিনক্ষণ ঠিক করে দিচ্ছে।রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম বানেশ্বর বাজার। সেখানে জমে উঠেছে আমের বাজার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে আমের কেনাবেচা। পাইকাররা আসেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। বাজারে উঠেছে নানা জাতের আম। দামও খুব বেশি নয়। ইতিমধ্যে গুটি, লকনা, খিরসা, গোপালভোগ জাতের আম বাজারে এসেছে। বানেশ্বর হাটে আসা দুর্গাপুরের ঝালুকা এলাকার আম চাষি হাবিবুর জানান, একসঙ্গে বাজারে কয়েক জাতের আম আসায় দাম কম। তবে এভাবে সময় বেঁধে দেওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।রপ্তানি হবে মেহেরপুরে উৎপাদিত আম: আম উৎপাদনে মেহেরপুর জেলার সুনাম থাকলেও এবার প্রথম দেশের বাইরে যাচ্ছে মেহেরপুরে উৎপাদিত আম। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হত এই আম। এবার দেশে ছাড়াও দেশের বাইরে বায়াররা রপ্তানি করবে সুস্বাদু হিমসাগর আম। এতে চাষীরা যেমন পাবেন ন্যায্যমূল্য অন্যদিকে দেশের বাইরে কুড়াবেন সুনাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরার পর এবার মেহেরপুর থেকে আম রপ্তানি করছেন বায়াররা।কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে জেলায় এবার প্রায় ২ হাজার ৮৫ হেক্টর জমির বাগান থেকে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে হিমসাগর আমের বাগান রয়েছে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে। এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে যা থেকে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।ইতোমধ্যে জেলার বেশ কিছু চাষির সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন রপ্তানিকারকরা। চুক্তি অনুযায়ী মান সম্মত আম পেতে গাছ থেকে ফ্রুট প্রোটেকশন ব্যাগের মাধ্যমে ঢেকে দেয়া হচ্ছে গাছের আম। বিদেশে আম রপ্তানির সিদ্ধান্তে খুশি জেলার আম চাষিরা। তবে বাড়তি অর্থ ব্যয়ে বিদেশে রপ্তানিযোগ্য আমগুলো কোন কারণে বায়াররা না নিলে সে আমগুলো কি হবে তা নিয়ে শংকায় আছেন তারা।দেশে সুস্বাদু আম উৎপাদনের জন্য খ্যাতি রয়েছে মেহেরপুর জেলার। এ জেলায় হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, ফজলি, আম্রপালীসহ বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদন হয়ে থাকে। এখানকার উৎপাদিত আমের চাহিদাও রয়েছে দেশজুড়ে। সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহির পর এবার মেহেরপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু হিমসাগর আম রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। রপ্তানি হবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী মানসম্মত আম উৎপাদনে চুক্তিবদ্ধ চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে আম ব্যাগিংয়ে। ফল ছিদ্রকারী পোকা থেকে আমকে রক্ষা করতে ফ্রুট প্রোটেকশন ব্যাগের মাধ্যমে ঢেকে দেয়া হচ্ছে গাছের রপ্তানিযোগ্য আমগুলো। জেলার আম দেশের বাইরে রপ্তানি হলে বাজার দর ভাল পাবে এমনটি ভেবে খুশি এ জেলার চাষিরা। তবে এ পদ্ধতিতে আম উৎপাদনে বেশি খরচ হওয়ায় কিছুটা শংকা বিরাজ করছে চাষিদের মাঝে।মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের চুক্তিবদ্ধ আম চাষি সাখাওয়াত জানান, প্রতিটি ফ্রুট ব্যাগের বাজার মূল্য ৪ টাকা। প্রতিটি আম ব্যাগিং করতে আরও খরচ হচ্ছে দুই টাকা করে। এ হিসেবে ব্যাগিং পদ্ধতিতে প্রতি কেজি আম উৎপাদনে