দূরত্ব কমাবে মেট্রোরেল

বিভিন্ন ফ্লাইওভারের মতো রাজধানীবাসীর সময়ের দূরত্ব কমাবে স্বপ্নের মেট্রোরেল। মাত্র ৩৮ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিলে পৌঁছবেন মেট্রোরেলের যাত্রীরা। আগামী মাসেই এ প্রকল্পের মূল কাজের উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের সার সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। যে কোনো দিন তা অনুমোদন পেতে পারে। চলতি মে মাসেই এ প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করতে না পারায় তা এক মাস পিছিয়ে জুনে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ডিপো পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, ২০১৯ সালের মধ্যেই মেট্রোরেলের লাইন-৬ এর কাজ শেষ হবে। সে বছরই মেট্রোরেলে যাত্রী চলাচল শুরু হবে। সে প্রস্তুতি অনুযায়ীই কাজ করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। সূত্র জানায়, মাটি পরীক্ষাসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলেও কারিগরি কারণে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সামান্য বিলম্বিত হচ্ছে। রাজধানীর যানজট কমাতে ও যাতায়াত প্রক্রিয়া সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই মেট্রোরেল। রাজধানীর যেসব ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হয়েছে সেগুলোর সুফল ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছে ঢাকাবাসী। সেই সঙ্গে মেট্রোরেলের কাজ শেষ হলে যাতায়াত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হবে। যার ফলে মানুষের জীবনে সময়ের দূরত্ব কমে আসবে। মেট্রোরেলের মোট লাইন হবে ছয়টি। তবে এখন পর্যন্ত ৫টি লাইনের রুট চিহ্নিত হয়েছে। একটির রুট এখনো ঠিক হয়নি। এর মধ্যে মেট্রোরেল-৬ এর রুট হচ্ছে উত্তরা থেকে মতিঝিল। বাকি চারটি মেট্রোরেল রুটের মধ্যে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর দিয়ে কমলাপুর হয়ে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত এমআরটি-১ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি আশুলিয়া, সাভার, গাবতলী, ঢাবি, নগরভবন, কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি-২, কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এমআরটি-৪ এবং গাবতলী, মিরপুর, গুলশান, ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি-৫ নামে একটি রিং মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। মেট্রোরেল লাইন-৬ এর কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-৫ এরও। দ্বিতীয় দফায় এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণ শেষে ২০২৫ সালের মধ্যে এটি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। চলতি মাসেই শুরু হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১ এর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ। মেট্রোরেলের সবগুলো লাইনের কাজে অর্থায়ন করতে আগ্রহী জাইকা। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ডিএমআরটিডিপি) আওতায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে মেট্রোরেল লাইন-৬ হবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটারে স্টেশন থাকবে ১৬টি। প্রতি ঘণ্টায় উভয়পার্শ্বে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে এই মেট্রোরেলের মাধ্যমে। জানা গেছে, গাবতলী-ভাটারা রুটে মেট্রোরেলটি আংশিক উড়ালপথে (এলিভেটেড) ও আংশিক মাটির নিচে (আন্ডারগ্রাউন্ড) নির্মাণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল মোড়, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪ পর্যন্ত উড়ালপথে নির্মাণ করতে হবে। এরপর মাটির নিচে চলে যাবে রেলপথটি।