জাপানের হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে চট্টগ্রামে

সরকারি সুরক্ষা পেলে শুধু কাচশিল্পেই জাপানের হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আসবে চট্টগ্রামে। দেশে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে এক বছরের মধ্যেই চট্টগ্রামে আরও ৩০০ কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বারসহ শিল্পোদ্যোক্তারা এ শিল্পের জন্য নীতিমালা প্রণয়নেরও প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।

দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তারা জানান, কাচশিল্পে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য বিশ্বপ্রসিদ্ধ একাধিক জাপানি শিল্প গ্রুপ আগ্রহ প্রকাশ করছে।

কাচশিল্পে ব্যবহূত কাঁচামাল অর্থাৎ বালু ও গ্যাসের ৮০ শতাংশই দেশে সহজলভ্য। উপকরণের বাকি মাত্র ২০ শতাংশ (কেমিক্যাল) বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অন্য শিল্পের কাঁচামালের অধিকাংশই কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে অর্জন করতে হলেও কাচশিল্পে উৎপাদিত পণ্যে ভ্যালু অ্যাড হয় সবচেয়ে বেশি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশি কাচের চাহিদাও দাঁড়িয়েছে ভারত, ভুটান, নেপালসহ বিভিন্ন ] দেশে। দেশে প্রতি বছর ৯ শতাংশ হারে কাচের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৭ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের কাচ/আয়না আমদানি করতে হয়। দেশে কাচের উৎপাদন বাড়লে শুধু আমদানি খাত থেকেই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে জানান দেশের বৃহত্তম কাচ উৎপাদন কারখানা পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমীর হোসেন। কাচের ব্যবহার ভবনের সৌন্দর্য বাড়ায় এবং ক্রমে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে আমীর হোসেন বলেন, কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিফলন ঘটে সে দেশের ভবনগুলোয় কাচের ব্যবহারে। যে দেশ যত উন্নত সে দেশে কাচের ব্যবহার তত বেশি। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও রপ্তানি উভয়ই বেড়ে যাওয়ায় কাচের উৎপাদন দ্বিগুণ করতে চায় পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দৈনিক ১৫০ টন উৎপাদনক্ষমতার কারখানাকে ৩০০ টনে উন্নীত করতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী এক বছরের মধ্যে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাসের উৎপাদনক্ষমতা দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া ফেনী জেলায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৬০০ মেট্রিন টন গ্লাস উৎপাদনক্ষমতার একটি কারখানা স্থাপন করবে পিএইচপি। এ লক্ষ্যে জমি কেনা হয়ে গেছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে, বিনিয়োগ হবে অন্তত আরও ১২০০ কোটি টাকা। গতকাল চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন বিনিয়োগের এ ঘোষণা দেয় পিএইচপি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক মো. আমীর হোসেন ও মো. জহিরুল ইসলাম।