কুড়িগ্রামে তৈরি হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল

কুড়িগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত করা হয়েছে। দেশের উত্তর জনপদের অবহেলিত ও অনুন্নত জেলার মানুষের দাবির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বাস্তবায়ন হতে চলেছে এ প্রকল্পটি। জেলা শহরের পূব প্রান্তে ধরলা ব্রিজের পূবদিকে এবং কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কের পূব পাশে প্রস্তাবিত কুড়িগ্রাম অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ এর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন।

গত বছরের ১৫ অক্টোবর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন ‘কুড়িগ্রামকে আর কেউ মঙ্গা এলাকা বলবে না, এখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।’

কুড়িগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ব্যাপারে সার্বিক দায়িত্ব পালন ও বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরাধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছে। সূত্র মতে জানা গেছে,ধরলা নদীর পাশে ২১৯.৬৪ একর জমি নির্বাচন করে এর দাগসূচি ও মৌজা ম্যাপের অনুলিপি বেজা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন শুধু বেজার প্রশাসনিক অনুমোদন পেলে হুকুম দখলের কাজ শুরু হবে।

এ জেলার মানুষের দারিদ্র্যতা দূরীকরণ এবং স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে তেমন কোনও শিল্পকলকারখানা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে শুধু কৃষির ওপর নির্ভরশীল এ জেলার মানুষ অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কুড়িগ্রামকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হলে এ জেলার পাশাপাশি অন্যান্য জেলাগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের দুয়ারও খুলে যাবে। বৃহৎ এবং একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে যাওয়ার পাশাপাশি কমবে এ জেলার দারিদ্র্যতার হার, বাড়বে কর্মসংস্থান, বিকাশ ঘটবে সুষম অর্থনীতির।

সূত্রমতে, অর্থনেতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকার সারা দেশে সুষম উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জেলার কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনের কথা হলে তারা জানান,এ জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন হলে এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির ফলে সোনাহাট স্থলবন্দর গতি ফিরে পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে জেলা প্রশাসনের এলআর শাখা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য জমি চেয়ে ২১ অক্টোবর জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয় বেজা কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসন সদর উপজেলার দু‘টি সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন করে বেজা কর্তৃপক্ষের সেই চিঠির জবাব পাঠায় একই বছর ৩০ নভেম্বর। এরপর সেই বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রাথমিক স্থান কমিটির সভায় কুড়িগ্রাম অর্থনৈতিক অঞ্চল -১ এর জন্য প্রস্তাবিত স্থান হিসেবে মাধবরাম নামক মৌজায় প্রায় ২১৯.৬৪ একর জমি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়।

চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বেজা কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনকে চিঠি পাঠায়। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ এপ্রিল বেজা কর্তৃপক্ষের কাছে নির্বাচিত জমির দাগসূচি ও মৌজা ম্যাপ পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচিত এলাকার ২১৯.৬৪ একর জমির মধ্যে ১৪৫.৩০ একর জমি খাস এবং অবশিষ্ট ৭৪.৩৪ একর জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। জমি অধিগ্রহণকালে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মূল্য যথাযথভাবে পরিশোধ করা হবে বলে জানায় সূত্রটি।

কু‌ড়িগ্রাম জেলা প্রশাস‌ক খান মো. নূরুল আমিন বলেন, আমাদেরকে জায়গা নির্ধারণের যে দা‌য়িত্ব দেওয়া হ‌য়ে‌ছিল আমরা তা এক সপ্তা‌হের ম‌ধ্যে নির্ধারণ ক‌রে বেজা কর্তৃপ‌ক্ষের কা‌ছে পা‌ঠি‌য়ে দি‌য়ে‌ছি এবং সেটা‌ চূড়ান্তও হ‌য়ে‌ছে। এখন নির্ধ‌ারিত জায়গায় কী ধরনের শিল্প কারখানা প্রতি‌ষ্ঠিত হ‌বে সেটা বেজা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ কর‌বেন। আমরা প্রত্যাশা কর‌ছি খুব শিগগিরই মূল কাজ শুরু করা হ‌বে।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডল জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার দেশের শতাধিক স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনছে কুড়িগ্রামবাসী।