তিন বছরে ‘সবুজ’ হবে ঢাকা উত্তর

রাজধানীর অনেক ফুটপাতে হেঁটে যাওয়ার সময় বাতাসে ভেসে আসে দুর্গন্ধ। কোনো কোনো সময় নাকে রুমাল দিয়েও পথ চলতে হয়। নগরবাসীকে এমন উৎকট যন্ত্রণা আর হয়তো বেশি দিন সহ্য করতে হবে না। মলমূত্রের দুর্গন্ধের পরিবর্তে এবার বাতাসে ভেসে আসতে পারে টগর, বকুল, শিউলি ফুলের সুঘ্রাণ। বুকভরে নিঃশ্বাসও নেওয়া যাবে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোকে এসব ফুল গাছেই সজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সবুজ ঢাকা উপহার দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাদের এমনটাই পরিকল্পনা। তবে এ জন্য আরও তিনটি বছর অপেক্ষা করতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক জানান, তার একটি বড় ওয়াদা রয়েছে রাজধানীকে সবুজ করা। এই ওয়াদা তিনি পালন করে ছাড়বেন। ঢাকা শহরকে তিনি সবুজ করবেন। পরিচ্ছন্ন করবেন। এ কাজের জন্য আরও তিনটি বছর সময় প্রয়োজন। ইতিমধ্যে উত্তরায় দেবদারুর চারা বিতরণ করা হয়েছে। ফুট ওভারব্রিজগুলোতে দৃষ্টিনন্দন ফুলগাছ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে অনেক বড় পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএনসিসি।
তবে ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা জানান, বাড়ির আঙিনায়, বারান্দায়, ছাদে বাগান করলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। উত্তর সিটি করপোরেশনের বাড়ি মালিকদেরও এমন সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন। ঢাকাকে সবুজ করার অংশ হিসেবে এমনটা করা হতে পারে।
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রি. জে. সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঢাকাকে সবুজ করার ব্যাপারে ইতিমধ্যে শেরেবাংলানগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট, নগর পরিকল্পনাবিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে বৈঠক করে মেয়র সবুজ ঢাকা গড়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন। খুব দ্রুতগতিতে কাজ শুরু হবে।
জানা গেছে, প্রথম ধাপে ডিএনসিসি এলাকার ৩৭টি ফুটওভারব্রিজকে আধুনিক সাজে সজ্জিত করার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনটির কাজ শেষ হয়েছে। এ কাজের মাধ্যমে ফুটওভারব্রিজগুলো মেরামত করে রঙ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ফুট ওভারব্রিজকে দৃষ্টিনন্দন গাছ ও ফুলগাছ দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয়েছে প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাতের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ধরনের মোট ৫ লাখ গাছ রোপণ করা হবে। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে বাগানবিলাস, টগর, রাঁধাচূড়া, শিউলি, জারুল, সোনালু, বকুল, ছোট পলাশ, দেবদারু প্রভৃতি। পরিকল্পনা করে সার বেঁধে হয়তো ৫০০ মিটার অংশে লাগানো হবে কেবল বাগানবিলাস। পরবর্তী ৫০০ মিটার অংশে থাকবে টগর বা রাঁধাচূড়া। এভাবে সার বেঁধে লাগানো হবে দেবদারু গাছ। ওই এলাকার রাস্তার পাশের ফুটপাতের প্রশস্ততা বা অবকাঠামোগত অবস্থা বিবেচনা করে গাছ রোপণ করা হবে। এতে করে নগরীর সৌন্দর্যে বৈচিত্র্য আসবে। ফুটপাতের পাশে থাকা খালি জায়গাতেও গাছ রোপণ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে ডিএনসিসি এলাকার সব প্রধান সড়ককে এভাবে সজ্জিত করা হবে। বর্তমানে ডিএনসিসিতে আরবরিকালচার বা বৃক্ষ সম্পর্কিত বিভাগ না থাকায় এ ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সহযোগিতা নিয়ে কাজ চলছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিকাদারের মাধ্যমে এসব কাজ করানো হবে। কোনো গাছ মারা গেলে বা রোগাক্রান্ত হলে পরবর্তী তিন বছর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেগুলো পরিবর্তন করবেন। পানি, সার দেওয়াসহ যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ করবেন ঠিকাদারই। পাশাপাশি বর্তমানে যেসব সড়ক বিভাজকে গাছ নেই, সেখানেও বৃক্ষরোপণ করা হবে।
তৃতীয় ধাপে থাকবে রাজধানীর প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, বারান্দা ও ছাদে বাগান করার উদ্যোগ। এ উদ্যোগের আওতায় ডিএনসিসি বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফল, ঔষধি গাছের চারা সরবরাহ করবে। বাড়ির মালিকরা সেই চারা রোপণ করবেন। এতে করে পুরো নগরী সবুজে ভরে উঠবে। ডিএনসিসি মনে করে, এভাবে সবুজায়ন করা হলে রাজধানীর তাপমাত্রাও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পাবে। বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়বে। বায়ুদূষণও কমবে। এতে করে নগরবাসীর মানসিকতায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।