বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্যান্সারেও থেমে যায়নি পথচলা

‘অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে বাবা তাঁর একটা বোঝা কমালেন। স্বামীর সংসারে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও লেখাপড়া চালিয়ে যাই। দুই মেয়ের মা হলাম। মাস্টার্স পাস করলাম’—বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (নারী) মাসুদা ইয়াসমিন উর্মি এভাবেই শুরু করেন। ১৯৯২ সালে এইচএসসি পড়ার সময়ে বিয়ে। সে সময় চাকরির খোঁজ শুরু করেন। স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন ছিল। একদিন বাসায় তাঁর এক চাচা বেড়াতে আসেন। তাঁর ব্যবসার সফলতার কথা শুনে উর্মি ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ২০০৩ সালে স্বামীর মাধ্যমে তিন লাখ টাকা জোগাড় করে ব্যবসা শুরু করেন। যশোর রাজারহাট থেকে ‘র-হাইড অ্যান্ড স্কিন’ কিনে চাচার সহায়তায় অ্যাপেক্সে বিক্রি শুরু করেন। মাসে গড়ে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় হতো।

এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (নারী) ক্যাটাগরিতে জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার ২০১৬ বিজয়ী মাসুদা ইয়াসমিন উর্মি বলেন, ‘দুই বছর সফলভাবে ব্যবসা করার পর আপন ছোট ভাইকে সম্পৃক্ত করি। তার অব্যবসায়ীসুলভ আচরণে বেশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হই। এতে আয়সহ পুঁজি বেহাত হতে থাকে। এমন অবস্থায় স্বামী আমাকে ব্যবসা করতে নিষেধ করেন। এত কষ্টে গড়ে তোলা ব্যবসাটি বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।’ উর্মি বলেন, ‘ডাক্তার আমাকে জানান আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত। কী করব বুঝে উঠতে পারিনি। অসহায় বোধ করি। স্বামীর ঢাকার বাইরে পোস্টিং থাকায় আমাকে চিকিৎসাও নিতে হয় একা একা। স্বামী স্বল্প বেতনের সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তাঁর পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় মিটিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।’

দীর্ঘ দুই বছর চিকিৎসা করার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন উর্মি। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি এগিয়ে চলেন। বলেন, ২০০৮ সালে ব্যাগ কিনতে গিয়ে ব্যাগ ও সরঞ্জামের দামের পার্থক্য দেখে ব্যাগ ফ্যাক্টরি করার সিদ্ধান্ত নিই। এ সময়ও হাতে কোনো টাকা ছিল না। স্বামীকে কিছু না বলে নিউ মার্কেটে গিয়ে বিয়ের কিছু গয়না বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা জোগাড় করি। এরপর ব্যবসায়িক কাগজপত্র তৈরি করে একটা ঘর ভাড়া করি ও একটি মেশিন কিনি। একজন কারিগরও রাখি। আগে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অ্যাপেক্স থেকে অল্প অল্প ফিনিশড লেদার কিনে ব্যাগ বানাতে শুরু করি। ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন শোরুমে ডিজাইন ও অর্ডার অনুযায়ী মালামাল সরবরাহ শুরু করি। এভাবে যাত্রা শুরু করে স্মার্ট লেদার প্রোডাক্টস। বর্তমানে তিনি ঢাকার বিভিন্ন শোরুমে ব্যাগ সরবরাহ করছেন। ভবিষ্যতে নিজের তৈরি ব্যাগ রপ্তানির স্বপ্ন দেখেন।