প্রধানমন্ত্রী বললেন দেশের ভবিষ্যৎ সত্যিই উজ্জ্বল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন। ছবি : পিআইডি

অ- অ অ+
স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘সুপ্ত প্রতিভা’ খুঁজতে জাতীয়ভাবে আয়োজিত সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সব থেকে মেধাবী হলো আমার দেশের ছেলেমেয়েরা। কিন্তু বিকশিত হওয়ার সুযোগ তাদের দিতে হবে।’ যারা পুরস্কার পেয়েছে এবং যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সত্যিই উজ্জ্বল।’

গত রবিবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত দেশব্যাপী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৬ এবং ২০১৫ সালের নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের সেরা ২৪ জন মেধাবীর গলায় পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে প্রত্যেক মেধাবীকে সনদ ও এক লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ শেষে এই মেধাবীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফটোসেশনেও অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মন দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। এটাই সব থেকে বড় সম্পদ। এই সম্পদ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’

প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত ও অংশগ্রহণকারী সবাইকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আপনারা এক একটা সোনার টুকরো ছেলেমেয়ে তৈরি করছেন।’

স্বাধীন দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘সোনার ছেলেমেয়ে’ চেয়েছিলেন মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের এই ছেলেমেয়েরা সোনার ছেলেমেয়ে হিসেবে দেশটাকে গড়ে তুলবে।’

এ প্রজন্মই যে ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে যেন বাধা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ‘আজকের ছেলেমেয়েদের তো সৌভাগ্য, তারা এক জায়গায় বসে বিশ্বটাকে দেখতে পারে। প্রযুক্তির দ্বারা শিক্ষা, জ্ঞান অর্জন এবং বিশ্বকে জানার যে সুযোগ, সে সুযোগটা যেন আমাদের ছেলেমেয়েরা আরো বেশি করে পেতে পারে; সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দিতে হবে।’

প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় কোনো সরকারি স্কুল-কলেজ নেই, তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি।

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম, নবম-দশম এবং উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা তিন ভাগে ভাগ হয়ে ভাষা ও সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। ২০১৫ সালের পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে দিনাজপুরের শিক্ষার্থী শাকিল রেজা ইফতি এবং ২০১৬ সালের শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঢাকার সিরাজুল মুস্তাকিম শ্রাবণী নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করে।