এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ৬৫০ কোটি টাকার তহবিল হচ্ছে

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ৬৫০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ৫০০ কোটি টাকার ‘সিডমানি’ ও ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ হিসেবে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, শিক্ষকদের কল্যাণ সুবিধার জন্য থোক বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা। এর বাইরে এ খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে মাসিক কেটে নেয়া অর্থের পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মিলনায়তনে চলতি বছর হজে গমনেচ্ছু বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে কল্যাণ ও অবসর সুবিধার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব তথ্য জানান। কল্যাণ ও অবসর সুবিধা বোর্ড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৩৭ শিক্ষককে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪৯ কোটি ৪১ হাজার ৪৮ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, ওই তহবিল গঠনের উদ্যোগের ফলে ৪৪ হাজার অবসরগ্রহণকারী শিক্ষকের অবসর সুবিধার চেক এবং ৩০ হাজার অবসরগ্রহণকারী শিক্ষকের কল্যাণ ট্রাস্টের চেক দেয়ার পথ সুগম হবে। অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধার টাকা যথাযথ সময়ে প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে একটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে এতদিন মূল বেতনের যে অংশ কেটে রাখা হতো, তার হারও বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতি মাসে একেকজন শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে অবসরের জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ ও কল্যাণ-সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ টাকা কেটে রাখার নিয়ম করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে অবসরের জন্য ৪ শতাংশ ও কল্যাণ সুবিধার জন্য ২ শতাংশ টাকা কেটে রাখার নিয়ম রয়েছে। নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকারের সাত বছরে ৪৯ হাজার ৮৭৪ অবসরগ্রহণকারী শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর সুবিধা হিসেবে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে, যা বিগত সরকারের আমলে এ খাতে ২২ হাজার ৫৯৮ শিক্ষক কর্মচারীকে মাত্র ৫৭২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ার চার বছর পরও অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা পান না। ওই তহবিলে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা না থাকায় এ নিয়ে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। সারা দেশে এমপিওভুক্ত (সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ পান) শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার। অবসরের পরপরই টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এজন্য এখন তাদের চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের প্রাপ্য টাকা পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। শুধু তাই নয়, বেশ কিছুসংখ্যক শিক্ষক অবসর সুবিধার টাকা পাওয়ার আগেই মারা যান।
শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব শরীফ আহমদ, কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব শাহজাহান আলম প্রমুখ।