দুই স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ

বন্দর দুটি হচ্ছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি করতে দুই স্থলবন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বন্দর দুটি হচ্ছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে নানা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হলেও এ দুটি দিয়ে আমদানি করা পণ্যের প্রায় পুরোটাই কলয়া ও পাথর।
জানা গেছে, বন্দর দুটির সক্ষমতা বাড়ানোসহ দুদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্য সামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণ ও উঠানামা করার সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এরই মধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ‘গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর উন্নয়ন’ নামের এ প্রকল্পে সাড়ে ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবনা নিয়ে এই মধ্যে প্রাক মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক করেছে কমিশন।
এ বিষয়ে কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রাক মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে কিছু বিষয় প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে সভায় প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন। চূড়ান্ত পিইসি সভা শেষে শিগগিরই এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় তোলার জন্য সুপারিশ করা হবে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকার এ দুটি বন্দর পরস্পর দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ২০১০ সালে এগুলো বন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হলেও নেই প্রয়োজনীয় সুবিধা। বন্দর দুটি ভারতের সঙ্গে কয়লা ও পাথর আমদানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ পথে কিছু পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হয়, তবে তা বেশ কম। দুই বন্দরের অন্যদিকে ভারতের গাছুয়াপাড়া বন্দর অবস্থিত। ভারতের অংশে বেশ কিছু অবকাঠামো রয়েছে। সম্প্রতি ভারত তার অভ্যন্তরীণে এ বন্দরের পূর্ণ বন্দর সুবিধা দেয়ার কাজ শুরু করেছে। এ কাজ ২০১৮ সালের মধ্যে ভারত সম্পন্ন করবে। কিন্তু এদেশের অংশে অবকাঠামো নেই বললেই চলে। অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের জন্য প্রস্তাবিত জমি ৩ ফুট গভীর। এ জমি ভরাট করেই বন্দর নির্মাণ করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অংশেও সমান সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এজন্য কার্যক্রম চালানো জন্য বন্দর দুিটর নূ্যনতম অবকাঠামো নিশ্চিত করতে বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে মালামাল গুদামজাত করা জন্য ৭৪৪ বর্গমিটার ওয়্যারাহাউজ, কয়লা ও পাথর সংরক্ষণের জন্য ৩২ হাজার বর্গমিটার ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড, প্রশাসনিক কাজের জন্য ৭২৮ বর্গমিটার প্রশাসনিক ভবন, ৩৭৪ বর্গমিটার নিরাপত্তা ব্যারাক, ৫ হাজার বর্গমিটার পার্কিং ইয়ার্ড ইত্যাদি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর কয়লা ও পাথর আমদানি করা অন্য বন্দরের চেয়ে (বাংলাবান্ধা, তামাবিল, হিলি, বিরল) ঢাকার তুলনামূলক কাছে অবস্থিত। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও অন্যগুলোর চেয়ে সহজ। তাছাড়া এর নিকটবর্তী এলাকায় বিপুল পাথর ও কয়লা উৎপন্ন হয়। এ দুটি বন্দর দিয়ে আমদানি করা কয়লা দিয়ে ময়মনসিংহসহ ও এর আশপাশের কারখানা ও ইটভাটা চলে। আর পাথর যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন প্রকল্পে।
এদিকে স্থলবন্ধর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে বর্তমানে কাগজে কলমে ২২টি স্থলবন্দর থাকলেও অর্ধেকই কার্যকর নয়। অবকাঠামো সংকটে এসব বন্দর স্থবির হয়ে পড়ে আছে। এগুলো দিয়ে পণ্য আসা-যাওয়া অত্যন্ত সীমিত। আবার কার্যকরগুলোর অবস্থাও খুবই নাজুক। তবে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থলপথে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে চায় সরকার। প্রতিবেশীর সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে এবং পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশের স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে যে ধরনের অবকাঠামো থাকা দরকার, তার নূ্যনতম সুবিধা নেই। অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দের জন্য বারবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিলেও তাতে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। শুধুমাত্রা কার্যকর বন্দরগুলোর জন্যই কয়েকশ কোটি টাকা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দর সুবিধা নিশ্চিত করা ও অন্যান্য বাণিজ্য বাধা সমাধান করা সম্ভব হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরো বাড়বে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশ ৪৭৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, একই সময়ে রপ্তানি করেছে মাত্র ৫৬ কোটি ডলারের পণ্য। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ আমদানি করে ৬৫২ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আর ভারতে রফতানি করে ৫৫ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য। প্রতিবছর ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে। তবে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে না। তাই সব বাণিজ্য বাধা দূর হলে আমদানির পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণও বাড়বে বলেই মনে করেন তারা।