বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধার একগুচ্ছ উদ্যোগ

বেসরকারি শিক্ষকরা চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর অবসর সুবিধার টাকার জন্য কমপক্ষে পাঁচ বছর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য তিন বছর ঘুরতে হয়। বর্তমানে ৪৪ হাজার শিক্ষক অবসর সুবিধা বোর্ডের টাকা এবং ৩০ হাজার শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ফান্ডে টাকা না থাকায় তাঁদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকার শিক্ষকদের পাওনা দ্রুত ছাড় করতে একগুচ্ছ উদ্যোগ নিয়েছে।

গতকাল শনিবার ধানমণ্ডিতে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মিলনায়তনে চলতি বছর হজে গমনেচ্ছু শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে কল্যাণ ও অবসর সুবিধা চেক প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নতুন উদ্যোগের কথা জানান। অনুষ্ঠানে এক হাজার ১৩৭ জন শিক্ষককে ৪৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৮ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধে পাঁচ শ কোটি টাকার একটি ‘সিড মানি’ দিচ্ছে। একই সঙ্গে থোক বরাদ্দ হিসেবে অবসর বোর্ডে এক শ কোটি টাকা ও কল্যাণ ট্রাস্টে ৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে। শিক্ষকদের মাসিক বেতন থেকে চাঁদার হারও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বর্তমানে একজন শিক্ষক প্রতি মাসে বেতনের ৪ শতাংশ অবসর সুবিধা বোর্ডে এবং ২ শতাংশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাঁদা হিসেবে দিয়ে থাকেন। এ হার যথাক্রমে ৬ ও ৪ শতাংশে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের আর্থিক পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ করতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অর্থ সহায়তা নিয়ে একটি তহবিল গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষকদের আর ঘুরতে হবে না। অবসরের পর পরই তাঁরা তাঁদের পাওনাদি বুঝে পাবেন।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার সবচেয়ে বড় নিয়ামক শক্তি শিক্ষক। তাঁদের অধিকাংশই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। অপরের সন্তান মানুষ করার মহান পেশায় তাঁরা সারা জীবন খেটে যান। অবসর গ্রহণের পর এসব নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক দুর্ভোগে জীবন কাটাবেন এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষকদের যা করা দরকার তার সব কিছুই করবে।’

শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান, কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু এবং অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী।