২০১৪-১৫ দুই বছরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য

গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি এদেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্রের যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশের জনগণ দেশের স্বার্থে সবসময়ই অত্যন্ত সক্রিয়। চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সহযোগিতা এবং যথাযথ সমন্বিত উদ্যোগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলসমূহ অর্জনে সাফল্য দেখিয়েছে এবং জাতীয় আয় ও বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে নি¤œ আয় থেকে নি¤œ মধ্য আয়ের দেশে। এ ছাড়াও কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নতি অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিম-লে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বীকৃতি অর্জন করায় সারাবিশ্বের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্য আজ প্রমাণিত। এই সাফল্য ও স্বীকৃতির সমন্বয়ে বর্তমান সরকার রূপকল্প (ভিশন) ২০২১ অর্জনে বদ্ধপরিকর।
গত দুই বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- ও অগ্রগতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নি¤েœ তুলে ধরা হলোÑ
অর্থ, বাণিজ্য ও পরিকল্পনা
গত দুবছরে গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৩ শতাংশ। এ ছাড়া মাথাপিছু আয় বেড়ে ১,৪৬৬ মার্কিন ডলার, রিজার্ভ প্রায় ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রেমিট্যান্স ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সিদ্ধান্তের ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধাদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করে ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৫ শতাংশ।
বর্তমানে ১৯৬টি দেশে ৭২৯টি পণ্য রপ্তানি করে আয় হচ্ছে ৩১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ  WTO তে LDC কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকা পালন করছে।
গত দুবছরে ৬২টি একনেক বৈঠকে ৪,২৯,৮০৪.৪৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি দারিদ্র্য নিরসনের সাথে প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন (২০১৬-২০২০) করা হয়েছে।
শিক্ষা
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উপবৃত্তি ও বেতন মওকুফ সহায়তা হিসেবে ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থীকে ৮৮০.২৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার তিন বছর আগেই ২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাগত সমতা অর্জন করে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের অংশ হিসেবে ১০০টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৩.১১ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
২০১৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নীট ভর্তির হার ৯৭.৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়ে ২০.০৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২.২৩ কোটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ কোটি ৫৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ৫ হাজার ৪৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া, ইন্টারনেট মডেম ও সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন
মানুষের গড় আয়ু ৭০.৭ বছরে উন্নীত হয়েছে। অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার কমে প্রতি হাজারে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। মাতৃমৃত্যুর হারও কমে প্রতি লাখে ১৭০ জনে নেমে এসেছে। ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজসহ ১২টি সরকারি মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ৪০টি হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার ৩০০ চিকিৎসককে নিয়োগ দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে। মোবাইল ফোনে ১৬২৬৩ নম্বরে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর গত দুই বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩১৮টি উৎপাদন নলকূপ, ৩৪টি পানি শোধনাগার, ১৯টি উচ্চ জলাধার, ৭৪৩ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের পাইপ লাইন, ৮ হাজার ৪০৩টি স্যানিটারি ল্যাট্রিন, ১৯০টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন-পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেছে।
কৃষি, খাদ্য ও শিল্প
২০১৪-১৫ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে ৩৮৪.১৮ লাখ মেট্রিক টন। খামার যান্ত্রিকীকরণে ৩০ শতাংশ ভর্তুকিতে যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য ১৭২.১৯ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নসহ হাওড় অঞ্চলে কৃষিযন্ত্র সরবরাহের জন্য ১০.৬০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। গত দুই বছরে খরা, বন্যা, লবণাক্ততা সহনশীলসহ রোগ প্রতিরোধক্ষম এবং উচ্চ ফলনশীল ৬৪টি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে।
২০১৫ সালে মোট খাদ্যশস্য মজুদ ছিল ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়ই শ্রীলংকায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এই প্রথম অন্য দেশে চাল রপ্তানি করেছে। সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির আওতায় ১১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ৪ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে। সান্তাহার সাইলো ক্যাম্পাসে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন Multistoried Warehouse নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে মৎস্য উৎপাদনে গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬.২৩ শতাংশ। লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৫.৪৮ লাখ মেট্রিক টন মৎস্য ও চিংড়ি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ Blue Growth Economy-তে বাংলাদেশকে Pilot Country হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন ৬৯.৭০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে মাংস ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে ৫৮.৬ লাখ মেট্রিক টন ১ হাজার ৯৯ কোটি ৫২ লাখে উন্নীত হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈর্ষণীয় সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত দুই বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (গ্রিড কানেকটেড) ১০,২৮৯ মেগাওয়াট থেকে ১১,৯৫২ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়ায় ৮,১৭৭ মেগাওয়াট। ২০১৩ সালের মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩২১ কিলোওয়াট আওয়ার হতে বর্তমানে ৩৭১ কিলোওয়াট আওয়ারে উন্নীত হয়েছে। দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২৭০০+ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে এবং সাথে সাথে বিকল্প উৎস হিসেবে আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চিহ্নিত করা হয়েছে।
সড়ক-সেতু, রেল, নৌ ও স্থানীয় যোগাযোগ অবকাঠামো
পদ্মা সেতুর মূল সেতু নির্মাণ এবং নদীশাসনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি সার্ভিস এরিয়া, কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ প্রায় ২৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণে চীন সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৯২ কিলোমিটারের মধ্যে ১৮৪ কিলোমিটার চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ২২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬টি মহাসড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ থানচি-আলীকদম মহাসড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সিলেটে সুরমা নদীর ওপর কাজীর বাজার সেতু, মাদারীপুরে সপ্তম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, শেখ রাসেল সেতু, সুনামগঞ্জে সুরমা সেতু, বিরুলিয়া ও আশুলিয়া সড়কে বিরুলিয়া সেতু, আড়িয়াল খাঁ সেতু, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র সেতু কলাতলী সেতুসহ বেশ কিছু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এই ধারাবাহিকতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। শেষ হতে চলেছে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ৮০ কিলোমিটার চারলেনের কাজ।
রেলপথের উন্নয়নে ১১টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নসহ লাকসাম-চিকনিআস্তানা ৬১ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিগন্যালিংসহ টঙ্গী-ভৈরব বাজার পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১০০টি মিটার গেজ ও ১৭০টি ব্রড গেজ যাত্রীবাহী গাড়ি সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
পায়রা বন্দরের মূল অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ৬ হাজার একর জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। সীমিত আকারে পায়রা বন্দরের কাজ শুরু করার জন্য ১,১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ‘প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদি উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালের ৪টি জেটিতে কন্টেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও শরীয়তপুরের মধ্যে এবং চাঁদপুরের মতলব ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে দুটি নতুন রুটে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৯ হাজার ১৩৫ কিলোমিটার (উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম) সড়ক, ৪৩ হাজার ২৫০ মিটার ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। রাজধানীর যানজট সমস্যা নিরসনে এলজিইডি বর্তমানে ৭৭৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মগবাজারে-মৌচাক সমন্বিত ফাইওভার প্রকল্পের অধীন ৮.২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে চার লেনবিশিষ্ট একটি ফাইওভার নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে গত দুবছরে ৬৮৮.১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৪৩৯ ছাত্রছাত্রী/গবেষককে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাশিয়ান ফেডারেশন নির্ধারিত ঠিকাদারের সাথে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জেলা/উপজেলা পর্যায়ে ১৮ হাজার ১৩০টি সরকারি অফিসে কানেক্টিভিটি স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভুটান আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে এবং বাংলাবান্ধা পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা, ভূমিহীনে
ভূমিদান এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন
পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ২৪,১৫,০০০। দরিদ্র নারীদের ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য পল্লী মাতৃকেন্দ্র কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় ৩১৮টি কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ৮,৩৪,৯৬০। এসিডদগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় সুফলভোগী ১,৫০,০৫০। আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ঋণ কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ৬১,৮৭৪। নারী ও শিশু উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগের ফলে দুস্থ মহিলারা ভাতা পেয়ে আসছেন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলা ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০.১২ লাখ। বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৭.২২৫ লাখ। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ লাখ। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫০,০০০।
উপবৃত্তি প্রকল্পের আওতায় জুন ২০১৫ পর্যন্ত প্রতিমাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (আরওএসসি) প্রকল্পের অধীনে দরিদ্র পরিবারের ৩.৯০ লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগসহ ভাতা পাচ্ছে। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার ৩৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতি স্কুল দিবসে উচ্চশক্তি ও পুষ্টি গুণসম্পন্ন বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে। ৪৯ হাজার ৫৫৯টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার ৪৫৭ একর খাস জমির বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ২৫৪টি গুচ্ছগ্রামে ১০ হাজার ৭০৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
দেশের জনগণকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮টি উদ্ভাবনী উদ্যোগের অন্যতম ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’। এ ছাড়াও দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘চরজীবিকায়ন কর্মসূচি-২’, ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি’, ‘পল্লী জনপদ (উন্নত আবাসন) সৃজন’, ‘ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অব দি পুওরেস্ট (ইইপি)’, ‘মিল্কভিটার কার্যক্রম সম্প্রসারণ’, ‘বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি’ প্রতিষ্ঠাকরণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক খামারের সংখ্যা ১৮.৭২ লাখ। ডিজিটাল বাংলাদেশের অবদানে সুবিধাভোগীরা অনলাইনের মাধ্যমে ২,৫৭৩ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার ৪৮৫টি উপজেলায় এই অনলাইন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিআরডিবির আওতায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮৮টি সমিতি ও দল গঠন করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেচ কার্যক্রমের আওতায় সদস্যদের মাছে ১৮ হাজার ৮৬০টি গভীর নলকূপ, ৪৪ হাজার ৫২৩টি অগভীর নলকূপ, ১৯ হাজার ৪০৫টি শক্তিচালিত পাম্প এবং ২ লাখ ৭৩ হাজার হস্তচালিত পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বিএআরডি) ৮৮টি প্রশিক্ষণ, অবহিতকরণ এবং কর্মশালা সংগঠনের মাধ্যমে ৩ হাজার ৬৫১ অংশগ্রহণকারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। চরজীবিকায়ন কর্মসূচির আওতায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার ২৮টি উপজেলার ২.৫০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ পরোক্ষ উপকৃত হচ্ছেন।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, জনপ্রশাসন ও কর্মসংস্থান
বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সরকারি কর্মচারী আইন এবং পদায়ন/বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া কর্মকৃতিভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সকল ক্যাডার কর্মকর্তার ডাটাবেইজ প্রস্তুত, পদোন্নতি নীতিমালা সংশোধন ও যুগোপযোগীকরণ করা হয়েছে। সরকারি যানবাহন (ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৪, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা ২০১৪ এবং জনপ্রশাসন পদক প্রদান নীতিমালা ২০১৪ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের ১ লাখ ১০ হাজার ৫৮৫টি পদ সৃজন, ৫৭ হাজার ৫৩২টি পদ সংরক্ষণ, ১১ হাজার ৩৬৫টি পদ স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ হাজার ৩১২ জনকে নিয়োগ প্রদান, ২ হাজার ১৫৮ জন নিয়োগের সুপারিশ এবং ৩ হাজার ৯৮৩ জনের নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।
আইন : আদালতে এখন ভয়েস রেকর্ডারের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। উচ্চ ও নি¤œ আদালতের দৈনন্দিন কার্য তালিকা ও মামলার সর্বশেষ তথ্য, পরবর্তী ধার্য তারিখসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। ২০১৪-১৫ সময়কালে ৪৮টি আইন, ১৫২টি চুক্তি এবং ৬৫১টি সংবিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন প্রণয়নের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইন ও বিধিমালার নির্ভরযোগ্য অনুবাদ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ ও সাহসী পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১০টি মামলা আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
পররাষ্ট্র : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ চিন্তাবিদদের একজন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখায় তাকে ‘ডিসিশন মেকার্স’ ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ১৩ চিন্তাবিদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। রাজনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ মর্যাদাপূর্ণ Women in Parliament (WIP) Global Forum Award ২০১৫ পুরস্কারে ভূষিত হয়। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ (Tree of Peace) পুরস্কার লাভ করেন। জাতিসংঘের Millennium Development Goals (MDGs) অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৪ সালে Commonwealth Parliamentary Association (CPA)-এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন, Inter-Parliamentary Union (IPU)-এর প্রেসিডেন্ট Committee on the Elimination of Discrimination Against Women (CEDAW)-এর সদস্য International Mobile Satellite Organization (IMSO)-এর মহাপরিচালক পদে বাংলাদেশের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। একই বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, UNICEF Excutive Board, International Labour Organization (ILO)-এর গভর্নিং বডি এবং ITU Council-এর সদস্য নির্বাচিত হয়। ২০১৫-এ UNESCO বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে UNESCO Category II  স্ট্যাটাস প্রদান করে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে ঢাকায় BIMSTEC-এর স্থায়ী সচিবালয় স্থাপিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে দুদেশের মধ্যে ২২টি উল্লেখযোগ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
পরিবেশ ও বন : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত Champions of The Earth পুরস্কারে ভূষিত হন। সুন্দরবন এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড লাইভলিহুড সিকিউরিটি (এসইএলএস) প্রজেক্টের মাধ্যমে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়ুবর্ধক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ফলে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠাসহ দেশের উপকূলীয় জেলাসমূহে প্রায় ২ লাখ হেক্টর এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। ৫ লাখ পরিবারকে সামাজিক বনায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ৭২ শতাংশ শিল্প-কারখানায় ইটিপি স্থাপনসহ ৮ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন এবং ১৫ লাখ উন্নত চুলা বিতরণ করা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজস্ব অর্থায়নে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আবাসন সমস্যার সমাধানে উত্তরা আদর্শ আবাসিক শহর (তৃতীয় পর্ব), পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক শহরে মধ্যবিত্তের জন্য প্রায় ৯০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করছে। এ ছাড়া জাতীয়
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদফতর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যার নিরসন এবং নি¤œ ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে বিক্রয়ের জন্য ৮ হাজার ৮৮১টি ফ্যাট নির্মাণ করছে। রাজধানীর কুড়াইল এলাকায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫ হাজার ফ্যাট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পূর্বাচলে দেশের সর্বোচ্চ ১৩০ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র : ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমানা সংক্রান্ত Land Boundary Agreement ১৯৭৪ (মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি) অনুসমর্থন দলিল বিনিময়ের মাধ্যমে কায্যকর হয়েছে। ১ আগস্ট ২০১৫-কে অঢ়ঢ়ড়রহঃবফ ফধু হিসেবে নির্ধারণপূর্বক উভয় দেশের মধ্যে ভূমি বিনিময় সম্পন্ন হয়। ফলে অপদখলীয় ভূমিসহ বাংলাদেশের মূল ভূখ-ে অবস্থিত সকল বাংলাদেশি ছিটমহল ভারতের ভূখ- হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কঠোর পরিশ্রম দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসন হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর আধুনিকায়ন ও সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান ৫২৭টি বর্ডার অপারেশন পোস্ট (বিওপি)-এর অতিরিক্ত ৮০টি বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এবং প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) প্রদান করা হয়েছে।
বস্ত্র ও পাট : বস্ত্র ও পাট খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের জন্য পাট আইন ২০১৫, পাটনীতি ২০১৫, বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান আইন ২০১৫ ও বস্ত্রনীতি ২০১৫ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০’-এর আওতায় ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা-চেতনায় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ‘বিএমএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। বিমানবাহিনী ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘বিএএফএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, যশোর’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ‘Upgradation of Agro-Meteorological Services’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৭টি কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। ‘Improvement of Digital Mapping System of Survey of Bangladesh (Revised) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও মৌলভীবাজারে ৬টিPermanent GNSS/GPS Station, Digital Mapping Unit (DMU) স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া সমগ্র দেশের অপৎরধষ চযড়ঃড়মৎধঢ়যু সম্পন্নকরণসহ আন্তর্জাতিক সীমান্ত, উপকূল ও সুন্দরবন এলাকার জন্য Satellite image ক্রয় করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক : সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ৮ হাজার টাকায় এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে এবং ৬৭৬ খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারবর্গের মাসিক রাষ্ট্রীয় ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করে পঙ্গুত্বের হার অনুযায়ী মাসিক সর্বনি¤œ ১৮ হাজার  টাকা এবং মাসিক সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার টাকা হারে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়মিত ভাতা প্রদান একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ‘ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ’ প্রকল্পটিতে ২ হাজার ৯৭১টি বাসস্থান নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে। ‘জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪৩টি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সকল উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫৯টি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্ম : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় গত দুই বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক ও নৈতিকতা শিক্ষা, ১০ লাখ ২৯ হাজার কিশোর-কিশোরীকে সহজ কোরআন ও নৈতিকতা শিক্ষা এবং ৩৮ হাজার ৪০০ নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তিকে অক্ষরজ্ঞানদানসহ নৈতিকতা শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং দুস্থ পুনর্বাবসনের লক্ষ্যে মোট ৪২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও খেলাধুলার প্রতি তার বিশেষ অনুরাগের ফলে ক্রিকেট আজ বাংলাদেশকে বিশ্বে পরিচিত করে তুলেছে। ওয়ার্ল্ড টি টুয়েন্টি বাংলাদেশ ২০১৪ ও এশিয়া কাপ ক্রিকেট ২০১৪-এর সফল আয়োজন করে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব ১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা অর্জন করে এবং বিশ্ব হকি লীগের প্রথম পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। দেশের দরিদ্রতম ১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং ১৪ হাজার ৭১৮ জনকে প্রশিক্ষণ শেষে অস্থায়ী কর্মসংস্থানে নিযুক্ত করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের দরিদ্রতম ২০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে