মানুষের মন কেড়েছে আধুনিক টয়লেট

বর্তমানে রাজধানীর দুই মেয়রের উদ্যোগে গণশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) ব্যবস্থাপনা উন্নত হচ্ছে। তেজগাঁও এবং নাবিস্কোর উল্টো পাশে তৈরি করা হয়েছে দুইটি আধুনিক মানের গণশৌচাগার। ১৮ এপ্রিল এ দুইটি টয়লেট উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। এ সময় তিনি রাজধানীতে আরও ১০০টি আধুনিক টয়লেট স্থাপনের কথা বলেন। জানা গেছে, ১০০ পাবলিক টয়লেটের মধ্যে চারটি তৈরি হয়েছে, ১৪টির কাজ চলছে এবং অন্যগুলো প্রক্রিয়াধীন। জুলাইয়ের মধ্যে আরও পাঁচটি আধুনিক টয়লেট পাওয়া যাবে। নির্মাণাধীন এসব টয়লেট সম্পর্কে উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক ড. তারিখ বিন ইউসুফ বলেন, জুন থেকে মিরপুর চিড়িয়াখানার কাছে এবং গুলশান-২ ও মহাখালী টার্মিনালে আধুনিক টয়লেটের কাজ শুরু হবে। এখন কাজ চলছেÑ শ্যামলী পার্কে, মহাখালী ওয়াসার পাশে, ফার্মগেটের আনোয়ারা পার্কে, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে আরও একটি। তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের টয়লেটটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য এ টয়লেট ভাঙা হয়। পাশের বিআরটিসি বাস ডিপোর ভেতরে একটি টয়লেট তৈরির লক্ষ্যে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তেজগাঁও সাতরাস্তা যেমন সাফসুতরো, এখানে সদ্যনির্মিত পাবলিক টয়লেটটিও ঝাঁ চকচকে। ৮ মে সরেজমিন দেখা গেল, টয়লেটটি বেশ উৎসাহের সঙ্গে ব্যবহার করছেন রাজধানীবাসী। কেউ টয়লেট ব্যবহার করছেন, কেউ গোসল করছেন। এখানকার কর্মী পঙ্কজ দাস জানান, দিনে কমপক্ষে ৩০০ জন এ টয়লেট ব্যবহার করেন। নারীর সংখ্যা ১০ জন। ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, পিকআপচালক আনোয়ার গোসল করছেন। তিনি জানান, প্রতিদিনই এখানে গোসল করেন। ১০ টাকা দিতে হয়। আগে তো রাস্তার পাশের কল ছাড়া উপায় ছিল না।
তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো এলাকার হাজী মরণ আলী সড়কে নির্মিত হয়েছে আরেকটি পাবলিক টয়লেট। নবনির্মিত টয়লেট দুইটি নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব। দুইটিতেই নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা চেম্বার, লকার, হাতধোয়ার ব্যবস্থা, গোসল, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়া টয়লেট দুইটি পরিষ্কারের জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন। বাইরের চত্বরে রয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি)। ভেতরে ঝকঝকে সাদা টাইলস বিছানো মেঝে। ছাদে এলইডি বাতি। আধুনিক স্যানিটারিসামগ্রী। পানি খাওয়ার আলাদা ব্যবস্থা, বিশাল আয়না, রয়েছে লকার ব্যবস্থা, জুতা খুলে টয়লেট ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যান্ডেল পায়ে ঢুকতে হয়। একজন বলেন, মনে হয় বিলাসবহুল কোনো হোটেলের টয়লেট।
স্থানীয়রা জানান, উদ্বোধনের পর থেকেই বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এমন উন্নতমানের টয়লেট ব্যবহার করতে পেরে জনগণও খুশি। টয়লেটের পরিচালনাকারীরা জানান, দুইটিই ভালো ব্যবহৃর হয়। তবে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের সামনের টয়লেটটি তুলনামূলক বেশি ব্যবহৃত হয়। এর কারণ ট্র্যাক শ্রমিকরা বেশি ব্যবহার করেন।
টয়লেটে প্রস্রাব-পায়খানার জন্য ৫ টাকা এবং গোসলের জন্য ১০ টাকা দিতে হয়। লকার সুবিধার জন্য ৩০ টাকা জমা দিতে হয়। টয়লেট ত্যাগ করার সময় চাবি বুঝিয়ে দিলে ২৫ টাকা ফেরত দেয়া হয়। পানি পানের জন্য একবার ব্যবহারের উপযোগী প্লাস্টিকের গ্লাসের দাম ১ টাকা। টয়লেট দুইটির তত্ত্বাবধায়ক শ্যামলচন্দ্র দাস ও পঙ্কজচন্দ্র দাস বলেন, এখনও অনেকেই আগ্রহ নিয়ে দেখতে আসেন।
টয়লেটের জন্য জায়গার অভাব : সরকারি জায়গায় টয়লেট করা হবেÑ এ লক্ষ্যে টয়লেটের জন্য জায়গা খুঁজছে সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই কথা বলছে। কিন্তু সহায়ক শক্তি হিসেবে কাউকে পাচ্ছে না। এমনকি বর্তমানের টয়লেটগুলো সংস্কারের প্রস্তাবেও কেউ রাজি হচ্ছেন না।
জানা গেছে, পেট্রলপাম্পের মালিকদের সঙ্গে মেয়ররা কথা বলেছেন। তাদের টয়লেটগুলো আধুনিক করা হবে। কিন্তু মালিকপক্ষ রাজি নয়। বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে তাদের অসহযোগিতার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণে স্থান বড় বাধা বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।