বাঙালির শান্তি ও স্বপ্নের ঘরে ফেরার দিন

যিনি এক শেকলে বন্দি জাতিকে দেখিয়েছেন স্বাধীনতার স্বপ্ন, যিনি বাঙালি জাতিকে শিখিয়েছেন কিভাবে চরম নির্যাতনে ন্যুব্জ হয়েও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায় প্রতিশোধের চরম শপথে, যিনি আমাদের দীক্ষা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রে, লাল-সবুজের পতাকা হাতে যিনি বিশ্ব দরবার দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বাঙালি জাতিকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করার প্রয়াসে, সেই মহামানব, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রাণ-পুরুষ, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙলা ও বাঙালির যা কিছু মহান অর্জন সবটুকু স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু তার এই সুদীর্ঘ সাধনা, পরার্থের স্বপ্ন, অতুলনীয় শ্রম ও ত্যাগের সঙ্গে বেইমানি করে এক হায়েনার দল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বপ্নগুলোকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় আমাদের প্রাণের নেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা তখন স্বামীর সঙ্গে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। ছোট বোন শেখ রেহানাও ছিলেন আপা-দুলাভাইয়ের সঙ্গে।
পঁচাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশ যেন এক দুর্ভেদ্য নিশিথিনীর মধ্যে হাতড়ে ফেরা জনপদের প্রতিবিম্ব। প্রত্যাশার সূর্যকে গ্রাস করেছিল হতাশার কালো মেঘ। চারদিকে শুধু লোমহর্ষক হত্যা, লুটপাট-রাহাজানির মচ্ছব। একাধারে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা তারপর সংবিধানকেও কাটাছেঁড়ার মধ্য দিয়ে আমাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শগুলোকে চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত অপশক্তি। দেশের এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সেই কঠিন দুঃসময়ে এ পরিবারটিকে আগলে রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ জামাতা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পরামর্শে সেদিন জীবন রক্ষার জন্য ড. ওয়াজেদ মিয়া শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শিশু পুত্র জয়, শিশু কন্যা পুতুলকে নিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের কাছে।
বঙ্গবন্ধুর বিশাল ব্যক্তিত্বের গুণমুগ্ধ ভক্ত ভারতের তৎকালীন সরকার প্রধান ইন্দিরা গান্ধী মুজিব কন্যা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার জাম্বো জেটে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে এসে নামেন শেখ হাসিনা ও পরিবারের জীবিত সদস্যরা। ভারত সরকার বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে প্রথমে দিল্লিতে ডিফেন্স কলোনির একটি ফ্ল্যাটে এবং পরবর্তীতে ‘ইন্ডিয়া গেট’ সংলগ্ন পান্ডারা রোডের একটি সরকারি বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাটে থাকার বন্দোবস্ত করে। স্বজন হারানো এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে ভারতীয় আণবিক শক্তি কমিশনে ‘পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ’ প্রদান করে ভারত সরকার। সেই ফেলোশিপের শর্তানুযায়ী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে বাসা ও অফিস যাতায়াতের সুবিধা ছাড়াও দৈনিক বাষট্টি রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) পঞ্চাশ পয়সা ভাতা দেয়া হতো। সেই ভাতা দিয়ে কোনো রকমে দিন এনে দিন খেয়ে জীবন যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছিলেন দুই বঙ্গতনয়া। নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার চরমতম সাক্ষী হয়েও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি আমাদের প্রিয় নেত্রী। সব হারিয়েও আশা হারাননি শেখ মুজিবের রক্তের এই সুযোগ্য উত্তরসূরি।
রাজনৈতিক নানা পট পরিবর্তনের মধ্যেই ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে মাননীয় নেত্রী তার অনুপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৭ মে গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা তার পিতার গড়া স্বাধীন বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ৭৩৭ বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে সে সময়ের ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। সব হারানো কন্যার দেশে ফেরার সেই দিনে প্রকৃতিও কেঁদেছিল ডুকরে ডুকরে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, ঘণ্টায় ৬৫ মাইল বেগে ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে গণতন্ত্রকামী লাখ লাখ মানুষ এসেছিল মুজিব কন্যাকে দেখতে। বৃষ্টির পানি আর মানুষের চোখের জল একাকার হয়ে এক ভালোবাসার উত্তাল ঢেউ তৈরি করেছিল সেদিন। ওই সময় লাখো জনতার কণ্ঠে ধ্বনিত গগণবিদারী স্লোগান- ‘শেখ হাসিনা তোমায় কথা দিলাম, মুজিব হত্যার বদলা নেব’। জনতার ভালোবাসার জবাবে দেশরতœ শেখ হাসিনা বলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।
মুজিববিহীন বাংলায় অধিকারবঞ্চিত মুক্তিপাগল বঙ্গবন্ধুর ভক্তরা সেদিন গ্রাম-গঞ্জ-শহর-নগর-বন্দর থেকে প্রাণপণে ছুটেছিল। সবার লক্ষ্য ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর। জনস্রোত তখন কুর্মিটোলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত বিস্তৃত। গোটা এলাকা রূপ ধারণ করেছিল জনসমুদ্রে। সব কষ্টকে ভুলে গিয়ে মুজিবকন্যাকে এক পলক দেখার জন্য সবার চোখ সেদিন জ্বলজ্বল করছিল। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা সেদিন আরো বলেন, সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে আমার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করতে চাই। মাননীয় নেত্রী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা সারা দেশের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ও দাবি অনুযায়ী দেশরতেœর হাতে তুলে দেন দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগের পতাকা। সেই সময় থেকে মাননীয় নেত্রী তার পিতার জীবনকর্ম থেকে শেখা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিলে তিলে। কখন পায়ে হেঁটে, কখনো ভ্যানে চড়ে, কখনো বা আবার ডিঙি নৌকায় চড়ে বঙ্গবন্ধুতনয়া বাংলার মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গেছেন, তাদের দুঃখ-দুর্দশাগুলো নিজ চোখে দেখেছেন, নিজ কানে শুনেছেন, নিজে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে সংগ্রামে তিনি নিজেকে সমর্পণ করেছেন কায়মনোবাক্যে, সেই সংগ্রামেরই অংশ হিসেবে ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ৩টি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা এবং সংবিধানের ৫১ ও ৫৬ ধারা অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ঘোষণা প্রদান করেন। সে সময় শেখ হাসিনার দাবির পক্ষে রাজপথ ছিল উত্তাল, দাবি আদায়ে জীবন দিতেও বাংলার মানুষ ছিল অসংকোচ।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নিরলস আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার লড়াইয়ে সফল হয়ে ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নির্বাচিত হয় এবং ২৩ জুন ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৬-২০০১ সালের মেয়াদকালে তিনি বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া ও পাওয়ার সমন্বয় ঘটান। তন্মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, যমুনা নদীর উপরে বঙ্গবন্ধু সেতুর উদ্বোধন প্রণিধানযোগ্য। মাননীয় নেত্রীর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে প্রথমবারের মতো খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বহুমাত্রিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মাননীয় নেত্রী একাধিক আন্তর্জাতিক পদক ও বিশেষণে ভূষিত হন। তবে ২০০১ সালে আবারো যখন দেশের শাসন ক্ষমতা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পরিপন্থী ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের হাতে চলে যায় তখন পুনরায় অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে এ দেশের আপামর জনগণের জীবনে। দেশরতœ শেখ হাসিনা তখন দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের বিরুদ্ধে আর শান্তির সপক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।
শান্তির জন্য দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে গণতন্ত্রের মানসকন্যাকে ১৯বার হত্যা করার চেষ্টা করেছে দেশবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তিনি বারবার বেঁচে গেছেন। তার ওপর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হামলাটি হয়েছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। এ পরিকল্পিত হামলায় তার দলের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং ৫০০ জনেরও বেশি আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও কানে মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়ে এক কানের শ্রবণ শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। যে মানচিত্র আঁকবেন বলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জীবনের প্রায় অর্ধেকটা সময় জেলে কাটিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, সেই স্বাধীন দেশে তার কন্যাকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। প্রায় এক বছর জেলে থাকার পর দেশ ও দেশের বাইরের অদম্য জনমতের কারণে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ১১ জুন গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তিনি আবারো জনগণের বিপুল সমর্থনে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রী হয়ে নব উদ্যমে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করা শুরু করেন। যার ফলে আমরা দেখেছি- বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সীমান্ত বিজয়, সমুদ্র বিজয়, শিক্ষার উন্নয়ন, বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, চিকিৎসা খাতে ব্যাপক অনুদান ও উন্নয়ন, শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা ইত্যাদি।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ সহ বহুমাত্রিক উন্নয়ন কৌশল হাতে নিয়ে তৃতীয় মেয়াদে সফলতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করছেন। দুই সন্তানের গর্বিত জননী শেখ হাসিনা তার পুত্রকন্যাকে সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। আর মায়ের যোগ্য মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করার মধ্য দিয়ে একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
ভালো থাকুন, নিরাপদ থাকুন, দীর্ঘজীবী হোন আমাদের উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, বিশ্বশান্তির অগ্রদূত, বিশ্বজয়ী বিশ্বনেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা যার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, প্রতিযোগিতা করছে উন্নত দেশসমূহের সঙ্গে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
মো. সাইফুর রহমান সোহাগ : সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।