শেখ হাসিনা- দেশ ও জনগণের বাতিঘর নেতা

আজ সেই স্মরণীয় দিনটি আবার ফিরে এসেছে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে ৬ বছর অনেকটা নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ঢাকার মাটিতে পা রাখলেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে ছোট বোন রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে জার্মানিতে থাকা স্বামীর কাছে বেড়াতে যান। সঙ্গে দুই সন্তানও ছিল। এর অল্প কদিন পরই ১৫ আগস্টের কালরাত নেমে আসে বাংলাদেশের ওপর। ওই রাতে বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সবাই বর্বর ঘাতকগোষ্ঠীর বুলেটে প্রাণ হারান। শেখ হাসিনা এবং রেহানা দেশে থাকলে তাদের ভাগ্যেও হয়তো মৃত্যু অবধারিত ছিল। জার্মানিতে থাকার কারণে তারা দুই বোন প্রাণে বেঁচে গেলেন। তবে এমন বেঁচে থাকার যন্ত্রণা যে কত ভয়াবহ হতে পারে তা কেবল শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বলতে পারবেন। কী দুঃসহ যন্ত্রণা তখন তাদের বয়ে বেড়াতে হয়েছে। শেখ হাসিনা স্বামী-সন্তানসহ অনেকটা উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আসলেন। স্বামীর চাকরিই তখন তাদের একমাত্র সম্বল। শেখ রেহানা অবশ্য বিয়ের পর ইংল্যান্ড থাকতে শুরু করেন। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার দেশে আসা আর হয়নি। সামরিক সরকার তাদের দুই বোনকে দেশে আসার ক্ষেত্রে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছিল। তারা পারেননি মা বাবা, ভাইদের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি বা কবরগুলোও দেখতে আসতে। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান হয়তো ধরে রেখেছিলেন যে, স্বামী-সন্তান নিয়ে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বিদেশেই থাকবেন, তিনি এককভাবেই রাজনীতিতে ছড়ি ঘুরাতে পারবেন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য যতটুকু করা দরকার ছিল তার চেয়ে একচুলও কম করা হয়নি। আওয়ামী লীগ তখন দাঁড়াতেই পারছিল না। জোহরা তাজউদ্দীন হাল ধরেছিলেন। কিন্তু দল তিন/চার ভাগে বিভক্ত থাকার কারণে মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তিই যেন ফুরিয়ে যাচ্ছিল। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তখন দেশব্যাপী ধর্ম, ভারত, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি প্রসঙ্গে রাজ্যের অপপ্রচার চালিয়ে মানুষের মনে জুজু সৃষ্টি করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ততদিনে ‘দ্বিতীয় পাকিস্তান’ বনে গিয়েছে। এ ধরনের বৈরী প্রচারণায় মানুষ ছিল বিভ্রান্ত। তবে ৬ বছরের সামরিক শাসন, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেয়ার কারণে মোহভঙ্গের একটি অবস্থা প্রায় বিরাজ করছিল। সে ধরনের পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করে রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বড় বাধা একদিকে যেমন দূর হওয়ার একটি অবস্থা তৈরি করেছিল, অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার মতো আবেগ সৃষ্টির উপাদানও কাজে লাগানো গিয়েছিল। শেখ হাসিনা দলের সভাপতি হওয়ার সংবাদ দ্রুতই দলটির পুনরুজ্জীবন ঘটাতে সাহায্য করে। এটি দেখা গেল ১৭ মে তারিখ যে দিন শেখ হাসিনা ঢাকা বিমানবন্দরে এসে পা রাখলেন। লাখ লাখ মানুষ নেতাকর্মী সেদিন তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়। ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার জন্য অবশ্য সে দিনটি খুশির দিন ছিল না। ৬ বছর পর এ ধরনের শোকাহত অবস্থায় দেশে ফেরার মানসিক শক্তি তিনি দেখাতে পেরেছিলেন সেটিই মস্ত বড় বিষয় ছিল। পিতামাতা, ভাই, আত্মীয়স্বজনদের হারানোর ছয় বছর পর দেশে ফেরার সেদিনের দৃশ্যটি এখনো আমাদের ভাবিয়ে তোলে। কত বড় শোককে বুকে চেপে ধরে স্বামী, সংসার দিল্লিতে রেখে তিনি ঢাকায় ছুটে এলেন, রাজনীতির হাল ধরতে রাজি হলেন। এ সবই ভাবতে শ্রদ্ধায় এই মানুষটির প্রতি আমাদের মাথা নত হয়ে আসে। এমন একটি দেশে তিনি রাজনীতির হাল ধরতে রাজি হলেন- যেখানে রাজনীতির কারণেই তার পিতামাতা, ভাইসহ পরিবারের সবাইকে জীবন দিতে হলো। যারা ১৯৭৫ সালে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তাদের সবাই তখন মুক্ত আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, রাষ্ট্র রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিল, সরকার ও প্রশাসনের শীর্ষ অবস্থানে তারাই তখন কর্তৃত্ব করছিল। তারা শেখ হাসিনার আগমন ঠেকাতে চেষ্টার ত্রুটি করেনি। তবে তারা ঘরে বসে থাকবে এমনটিও নয়। সেই থেকে তারা শেখ হাসিনাকেও হত্যা করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। কেননা, তাদের রাজনীতির শত্রু হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, সেই আদর্শের দল ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। শেখ হাসিনা তখন থেকে তাদের হত্যার তালিকায় এক নম্বরে চলে আসেন।
তবে একটি বিষয়ে মনে হয় এখন নিশ্চিত হয়েই বলা যায় যে, ১৯৮১ সালে সরকার এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী গোষ্ঠী শেখ হাসিনার সক্ষমতা, মিশন-ভিশন, যোগ্যতা, দেশপ্রেম ইত্যাদি সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা করতে পারেনি। তারা তাকে বড়জোর একজন ‘গৃহবধূই’ হয়তো ভেবেছিল। যদি তারা সেদিন বুঝতে পারত যে তিনিই একদিন এদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের বাতিঘর হয়ে উঠবেন, তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনবেন, বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে এতটা দৃঢ়তার পরিচয় দেবেন, তিনি বাংলাদেশে এতটাই যোগ্য, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হবেন- তাহলে হয়তো তাকে শুরুতেই যা করার তাই করতে তারা দ্বিধা করত না। সেটি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বিষয়।
শেখ হাসিনা নিজের ব্যক্তিগত শোককে দ্রুতই কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। রাজনীতিতে তার একটি নিজস্ব অবস্থান ধীরে ধীরে তৈরিও করতে থাকেন। বঙ্গবন্ধু জীবিত অবস্থায় কখনো হয়তো ভাবেননি যে তার অনুপস্থিতিতে তার সন্তানদের রাজনীতিতে হাল ধরতে হবে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে হাল ধরতে হবে। শেখ হাসিনা ছাত্র রাজনীতি চুকিয়ে স্বামী সংসারই মূলত করছিলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবিত অবস্থায় তিনি বা শেখ কামালও ভিন্ন কিছু ভাবেননি, রাজনীতির বিষয়াদি বাবা এবং তার সহযোদ্ধাদের সিদ্ধান্তের বিষয় হিসেবেই দেখেছেন। সুতরাং, রাজনীতিতে শেখ হাসিনার আসার কথা ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ভাবনাতে না থাকারই কথা। কিন্তু বাস্তবতা তাকেই টেনে আনে রাজনীতিতে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের মতো দলের শীর্ষ পদের বিষয়টিতো মোটেও চটজলদি হওয়ার কথা নয়। শেখ হাসিনা গোটা আশির দশক আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে দল এবং দেশের রাজনীতির জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠলেন। তখনই তাকে হত্যার চেষ্টা হয়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা স্বীকৃত হয়। স্বৈরাচারের পতনের পর নেপথ্যের শক্তি বের হয়ে আসে। ১৯৯১-এর নির্বাচনকে ধর্ম এবং ভারতবিরোধী কিছু উগ্র প্রচারণায় কিভাবে নিয়ন্ত্রণে নেয়া গেল তা অনেক বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদও বুঝতে পারেনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেই থেকে দক্ষিণপন্থার শক্তির অবস্থান নির্ধারিত হয়ে যায়। গণতান্ত্রিক শক্তির দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে যায়। একটি বড় ধরনের হোঁচট খেল বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রকারে উৎরে গেল। তবে শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ সালের শাসনামলে নিজের যোগ্যতা, প্রজ্ঞা এবং দেশপ্রেমের যথার্থ স্বাক্ষর রাখেন। গঙ্গার পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে দেশকে একটি নতুন জায়গায় তুলে আনলেন। এর চাইতেও যে বিষয়টি তিনি করতে সক্ষম হলেন তা হলো, আওয়ামী লীগের শাসন মানেই দুর্ভিক্ষ, ধর্ম চলে যাওয়া, ভারত দখল করে নেয়া এসব প্রচারণা অসত্য-অসার প্রমাণ। ১৯৭২ পরবর্তী সময় থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী রসিয়ে রসিয়ে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে এসব বিরূপ প্রচার-প্রপাগান্ডা চালিয়ে জনমনে একটি অহেতুক ধারণা ও বিশ্বাস দাঁড় করিয়েছিল সেটি শেখ হাসিনা তখন ভাঙতে সক্ষম হয়েছিলেন। শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে তাকে হত্যার বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল, দেশে জঙ্গিগোষ্ঠীকে গোপনে মাঠে নামিয়ে বোমাবাজি করা হচ্ছিল। রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানস্থলে বোমা হামলা করে বেশ কিছু মানুষকে হত্যা করা হলো। জঙ্গিবাদের ওই উত্থানকে অনেকেই বুঝতে পারেনি। অনেকেই এসব বোমাবাজির পেছনে কারা জড়িত সে সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো ধারণা পোষণ করতে পারেননি। মাঠে প্রচারিত হচ্ছিল যে, আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা এর সঙ্গে জড়িত। একটা বড় ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এরই মধ্যে ৪ দলীয় জোট গঠিত হলো ১৯৯৯ সালে। দেশি-বিদেশি এ সব শক্তি ২০০১-এর নির্বাচনে জয়ের জন্য ধর্মের অপব্যবহার করেছিল বেশ দক্ষতার সঙ্গে, সরকারের বিরুদ্ধেও নানা ধরনের মহল আগে থেকেই তারা প্রচারণায় নেমেছিল। টিআইবির ঘোষণায় বাংলাদেশ দুর্নীতির শীর্ষে- বিষয়টিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কিছু কিছু মিডিয়া ও প্রতিষ্ঠান বেশ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা, বিভিন্ন মহলের ভূমিকা ছিল খুবই বিতর্কিত। নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। নির্বাচনে বিজয়ের হাসি হাসে ৪ দলীয় জোট। জামায়াত সরকারের অংশীদার হয়, স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা ওঠে, ভোটে তারা নির্বাচিত হয়, মুক্তিযুদ্ধের শক্তি ভূমিধস পরাজয় বরণ করে এসবই এ সময়ের চোখে দেখতে হলো।
২০০১-২০০৬ সালে জোট সরকারের শাসনামল ছিল বাংলাদেশে ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তির দুঃশাসন, তাদের প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। তখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতির ওপর নেমে আসে খড়গ। হত্যা করা হয় সংখ্যালঘুদের, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের, টার্গেট করা হয় শেখ হাসিনাকে হত্যার। ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিদের অংশগ্রহণে। শেখ হাসিনাকে হত্যার এমন খোলামেলা ষড়যন্ত্র জজ মিয়া নাটক তৈরি করে কিভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছিল তা সবারই মনে আছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়া, বগুড়ার কাহালুতে অস্ত্র ফেলে যাওয়া ইত্যাদি একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্রেরই অংশ ছিল। সর্বশেষ ২০০৬-০৭-এর নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইত্যাদি নিয়েও যা করা হয়েছিল তা ছিল রাষ্ট্র ক্ষমতাকে ৪ দলীয় জোটের হাতে রেখে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে পাকিস্তানের ভাবাদর্শে ঢেলে সাজানো। সেটি শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর দেশকে মৌলিকভাবেই পরিবর্তিত করার একটি মিশন ভিশন দৃশ্যমান হয়। দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হলো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হলো, বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচারের রায় কার্যকর করা হলো। দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো। বাংলাদেশ একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলো। সব সামাজিক সূচকেই বাংলাদেশ এগিয়ে গেল। এ ধরনের অবস্থায় সরকার উৎখাতে বিএনপি-জামায়াত একের পর এক ঘটনা ঘটাতে থাকে। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতকে ঢাকায় সমবেত করে সরকার উৎখাতের চেষ্টা হয়েছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ‘গণঅভ্যুত্থান’ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল, ২০১৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ মাসেও অনুরূপ পরিকল্পনা ছিল। সর্বশেষ ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। তবে ষড়যন্ত্র এখানেই শেষ হওয়ার নয়। শেখ হাসিনাকে উৎখাত বা হত্যা করার নানা ধরনের চেষ্টা দেশি-বিদেশি নানা মহল করছে- এ কারণেই যে তিনি তার পিতার মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে আপসহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার অনুপস্থিতিতে এমন কোনো নেতা নেই যিনি এতটা দৃঢ়তা, সাহস এবং দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে আসবেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে এগিয়ে নেবেন। বাংলাদেশকে ২০২১ এবং ২০৪১ সালের মিশন-ভিশনে উদ্বেলিত করবেন সে রকম নেতাও তো দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশকে ১৯৭৫-এর পর সামরিক শক্তির ছত্রছায়ায় একটি অপশক্তি দেশকে পিছিয়ে নিতে যা যা করণীয় দরকার ছিল তাই করেছে। ১৯৮১ সালের পর শেখ হাসিনা রাজনীতির হাল ধরার পর বাংলাদেশ আবার ১৯৭১-এর মূলধারায় ফিরে যাওয়ার শক্তি ফিরে পেয়েছে। এর কৃতিত্ব অনেকটাই শেখ হাসিনার। তিনি তাই বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান নির্ভরশীল বাতিঘর নেতা, ইতিহাস যাকে স্বীয় আসনে একদিন দেখাবেই।
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্বববিদ্যালয়।