বাড়িতে বাগান করলে হোল্ডিং ট্যাক্স ১০ শতাংশ ছাড়

মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার বছর পূর্তিতে সাঈদ খোকনের সাংবাদিক সম্মেলন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, যে সব বাড়ির মালিক ছাদে, বারান্দায় কিংবা বাসার সামনে বাগান করবে তাদের হোল্ডিং ট্যাক্সের ১০ শতাংশ ছাড় দেয়া হবে। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার একবছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

 

মেয়র বলেন, ঢাকার প্রায় সব স্থানে ভবন নির্মাণের ফলে গাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে কখনও অতিবৃষ্টি, কখনও প্রচণ্ড গরম পড়ছে এবং আবহাওয়া বিরূপ আচরণ করছে। এ সমস্যা নিরসনে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৫২টি ফুটপাতে  গাছ লাগানোর কাজ শুরু করেছে।

 

তিনি বলেন, শুধু দক্ষিণ সিটির একার পক্ষে সবুজ ঢাকা গড়া সম্ভব না। তাই বাড়ির মালিকদের বাগান করার জন্য উত্সাহিত করতে হোল্ডিং ট্যাক্সের ১০ শতাংশ ছাড় দেয়া হবে। অপরিকল্পিত নগর একদমই পছন্দ করি না দাবি করে মেয়র বলেন, দক্ষিণ সিটিতে নতুন ৮টি ইউনিয়ন যুক্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের নাগরিকরাও সিটি করপোরেশনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তিনি আরও বলেন, নতুন ইউনিয়নের মধ্যে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে প্রায় সময়ই জলাবদ্ধতা থাকে। তাই পরিকল্পনা মাফিক কাজ করার চিন্তা-ভাবনা করছি।

 

মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে দক্ষিণ সিটির ৫ হাজার ২৪৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী একযোগে কাজ করছে। আমরা ২০১৬ সালকে পরিচ্ছন্ন বছর ঘোষণা করেছি। সে লক্ষ্যে কাজও করছি। ইতিমধ্যে দক্ষিণ সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য ফেলার ডাস্টবিন স্থাপনা করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।

 

সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হিসেবে ২০১৫ সালের ১৭ মে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত অনেকগুলো কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছেন বলে দাবি করেন মেয়র।

 

তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে বিলবোর্ডমুক্ত করতে পেরেছি। এখন আর কুরুচিপূর্ণ বিলবোর্ড পাওয়া যাবে না। আমরা ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপনের কাজ করছি। সড়কগুলোতে এলইডি লাইট স্থাপন করেছি।

 

সাঈদ খোকন বলেন, টাকার কোনো অভাব নেই, উন্নয়ন থেমে থাকবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটির উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রধানমন্ত্রী আমাকে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এত কাজ কত দিনে করব, সেটাই ঠিক করতে পারছি না। তিনি বলেন, এবারের বর্ষা মৌসুমে শান্তিনগরসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা অর্ধেকে নেমে আসবে। আর আগামী বছর নাগাদ তা পুরোপুরি দূর হবে। রাস্তা ও ফুটপাত উন্নয়ন, ড্রেন নির্মাণ ও পরিষ্কারের ফলে তা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মানিকনগর এলাকায় পানি নিষ্কাশন পাম্প চালু হয়ে যাবে।

 

উচ্ছেদ ও পুনর্দখল প্রসঙ্গে সাঈদ খোকন বলেন, আমি লাখো ব্যানার-ফেস্টুন উচ্ছেদ করেছি। দলের প্রতি আমার টান আছে, কিন্তু পিছুটান নেই। আমি এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখব।

 

ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক

 

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল সোমবার মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন।

 

বৈঠকে হাইকমিশনার জাতীয় পর্যায়ে উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থানীয় পর্যায়ের জনগণের মধ্যে বিস্তৃতকরণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। মেয়র এবং হাইকমিশনার উভয়েই নয়াদিল্লি, কলকাতা বা মুম্বাই যেকোনো একটির সাথে একটি টুইন সিটি এগ্রিমেন্ট করার বা এ ধরনের কোন উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

এছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী এলইডি বাতি, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা, পাবলিক ইউটিলিটির অভিন্ন ক্ষেত্রে উভয় দেশের কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মেয়র ও হাই কমিশনার একমত পোষণ করেন। এ সময় দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, সচিব খান মো. রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।