পদ্মার সঙ্গে সম্পন্ন হবে পায়রা সেতুর নির্মাণ

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে নতুন দ্বার উšে§াচন হতে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্নের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালীর পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ কাজও সম্পন্ন হবে। এতে করে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের মাইলফলক স্থাপিত হবে।
এদিকে এক হাজার ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে পায়রা নদীর ওপর প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কুয়েত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এক হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট এই সেতু নির্মাণের জন্য বরিশাল নগরীতে অফিস নিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের লং চিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি লিমিটেড। একই সঙ্গে কোম্পানির সাইট অফিস, পরীক্ষাগার, পরিদর্শন বাংলো, ডরমেটরিসহ বিশাল ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য পায়রা নদীর উত্তর পাশে লেবুখালী ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় (দুধল মৌ গ্রাম) বালু ফেলার কাজও শুরু হয়েছে। চায়না কোম্পানির সাব কন্ট্রাক্টর ঢাকার এক্সসিএমজি বাংলাদেশ হাউজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর উত্তর প্রান্তে ইয়ার্ড নির্মাণে জন্য গত তিন দিন আগে বালু ভরাটের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সাব কন্ট্রাক্ট কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার আকবর হোসাইন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১১ সালে তাদের প্রাথমিক সার্ভে অনুযায়ী সেতু নির্মাণের জন্য চারশ’ কোটি টাকার ডিপিপি তৈরি করা হয়। কুয়েত সরকার এই সেতু নির্মাণে ঋণ সহায়তা দিতে রাজি হয়। ২০১২ সালে সড়ক বিভাগের বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্টরা পায়রা সেতু নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত প্রাক্কলন তৈরি করে। এতে সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার একশ’ কোটি টাকা। কিন্তু কুয়েতের সঙ্গে প্রথম চুক্তি হয়েছিল চারশ’ কোটি টাকার। ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেলে এ নিয়ে আবারো কুয়েত সরকারের সঙ্গে দেন-দরবার করে বাড়তি টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তার জন্য গত ৪ মে কুয়েত সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ সরকার।
এর আগে ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই এই সেতু নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে সেতু কর্তৃপক্ষ। দরপত্রে এক হাজার ২২ কোটি টাকা দর চুক্তি স্বাক্ষর করে চীনা কোম্পানি। পায়রা সেতু প্রকল্পের ম্যানেজার আহমেদ শরীফ সজিব বলেন, সেতু নির্মাণের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। সেতু নির্মাণের প্রথম ধাপ হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর বরিশাল প্রান্তে সাইট অফিস, পরীক্ষাগার, পরিদর্শনবাংলো, ডরমিটরিসহ বিশাল ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শেষ হলে মাসখানেক পর শুরু হবে সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ।
তিনি জানান, এক হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট পায়রা সেতু নির্মিত হবে ৩২টি স্প্যানের ওপর। নদীর উভয় পাশে এক হাজার ৪৭৫ মিটার নদী শাসন (সিসি ব্লক ফেলে বেড়িবাঁধের আদলে বাধ) ছাড়াও সেতুর দুই প্রান্তে নির্মিত হবে ছয়শ’ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক। চুক্তির স্বাক্ষরের পরবর্তী ৩৩ মাসের মধ্যে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পায়রা সেতুর দায়িত্ব সেতু কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেবে।
দক্ষিণের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত পায়রা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বালু ফেলার কাজ শুরু হলেও সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হতে আরো মাস খানেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। পদ্মা সেতুর কাজ চলমান। পায়রা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু। প্রকল্পের চুক্তি অনুয়ায়ী পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই নির্মাণ সম্পন্ন হবে পায়রা সেতুরও। সেতু দুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উš§ুক্ত হলে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এবং নির্মাণাধীন পায়রা সমূদ্র বন্দরের সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
এর ফলে কোনো ফেরি বিড়ম্বনা ছাড়াই যাতায়াতের ব্যবস্থা হলে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত অবলোকন করার বিরল সুযোগের জন্য সাগরকন্যা কুয়াকাটায় বেড়ে যাবে দেশি-বিদেশি পর্যটক। পায়রা সমুদ্র বন্দরও হয়ে উঠবে কর্মচঞ্চল। এতে দক্ষিণাঞ্চল আর্থ-সামাজিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।