কান ক্ল্যাসিকসে খান আতা

কান সৈকতে বসে ‘মেঘনা’ নদী! উপভোগে বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা খান আতাউর রহমানের অভিনয়। গল্প নয় সত্যি! কান চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসরে ধ্রুপদী ছবির বিভাগ কান ক্ল্যাসিকসে রাখা হয়েছে খান আতা অভিনীত উর্দু ছবি ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ (১৯৫৮)। এর দৃশ্যায়ন হয়েছিল ঢাকা থেকে ৩০ মাইল দক্ষিণে মেঘনা নদীর তীরের এক জেলেপল্লীতে। উৎসবের মূল কেন্দ্র প্যালে ডি ফেস্টিভাল ভবনের সাল বুনুয়েল প্রেক্ষাগৃহে গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় ছিল আইজাই কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাবেরা’র প্রদর্শনী। এ ছবির সহকারী পরিচালক ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান।

খান আতা ও জহির রায়হান— বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের সঙ্গে যুক্ত দুজন কাজ করেছেন এমন ছবি কানে দেখার অনুভূতি অন্য রকম। পাকিস্তানি ছবি বলা হলেও এর পরতে পরতে আছে বাংলাদেশ!

ছবিটিতে জেলে কাসিম চরিত্রে দেখা যায় খান আতাকে। তবে পর্দায় তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে আনিস। তখন তিনি এই নামেই পরিচিত ছিলেন। ছবিটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন কলকাতার তৃপ্তি মিত্র।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ অবলম্বনে কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজের চিত্রনাট্যে তৈরি হয় ছবিটি। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের জেলে সম্প্রদায়ের জীবন যাপন নিয়েই এর গল্প। তারা প্রত্যেকেই নিজের একটি নৌকার স্বপ্ন দেখে। এবারই প্রথম কোনো পাকিস্তানি ছবির প্রদর্শনী হলো কানে।

‘জাগো হুয়া সাবেরা’র মূল নেগেটিভ হারিয়ে গেছে। ছবিটি ও এর শব্দ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে লন্ডনের ডিলাক্স রেস্টোরেশন। তাদের ছবিটি দিয়েছে ছবিটির প্রযোজক নোমান তাসিরের ফাউন্ডেশন। তাঁর ছেলে আনজুম তাসির বাবার নামে ফাউন্ডেশনটি চালান।

গতকাল প্রতিযোগিতা বিভাগে দেখানো হয়েছে ফরাসি অভিনেত্রী মারিয়ম কতিয়াঁ অভিনীত ‘ফ্রম দ্য ল্যান্ড অব দ্য মুন’। এ ছাড়া হলিউড তারকা রাসেল ক্রোর নতুন ছবি শেন ব্ল্যাক পরিচালিত ‘দ্য নাইস গাইস’ দেখানো হয় প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে। এতে আরো অভিনয় করেছেন রায়ান গসলিং।

‘মেথড অ্যাক্টিং’-এর সমালোচনায় রাসেল ক্রো : ‘গ্লাডিয়েটর’ খ্যাত হলিউড অভিনেতা রাসেল ক্রো চলচ্চিত্রের ‘মেথড অ্যাক্টিং’-এর সমালোচনা করেছেন। এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবে দেওয়া বক্তব্যে অভিনেতাদের অনুপ্রাণিত করতে গিয়ে এ পদ্ধতি নিয়ে উপহাসও করেছেন তিনি।

‘মেথড অ্যাক্টিং’ হলো অভিনয়ের একটি কৌশল। এতে একজন অভিনয়শিল্পী নিজের বাস্তবজীবনে তাঁর চরিত্রের মতো করে জীবন যাপন করেন। আর এটি তিনি করেন ক্যামেরার সামনে চরিত্রটি জীবনধর্মী করে তোলার জন্য।

রাসেলের মতে, ভালো অভিনেতা হওয়ার জন্য ‘মেথড অ্যাক্টিং’ অনুসরণ করতে হয় না। নিজেও কখনো এ পদ্ধতি অনুসরণ করেননি বলে জানান জনপ্রিয় এই অভিনেতা।