দিন বদলাচ্ছে, দিন বদলাবেই

আমরা যারা দেশ নিয়ে হতাশ এবং নিয়ত আক্ষেপ করে থাকি, এই লেখা তাঁদের আশার আলো দেখাতে পারে।  নিয়ত আমরা আমাদের ক্ষোভ, দু:খ, কষ্ট ইত্যাদির প্রকাশ ঘটাই আমাদের লেখনীতে, কথায় এবং অভিব্যক্তিতে। `আমাদের দেশটার কিসসু হবে না’, এই বিশ্বাস আমাদের মননে গেঁথে আছে।

পরিবর্তন সবে শুরু হয়েছে।  বদলে যাচ্ছে আমার দেশ, আমার মানুষ, আমার সমাজ। দরকার শুধু আমাদের সচেতনতা, স্বার্থ ত্যাগ এবং বিবেকের জাগরণ।

গত সাত বছর ধরে আমি ঢাকা বিমান বন্দর ব্যবহার করছি।  শুরুর দিকে আমার এন্তার অভিযোগ ছিল এই বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কিন্তু বছর দুয়েক হলো এর পরিবর্তন লক্ষ্য করছি একেবারে কাছ থেকে। দুইজন (আমার জানামতে দুই জন, বেশিও হতে পারে) ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সততা এবং দায়িত্ববোধ বদলে দিচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো। প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো অপরাধীর বিচার এবং সাজা হচ্ছে, দুর্নীতিবাজরা কোনো অপকর্ম করার আগে দশ বার ভেবে নিচ্ছে `ধরা খাবো নাতো’? আর ধরা খেলেই তো ছবি সহ ফেসবুকে পোস্ট।  রাতারাতি সেলিব্রেটি।

যেখানেই অন্যায় সেখানেই এই ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় হাজির, বিনা নোটিশে।  তাত্ক্ষণিক বিচার এবং সাজা। পরিনামে কমে গেছে দালারের অত্যাচার, এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের যাত্রী ভোগান্তি, ভুক্তভোগী যাত্রীরা পাচ্ছেন প্রয়োজনীয় সেবা যা তাঁদের প্রাপ্য। পুরো এয়ারপোর্ট এখন ঝকঝকে তকতকে। পরিবর্তন এসেছে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস এবং সিকিউরিটি বিভাগে।

নানা ধরনের চাপ সহ্য করে, হুমকি ধামকিকে তোয়াক্কা না করে শুধু সততার জোরে দুইজন মানুষ কিভাবে বদলে দিতে পারেন একটি প্রতিষ্ঠানের চেহারা তার জলজ্যান্ত প্রমান এই ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়গণ। একবার তো রীতিমত আন্দোলন হয়ে গেল এই দুষ্ট(!) ম্যাজিস্ট্রেটকে সরানোর জন্য। চাঁদা তোলা হলো উপর ওয়ালাদের ঘুষ দিয়ে যাতে এই লোকদের সরানো যায়।  ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠলো।  অনুসারীরা খেপে গিয়ে বলল, আমারও চাঁদা তুলব আপনাদের রক্ষা করার জন্য।  বিশেষ করে প্রবাসীরা মোটামুটি একজোট হয়ে গেল।

এখন যারা ঢাকা বিমান বন্দর ব্যবহার করেন তাদেরকে বলছি, যে কোনো সমস্যাতে এখানে সাহায্য চাইতে পারেন। ভুল করেও কোনো ব্যক্তিকে উত্কোচ দেবার চেষ্টা করবেন না।  আপনিও কিন্তু বিচারের আওতায় চলে আসবেন তাহলে।

নিয়মিত আপডেট পেতে ফেসবুকের এই পেজটিতে লাইক দিয়ে রাখুন। https://www.facebook.com/magistrates.all.airports.bangladesh/

আর বিমানবন্দর সংক্রান্ত যে কোনো সাহায্য পেতে যোগাযোগ করতে পারেন নিচের নম্বরে।

Airport

 

বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে, একদিন আমাদের সকল বিভাগ গুলো এই ভাবে পরিবর্তিত হবে। কেউ না কেউ শুরু করবেন নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে।  শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই নয়, পরিবর্তিত হতে হবে আমাদের সকলের, যে যার অবস্থান থেকে।

দিন বদলের চেষ্টায় আপনিও অংশ গ্রহণ করুন।  আপনার আমার চেষ্টায় একদিন সত্যিই এই দেশ হয়ে উঠবে অনুকরনীয়। অন্য দেশের এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনে নিজের পাসপোর্ট দেখিয়ে, বুক ফুলিয়ে বলবেন – Yesss. I am Bangladeshi, সেই দিন আর দূরে নয়।

একজন ঘুষ দাতা, আরেকজন গ্রহীতা। ঘুষ দিয়ে একটা অন্যায় কাজ করিয়ে নিতে চাইছিলেন। দু’জনেরই ১৫ দিন করে জেল।

ছবিতে ব্রিফকেইস হাতে যাকে দেখছেন, তিনি ব্রিফকেইসটির মালিক নন। এয়ারপোর্ট বহুতল কার পার্কিং ভবনের সামনে কোন এক যাত্রি তাড়াহুড়োয় মালামাল ভর্তি এই কালো ব্রিফকেইসটি ভুলে ট্রলিতে রেখে চলে যান। সুযোগ বুঝে এই ভদ্রলোক ব্যাগটি নিয়ে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। ছবিতে অস্ত্র হাতে যাদেরকে দেখছেন.. এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ.. তাৎক্ষণিক ব্রিফকেইসসহ তাকে আটক করেন।

 

লাগেজ কেটে ৪ হাজার ডলার চুরি। বের হতে গিয়ে এপিবিএনের হাতে ধৃত। একজনের পায়ের মোজা থেকে উদ্ধার করা হয় ডলার। প্রত্যেকের অর্থদন্ডসহ একবছর কারাদন্ড।

বোর্ডিং গেইটে চাঁদাবাজ দুই সিকিউরিটি। যাত্রির মানিব্যাগ থেকে নিজ হাতে টাকা নিয়ে দয়াকরে মানিব্যাগ ফেরত দিয়েছেন… বুফে স্টাইল!

৪৬,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিয়ে এ বান্দারে হাসাতে পেরেছেন ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব।

যেখানে দাতা-গ্রহীতা দু’পক্ষই লাভবান, সেখানে অপরাধী ধরা কঠিন। অভিযোগকারী পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত মালের নির্ধারিত ওয়েট চার্জ ফাঁকি দিয়ে একটা চক্র কম খরচে মাল বুকিং এর কন্ট্রাক্ট করে থাকে। অনেক দিন ধরে ধরার চেষ্টা করছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়। নিচের ছবির নায়ককে ধরতে পারলেও সাথের দু’জন পালিয়েছে। যাত্রি ধরিয়ে  দিয়েছে। কারণ দুর্ভাগ্যবশতঃ যাত্রিও ক্ষতিগ্রস্ত।

যাত্রি মালামাল নিয়ে ঢোকার পরই এরা পিছু নেয়। প্রলোভন দেখায়। কন্ট্রাক্ট হয়। কিন্তু সেদিন ব্যাটে-বলে হয়নি। এয়ারলাইন্সের পক্ষে জড়িত অফিসার কাউন্টারে নেই। অপেক্ষা করতে করতে কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রী ফ্লাইট মিস করে চাচা মিয়ারে ধরিয়ে দেন।

আপাতঃ দৃষ্টিতে এরূপ অসদুপায়ের ক্ষেত্রে যাত্রিগণ নিজেদের লাভবান মনে করলেও বাস্তবিক পক্ষে কী হচ্ছে? গন্তব্যে পৌঁছার পর প্রায় ক্ষেত্রে যাত্রিকে ওভার-ওয়েট চার্জ পরিশোধ করে মাল ছাড়াতে হচ্ছে। অর্থাৎ একবারের জায়গায় দু’বার, লাভের গুড় পিঁপড়ার। দয়াকরে এদের এড়িয়ে চলুন।

ম্যাজিস্ট্রেট এর তত্বাবধানে দান বাক্সের জঞ্জাল অপসারিত হচ্ছে।

ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের কল্যানে এরা সবাই খুশি নিজেদের ন্যায্য পাওনা ফিরে পেয়ে।

নিচের ছবিগুলো কোনো বিদেশী এয়ারপোর্ট এর নয়।  আমাদের ঢাকা এয়ারপোর্ট।

 

*লেখায় ব্যবহৃত ছবিগুলো `ম্যাজিস্ট্রেটস, অল এয়ারপোর্টস অব বাংলাদেশ’ এর ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া। টেলিফোনে ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের অনুমতি নেয়া হয়েছে।

* বিমানবন্দরের ছবিগুলো গুগল থেকে নেয়া।