যুক্তরাজ্যে প্রথম বাংলাদেশি নারী মেয়র

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একসঙ্গে বাংলাদেশি তিন কন্যার ইতিহাস গড়ার পর এবার প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ব্রিটিশ শহরের মেয়র হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন সিলেটের মেয়ে নাদিয়া শাহ। গত বুধবার রাতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে লন্ডনের কেমডেন কাউন্সিলের মেয়র হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নাদিয়া শাহ কেমডেনের রিজেন্ট পার্ক ওয়ার্ড থেকে লেবার দলের নির্বাচিত কাউন্সিলর। এর আগে এই আসনের কাউন্সিলর ছিলেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক।

নাদিয়া শাহর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা লন্ডনে। চার বোনের মধ্যে নাদিয়া সবার বড়। তাঁর বাবার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া শহরে এবং মায়ের বাড়ি সিলেট শহরে। নাদিয়ার বাবা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রথম জীবনে ব্যাংকিং পেশায় জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যবসায় যুক্ত হন। ষাটের দশকে তিনি যুক্তরাজ্য যান এবং সেখানে ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। নাদিয়ার মা আম্বিয়া ইসলাম লন্ডনের একটি নার্সারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। নাদিয়া তিন সন্তানের জননী।

নাদিয়ার স্বামী জলিল শাহ একজন আইটি বিশেষজ্ঞ এবং কেমডেন কাউন্সিলের ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত। তাঁর গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আশ্রাকাপন গ্রামে।

২০১৪ সালে নাদিয়ার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। লেবার পার্টির রাজনীতি করেই তিনি কেমডেন বরো কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে তিনি ডেপুটি মেয়রও নির্বাচিত হন। বুধবার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ডেপুটি মেয়র পদে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কাউন্সিলর রিচার্ড কটন।

যুক্তরাজ্যে প্রথম বাংলাদেশি নারী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নাদিয়া শাহ বলেন, বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরাই হবে তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ। যুক্তরাজ্যে তাঁর বেড়ে ওঠা, পেশাগত জীবন, রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কেও তিনি আলোকপাত করেন।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাদিয়া বলেন, ‘তাদের সবার সহযোগিতায় আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হই এবং এরই ধারাবাহিকতায় ডেপুটি মেয়র এবং সর্বশেষ মেয়র পদে আসীন হই।’ তাঁর মেয়র নির্বাচিত হওয়া যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

নাদিয়া বলেন, ‘আমি সব সময় বাংলাদেশি মূল্যবোধ লালন করি এবং আমার শেকড় নিয়ে আমি এক্সট্রিমলি গর্ববোধ করি।’ নিজের পরিবারে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং বাংলা সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি বাংলা ভাষা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে আরবির চর্চা রয়েছে বলে তিনি জানান।

নাদিয়া বলেন, ‘সুযোগ পেলেই আমরা বাংলাদেশে যাই। কারণ বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ, ভাষা ও সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্য অনন্য, অতুলনীয়।’

মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় কমিউনিটির জন্য বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে নাদিয়া বলেন, ‘এই অর্জনে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’ যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের সম্মানজনক অর্জনগুলোর মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশের একজন দূত হিসেবে যুক্তরাজ্য তথা বহির্বিশ্বে তিনি কাজ করে যাবেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যে একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় দেশ এবং অন্যদের জন্য রোল মডেল ও উদাহরণ হতে পারে সে বিষয়টি বিশ্বের কাছে তুলে ধরাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।’