নার্সারির গ্রাম বাসুদেবপুর

যশোরের মনিরামপুরের বাসুদেবপুর গ্রামটি নার্সারির গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ গ্রামের মানুষ পতিত জমি, ঘরের পেছনের একচিলতে জায়গা কিংবা মাঠÑ সবখানেই আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, হরীতকী, আমলকীসহ বিভিন্ন ফলদ ও ঔষধি চারা উৎপাদন করে সংসারের অভাব ঘুচিয়েছেন। আর এ কাজে গ্রামের কৃষকের পাশাপাশি স্কুল-কলেজপড়–য়া শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়েছে। বাদ নেই নারীরাও। গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে নার্সারি পরিচর্যা করেন তারাও। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্রÑ এই ৩ মাসে বাসুদেবপুর গ্রাম থেকে অন্তত ২ কোটি টাকার চারা বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা শহরে যায়।
শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে মৃত হরিহর নদীর পাড়ের গ্রাম বাসুদেবপুর। গ্রামে ঢুকতেই রাস্তার দুই পাশজুড়ে অসংখ্য নার্সারি। দেখা যায়, এসব নার্সারিতে কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ আগাছা নিড়াচ্ছেন। আসছে বর্ষা মৌসুমে এসব নার্সারি থেকে ফলদ ও ঔষধি গাছ বিক্রি করতে এ পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। নার্সারিতে কাজ করছিলেন এ গ্রামের রোকেয়া নার্সারির মালিক গাজী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, তাদের গ্রামজুড়েই নার্সারি। এখানে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, হরীতকী, আমলকী, জাম, বেল, লেবু, সফেদা মেহগনি, রেইন্ট্রিসহ বিভিন্ন গাছের চারা উৎপাদন করা হয়। এসব চারা গ্রামের বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে ট্রাক ও পিকআপে করে পাইকারি দরে চারা কিনে খুচরা বিক্রি করেন। মিজানুর রহমান আরও বলেন, এক সময়ের অভাবপীড়িত এ গ্রাম থেকে এখন অভাব দূর হয়েছে। নার্সারিতে কাজ করা উপজেলার পলাশী কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র মাহফুজুর রহমান জানান, পড়াশোনের মধ্যেই নার্সারিতে চারা উৎপাদন ও দেখভাল করেন। তার মতো অনেক শিক্ষার্থী এ কাজ করেন। এ গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা, নাজনীন নাহারসহ অনেকে বলেন, নার্সারি থেকে আসে বাড়তি আয়, যা দিয়ে সারা বছরের পরিবারের খরচ চলে। নার্সারি করেই তারা আজ স্বাবলম্বী। তাই বাড়ির কাজের ফাঁকে পুরুষদের নার্সারির কাজে সহায়তা করেন। বাসুদেবপুর বাজারে মায়ের দোয়া নার্সারির বিক্রয় কেন্দ্রে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বাবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, ২০ বছর ধরে এ গ্রামের মানুষ নার্সারি ব্যবসায় নিজেদের সম্পৃক্ত করে রেখেছেন। এতে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। তিনি বলেন, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র মাসে চারার অধিক চাহিদা থাকে। এই তিন মাসে এ গ্রাম থেকে অন্তত ২ কোটি টাকার চারা বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা শহরে যায়।
নার্সারি ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে লিচু, সফেদা, কামরাঙাসহ বিভিন্ন ফলের চারা আকারভেদে ৩০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর গোলাপ, জবা, জুঁই, চামেলি, হাসনাহেনাসহ বিভিন্ন ফুলের চারাও প্রায় একই দামে বিক্রি হয়। তবে চারা উৎপাদনে প্রশিক্ষণ কিংবা বাজারজাতকরণে সরকারিভাবে তারা কোনো সুবিধা পান না। এজন্য তারা সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।