শ্রীলঙ্কার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ জাদুঘরে ‘বাংলাদেশ গ্যালারি’র উদ্বোধন

শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ জাদুঘর পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ জাদুঘর। বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও দর্শনকে এশিয়া তথা পৃথিবীব্যাপী তুলে ধরতে ২০১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে ইতিপূর্বে বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংবলিত ১৬টি দেশের গ্যালারি ছিল। দেশগুলো হলো- শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, জাপান, চীন, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ভুটান ও আফগানিস্তান। এ তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম।
গত মঙ্গলবার বিকেলে শ্রীলঙ্কার এ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ জাদুঘরে ‘বাংলাদেশ গ্যালারি’ উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মোমবাতি জ্বালিয়ে ও ফিতা কেটে তিনি এর উদ্বোধন করেন। ক্যান্ডির বৌদ্ধ জাদুঘরে পৌঁছলে সংস্কৃতিমন্ত্রীকে শ্রীলঙ্কার প্রথা অনুযায়ী উষ্ণ সংবর্ধনা দেয়া হয়। উদ্বোধন পরবর্তী সময়ে গ্যালারি সংলগ্ন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান, প্রদীপ নীলঙ্গ দেলা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ক্যান্ডি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা, সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ক্যান্ডিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সহস্রাব্দ প্রাচীন ও ঐহিত্যমণ্ডিত। বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নিদর্শনেও বাংলাদেশ সমৃদ্ধ। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতি ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। ক্যান্ডির আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ জাদুঘরে বাংলাদেশ গ্যালারি স্থাপন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা এবং এর মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক দলটি গত ৯ মে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং বর্তমানে দলটি শ্রীলঙ্কা অবস্থান করছে। এ দলে রয়েছেন দুজন কর্মকর্তা, দুজন কণ্ঠশিল্পী, ১০ জন নৃত্যশিল্পী ও চারজন যন্ত্রশিল্পী। কর্মকর্তারা হলেন- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উপপরিচালক শামিমা আক্তার জাহান ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ডিসপ্লে অফিসার মো. ইলিয়াস খান। কণ্ঠশিল্পীরা হলেন- ভগিরত মালো ও অঞ্জলি ঘোষ দুর্গা। নৃত্যশিল্পীরা হলেন- তামান্না রহমান, সুব্রত কুমার দাস, নাজিবা মেহজাবিন, ফাতেমা রহমান ফারজিন, হৃদিকা সামরোজ সাবা, রুবাসশা মরিয়ামা খান, বিধান চন্দ্র সিংহ জি.এফ মাহতামিমুল হক, প্রান্তিক দেব ও বিশাল সিংহ। যন্ত্রশিল্পীরা হলেন- ইফতেখার হোসেন সোহেল (কিবোর্ড), অনুপম বিশ্বাস (দোতারা), সোহরাব (ঢোল) ও জালাল আহমেদ ( বাঁশি )।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ক‚টনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি হয়েছে এ বছর। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের শ্রীলঙ্কা সফর এ ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দুদেশের মধ্যে চলমান সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রমের আওতায় এটি বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের প্রথম শ্রীলঙ্কা সফর।
গতকাল বুধবার ক্যান্ডির একটি অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দল তাদের দ্বিতীয় ও শেষ পরিবেশনা উপস্থাপন করে। সংস্কৃতিমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।