বদলে যাচ্ছে বাকুশাহ হকার্স মার্কেট

বহুতল বিপণি বিতানে থাকবে দ্বিতল কারপার্কিং ব্যবস্থা, সিনেপ্লেক্স ও ফুডকোর্ট

বদলে যাচ্ছে রাজধানীর নীলক্ষেতে অবস্থিত বাকুশাহ হকার্স মার্কেটের চিত্র। পুরনো মার্কেট ভেঙে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল বিপণি বিতান। থাকবে দ্বিতল পার্কিং ব্যবস্থা। এতে নীলক্ষেত এলাকার যানজট সমস্যা কমবে বলে মনে করছেন বাকুশাহ হকার্স মার্কেট সমবায় সমিতি। সিনেপ্লেক্স, ফুডকোর্টও থাকবে ১৫ তলা বিশিষ্ট নতুন এই ভবনে।

 

জানা যায়, এই মার্কেটে দোকান আছে ১ হাজার ১০০টি। তবে বর্তমান সদস্য রয়েছেন ২ হাজার জন। সদস্য হয়েও দোকান ব্যবহার করতে পারছেন না বাকিরা। এই সমস্যা সমাধানে ২০১০ সালে এই মার্কেটে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে হযরত বাকুশাহ হকার মার্কেট সমবায় সমিতি। ২০১৩ সালে এজি গ্রীন প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের সঙ্গে এই সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়। সেই সময় সাইনিং মানি হিসাবে প্রত্যেক সদস্যকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে মোট ২৫ কোটি টাকা দেয়া হয়।

 

এই মার্কেটটি ঢাকার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবই এবং বিভিন্ন সহায়ক বইয়ের বড় বাজার হিসাবে পরিচিত। বই ছাড়াও ফটোকপি, কম্পোজ, বাঁধাইসহ শিক্ষা-উপকরণের অনেক দোকান আছে এখানে।

 

গত সোমবার বহুতল ভবন করার লক্ষ্যে মার্কেটের পুরনো দোকান ভাঙার কাজ শুরু করে বাকুশাহ হকার্স মার্কেট সমবায় সমিতি। তবে অনেক ব্যবসায়ী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানান, কোনো সময় না দিয়েই দোকান ভাঙা শুরু হয়। এ সময় মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ী ও ভাড়াটে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়।

 

বাকুশাহ হকার্স মার্কেট সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল আউয়াল জানান, গত ডিসেম্বরে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য ভাড়াটে ব্যবসায়ীদের মালপত্র সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের অনুরোধে এ পর্যন্ত তিন দফা সময় বাড়ানোও হয়। গত মাসে চিঠির মাধ্যমে সমিতির সব সদস্য ও ভাড়াটে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের বিষয়ে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল।

 

আবদুল আউয়াল জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দুই ভাগে পুরো মার্কেট ভেঙে ফেলা হবে। প্রথমে পেছনের গোডাউন ও খাবারের দোকানগুলো ভাঙা হবে। এরপর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অফিস বানিয়ে কাজ শুরু করবে। তবে মার্কেটের ভাড়াটে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফ্রেন্ড অ্যান্ড ফ্রেন্ডস বহুমুখী ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। তবে সমিতির কাছে তারা সময় চেয়েছিল। তবে সমিতি কাউকে কোনো চিঠি না দিয়ে এবং পূর্ব ঘোষণা ছাড়া প্রথমে বিদ্যুত্-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এরপর মার্কেট ভাঙার কাজ শুরু হয়। অনেক দোকানে মালপত্র ছিল। জোরজবরদস্তি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান ভাঙার কাজ শুরু হয়। তারা সমিতির কাছে অন্তত ছয় মাস সময় দাবি করেন।

 

এই দাবি প্রসঙ্গে বাকুশাহ হকার্স মার্কেট সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দাউদ উল্লাহ বলেন, আমরা ভাড়াটে ব্যবসায়ীদের সংগঠনের দাবির কথা শুনেছি। তাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামনের রমজান মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দোকান সরানোর অনুরোধ জানান তিনি।