লাভের ফসল কচু

ভালো ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলে কচু চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষে লাভের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে। আর কচু চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। তাই মৌখিক, মান, জাতি ও লতিরাজ নামে উচ্চ ফলনশীল জাতের কচুর চাষ রাজশাহী অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রাসরণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রাজশাহী জেলায় ৪৬৮ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ১০০ হেক্টর বেশি জমিতে কচু চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৫৬৮ হেক্টর জমিতে কচু চাষ করা হয়েছে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা কেওয়াপাড়া গ্রামে অর্ধশতাধিক চাষি চলতি মৌসুমে কচু চাষ করেছেন। তাদের একজন সেকান্দার আলী জানান, আমন ধানের দাম না পেয়ে লোকসান গুনতে হয়। তাই ধানের পরিবর্তে বাড়ির পাশে ২৫ শতক জমিতে কচু চাষ করেছেন। প্রচুর ফলন হয়েছে। বিক্রি করে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি। মোহনপুর উপজেলার ধুরইর গ্রামের কৃষক সেরাজ উদ্দিন জানান, সবজির মধ্যে কয়েক বছরে কচুর চাষ দ্বিগুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, অন্য সবজির চেয়ে কচুর ফলন ভালো হয় এবং বাজারে আলুর চেয়ে দাম ভালো। তাই চলতি মৌসুমে তিনি অন্য সবজির পাশাপাশি তিন বিঘা জমিতে কচু চাষ করেছেন। একইভাবে এ উপজেলার অনেক কৃষক কচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
জেলার তানোর উপজেলার মু-ুমালা পৌর এলাকার ময়েনপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান, গত বছর এক বিঘা জমিতে লতিরাজ জাতের কচু চাষ করেছিলেন। বীজসহ উৎপাদন খরচ পড়েছিল ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। ফলন হয়েছিল ৬০ মণ। প্রতি মণ কচু ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। খরচ বাদে এক বিঘা জমি থেকে তিনি ৪০ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। তিনি আরও জানান, গত বছরের লাভের টাকায় চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে কচু চাষ করেছেন।
তানোর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমশের আলী জানান, জেলার মোহনপুর, চারঘাট উপজেলায় কচু চাষ বেশি হতো। এ ফসলে অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভ। তাছাড়া বাজারে আলুর চেয়ে এখন কচুর দাম বেশি। তাই কচু চাষে বেশ আগ্রহ বাড়ছে রাজশাহী অঞ্চলে কৃষকের মাঝে। তাই চলতি মৌসুমে মোহনপুর, চারঘাট উপজেলা ছাড়াও বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার চাষিরা অন্য ফসল বাদ দিয়ে কচু চাষ করেছেন। আগামীতে এ অঞ্চলে কচু চাষ আরও বাড়বে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, কচু চাষে কৃষক অন্যান্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভ পাওয়ায় দিন দিন এ ফসলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।