দিনাজপুরে লিচুর বাগানে ১ লাখ নারীর ১ মাসের কর্মসংস্থান

এক লাখ নারীর এক মাসের কর্মসংস্থান হয়েছে দিনাজপুরের লিচু বাগানগুলোতে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা লিচুর বাগানগুলোতে এ নারীরা এখন লিচু বাঁধাইয়ের কাজে ব্যতিব্যস্ত।
গত ৯ মে শুরু হওয়া এই কর্মসংস্থান চলবে আগামী মাসের ১১ জুন পর্যন্ত। মহিলারা গড়ে প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে এই এক মাসে সাড়ে সাত হাজার করে টাকা আয় করবেন। সঙ্গে তারা পরিবারের খাবার জন্য পেয়ে থাকেন পর্যাপ্ত লিচু।
দিনাজপুরে লিচু মৌসুম শুরু হয়েছে। বাগানীরা তাদের বাগানের লিচু ভাঙতে শুরু করেছেন। বাজারে আসতে শুরু করেছে মাদ্রাজি লিচু। এরপর বাজারে একে একে আসবে বেদানা, তারপর আসবে চায়না-১, চায়না-২ ও চায়না-৩ এবং লিচুর রাজা বোম্বাই। সবার শেষে বাজারে আসবে কাঁঠালি লিচু। এ ছাড়াও লিচুর আরও কয়েকটি জাত রয়েছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার মাটি ও জলবায়ু লিচু
উত্পাদনে উপযোগী হওয়ায় দিনাজপুরে লিচু চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে। দিনাজপুরে ৪ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৮টি বাগানে ৬ লাখ ৪৫টি গাছে লিচু উত্পাদন হয়েছে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ টন।
লিচু বাগানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনাজপুরের বাগানগুলোতে লিচু ভাঙা শুরু হয়েছে। এই বাগানগুলোতে মহিলারা লিচু বাছাই ও বাঁধার কাজ করছেন। একেকটি বাগানে ১৫ থেকে শুরু করে ৩০ জন পর্যন্ত মহিলা কাজ করে থাকেন। যারা গড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫০ টাকা করে মজুরি পেয়ে থাকেন। কাজ চলবে এক মাস। মহিলারা লিচু বাছাই ও গুনে গুনে লিচু বেঁধে দিয়ে এক মাসে কমপক্ষে সাড়ে সাত হাজার টাকা আয় করবেন। যা তাদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
লিচু বাগানী ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, লুত্ফর রহমান ও জাকির হোসেন জানান, লিচুর এই মৌসুমে কমপক্ষে এক লাখ মহিলার এক মাসের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে।
সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকায় লিচু বাগানে কাজ করতে আসা শাহানারা, মৌসুমী, ছাবিয়া, মর্জিনা, সুমি ও জাহেদা জানান, এই কাজ তারা প্রতিবছর করে থাকেন। সংসারের কাজের পাশাপাশি তারা এই কাজ করে থাকেন। সকাল ৯টায় এ নারীরা লিচু বাগানের কাজে যোগ দেন আর দুপুর ২টার দিকে কাজ শেষ করে চলে যান। বিকেলে লিচু ভাঙলে বাগানীরা খবর পাঠায় বা মোবাইলে জানালে তারা বিকেলে এসে কাজ করে। অন্যথায় বিকেলে তাদের কাজ করতে হয় না। পাশাপাশি যেসব লিচুর বোঁটা ছুটে যায়, ফেটে যায় বা কালো দাগ থাকে সেসব লিচু বাগানীরা তাদের দিয়ে দেন। মর্জিনারা জানান, তারা এই কাজ খুব স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করে থাকেন।
দিনাজপুর কৃষি অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে মহিলারা লিচুর বাগানে কাজ করছেন। মহিলাদের মজুরি কম হওয়ায় এবং তাদের কাজ পরিচ্ছন্ন হওয়ায় বাগানী ও ব্যবসায়ীরা মহিলা শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাতে বেশি আগ্রহী।