সরদার ফজলুল করিম আমাদের বাতিঘর

বাঙালি জাতির বাতিঘর সরদার ফজলুল করিম আমাদের সবার সরদার ভাইয়ের জন্মদিন চলে গেল মে’র ১ তারিখে। তার শুভানুধ্যায়ী, ভক্ত, সুধীজন ও তার বইয়ের পাঠকরা মিলে ১০ মে, ২০১৬ তে দিবসটি পালন করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সরদার ভাইয়ের সঙ্গে যারা ব্যক্তিগতভাবে অথবা তার লেখার মাধ্যমে পরিচিত হয়েছিলেন বা হয়েছেন তাদের সকলের মধ্যে এমন একটা অনুভূতি জাগে- জীবনের যে কোন দিক, তা রাজনৈতিক-সামাজিক-ইতিহাস-দর্শন-সাহিত্য-বিমূর্ত-সভ্যতার বিবর্তন- যাই হোক না কেন- সহজ-সরল, ছোট ছোট কথায় বা লেখায় তিনি তা প্রকাশ করতেন। আমাদের মনে পড়ে তার ‘প্লেটোর রিপাবলিক’ গ্রন্থের উৎসর্গে তিনি সমাজ-জীবনের সংগ্রামী মানুষদের উদ্দেশে লেখেন- ‘১৯৯২ : বিংশ শতকের যবনিকামুহূর্ত। তবু কালনিরবধিতে ক্ষণকালের এ ইতিহাস। মানুষের সমাজ-জীবনের মৌলিক সমস্যার কোন সহজ সমাধান নেই। সমস্যাকীর্ণ বাংলাদেশের সমাজজীবনের যে সংগ্রাম কুশীলবরা এই প্রত্যয়টির ওপর আস্থা রাখেন, তাদের উদ্দেশ্যে_ সরদার ভাইকে স্মরণ করতে গিয়ে আজ বেশি করে মনে হচ্ছে সব পাওয়ার জন্য আমরা যেখানে সদাই ব্যস্ত সরদার ভাই সেখানে হাতের মুঠোয় পেয়েও সে সবের প্রতি কোন আকর্ষণ অনুভব করেননি।

এই সঙ্গে সরদার ভাইয়ের চলে যাওয়ার সময়টা মনে পড়ছে। ২০১৪ সালের ১৫ জুন ঢাকার একটি ক্লিনিকে তিনি পরলোকগমন করেন। তার আগে বেশ কিছুদিন থেকে তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল। তবু তিনি আমাদের মাঝে ছিলেন। স্বল্প হলেও কথা বলতেন। নিকট অতীতের কিছু কিছু স্মৃতি ভুলে যেতেন। কিন্তু পুরনো অনেক স্মৃতিই তার মনে অমস্নান ছিল। আমাদের কাছে সেসব ছিল এক মহামূল্যবান সম্পদ। তেমনটা আর যাদের কাছে পাওয়া যেত তারা তো প্রায় সবাই একে একে চলে গেছেন। চলে যাচ্ছেন।

সরদার ভাইয়ের জন্ম বৎসরটা স্বাভাবিকভাবে আমার স্মরণে থেকে গেছে। তিনি ছিলেন আমাদের পারিবারিক বন্ধু, এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল গত শতাব্দীর পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। তিনি ছিলেন আমার মায়ের থেকে বছর খানেকের বড়। আম্মার জন্ম ১৯২৬। আর সরদার ভাই জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৫ সালে। তার জন্ম তারিখটা যে একবার জেনেছে সে কখনও ভুলবে না। ১ মে তারিখে তার জন্ম।

সরদার ভাই কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার শৈশব জীবনের কথা স্মরণ করতে গিয়ে নিজ পরিবারকে তিনি মধ্যবিত্ত না বলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত বলেছেন। তাদের পরিবারে সারা বছরের খোরাক কখনও ঠিকঠাক মতো জোগাড় হতো, কখনও বা কিছু-কম পড়ত। তিনি ছোট বেলায় বাজারে গিয়ে তরিতরকারি বিক্রি করেছেন। বাবার সাথে কৃষিকাজে লাঙ্গল ধরেছেন, মইয়ে উঠেছেন। তবে জীবনের সত্যিকারের শিক্ষা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দেশের মাটির প্রতি ভক্তি তার মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিলেন তার নিরক্ষর বাবা-মা। সরদার ভাই লিখেছেন, ‘মা প্রতিদিন রান্নার বরাদ্দ চাল থেকে এক মুঠো চাল একটা ভান্ডে উঠিয়ে রাখতেন। এ চালটা থেকে ফকির-মিসকিনদের দান করা হতো। আমার মা-বাবা নিরক্ষর এবং একেবারে মাটির মানুষ ছিলেন। তাদের মতো লোকের কথা ছিল না আমাকে স্কুলে পাঠানোর। কিন্তু তারা আমাকে স্কুলে পাঠিয়েছেন। সেজন্য আমি এই মাটির মানুষগুলোর কাছে ঋণী এবং এই দেশের মাটির প্রতি আমার মনের মধ্যে একটা ভক্তি জেগে আছে।’ (সেই সেকাল : কিছু স্মৃতি কিছু কথা- সরদার ফজলুল করিম পৃষ্ঠা : ১৪)

সরদার ভাইয়ের কথা বলতে গেলে নিজের কথা এসে যাবে। আমাদের মতো সাধারণের জীবনে ‘নিজ’ ছাড়া আর বাড়তি কি বা আছে। তবে তাকে স্মরণ করতে গিয়ে তার পুরো নাম তো উচ্চারণ করতে পারছি না। আমি তো জানি সরদার ভাই তার নাম। যেমন তিনি তার মায়ের নাম জানেন মউজ আলীর মা। মউজ আলী মায়ের বড় ছেলে। নাম যদি সরদার ভাই-ই হবে তবে তিনি যেখানে আমার আব্বাকে ইদ্রিস (সাংবাদিক-সাহিত্যিক কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস) ভাই ডাকতেন সেখানে কীভাবে তিনি আমার ও আমার ছেলেদের সরদার ভাই হন? নিশ্চিয় হতে পারেন। কারণ তিনি আমাদের সকলের সরদার ভাই।

এই বিনয়ী মানুষটি ছাত্র হিসেবে নিজের সম্বন্ধে বলেছেন তিনি ব্রিলিয়ান্ট নন তবে মোটামুটি ভালো। অথচ শিক্ষাজীবনে সকল পরীক্ষায় তিনি ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করেছেন। বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ১৯৪০ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাস করেন এবং জেলাভিত্তিক স্কলারশিপ পান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন এই পরীক্ষায় পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনে সর্বোচ্চ নাম্বার পান। ভর্তি হন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে (বর্তমানের ঢাকা কলেজ তখন এই নামে ছিল)। স্কুল জীবনের সুখময় স্মৃতি এবং অনন্য সাধারণ গুণবান শিক্ষক-আত্মীয়জন তার পরবর্তী জীবন গঠনে যেমন বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল তেমনি কলেজ জীবনের একইরূপ স্মৃতির কথা তিনি তার নানা লেখায় প্রকাশ করেছেন। ১৯৪২ সালে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। এ সময় তিনি অন্যান্য ক্লাসের পাস দিয়ে ঘুরতেন এবং বিভিন্ন শিক্ষকের লেকচার শুনতেন। অধ্যাপক হরিদাস ভট্টাচার্যের লেকচার শোনার পর তিনি দর্শন শাস্ত্র পড়ার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ফলে ইংরেজি বিভাগ ছেড়ে তিনি দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে অনার্স ও এমএ পরীক্ষা তিনি প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

সরদার ভাইয়ের ছাত্রজীবনে বিশ্বে ও বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা তাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করেছিল। একটি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ। অন্যটি বাংলা ১৩৫০ ইংরেজি ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ যা ৪৩-এর মনন্তর নামে পরিচিত। সরদার ভাই জন্মগতভাবে ছিলেন দার্শনিক। সেই ৪৩-এর মনন্তরের সময়ের কথা তিনি এভাবে বলেছেন, ‘আমি তখন সক্রেটিস, প্লেটো, হেগেল- এ সমস্ত নিয়ে পড়াশুনা করছি। একদিন আমার কমরেড এসে বলছে, ‘তুমি কী এত লেখাপড়া করো? হেগেল তোমাকে কোথায় নিয়ে যাবে? তোমার মা-বোনেরা যেখানে মারা যাচ্ছে সেখানে তুমি হেগেল পড়ে কী করবে? আমি নিজেও নিজেকে প্রশ্ন করেছি, এই পাঠ দিয়ে আমি কোথায় যাব? আমাকে ওরা বলছে, ‘তুমি নয়া বাজারে গিয়ে লঙ্ঘরখানায় ডিউটি দাও। সেখানে গিয়ে দেখ তোমার মা-বোনেরা এসে হাজির হয়েছে। তাদের তুমি খাবার বিতরণ করে দাও। তুমি সেখানে থাকলে অন্যায়-অত্যাচার কম হবে। ঐ দেখ একটা মেয়েকে ধরে পিটাচ্ছে। সুতরাং আমি আমার হেগেলের কাছে থাকতে পারলাম না। পরদিন আমাকে যেতে হলো নয়া বাজারে সিরাজদ্দৌলা পার্কে ৪৩-এর দুর্ভিক্ষের সময় আমি বন্ধুদের সঙ্গে গ্রামেও গিয়েছি রিলিফের কাজে। (প্রাগুক্ত : পৃষ্ঠা : ১৯)

এমএ পাস করার পর মাত্র ২১ বৎসর বয়সে তিনি লেকচারার হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের যোগদান করেন। এ সময় স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে বিলেত যাওয়ার সুযোগ ঘটে সরদার ভাইয়ের। ইতিমধ্যে কমিউনিস্ট পার্টির কাজের সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। ফলে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য তার বিলেত যাওয়ার আর হয়ে উঠে না। আমাদের কাছে বিস্ময়কর ও অভাবনীয় মনে হলেও তার কাছে বিষয়টা কত সহজ ছিল তা তার নিজের ভাষায় শুনুন, ১৯৪৫ বা ৪৬ এ একটি অফার আসে আমার কাছে বিলাত যাবার জন্যে। একটা স্কলারশিপ ছিল ‘রিজার্ভ ফর মুসলিমস’। আমাকে বলা হলো কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে এসে তুমি ইন্টারভিউতে অ্যাটেন্ড কর।

ইন্টারভিউ কার্ড নিয়ে আমি কলকাতায় যাই। কলকাতায় গিয়ে আমি রাইটার্স বিল্ডিযে না গিয়ে প্রথমে গেলাম কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে। ৮নং ডেকার্স লেনে, এটাই ছিল কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে। ৮নং ডেকার্স লেনে, এটাই ছিল কমিউনিস্ট পার্টির হেড কোয়ার্টার। সেখানে মুজাফফর আহমেদ (যাকে আমরা কাকাবাবু বলতাম), নৃপেন চক্রবর্তী ৯ দিন পরে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, আমার খুবই প্রিয় লোক আর কি)। আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘আমি তো বিলেত যাচ্ছি’। আমি ফিলসফিতে এমএ ও অনার্সে প্রথম শ্রেণী পেয়েছি, আমি মুসলিম। স্কলারশিপটা ফিলসফির জন্য রিজার্ভড এবং মুসলমানদের জন্যে রিজার্ভড। সুতরাং স্কলারশিপটা আমারই ছিল।

আমার আশ্চর্য লাগে, উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকটা আমার মধ্যে একেবারে খালি রয়ে গেছে। বিলেত যাব, পাস করে আসব-এসব নিয়ে ভাবতাম না। আমি যেই বললাম, আমি বিলেত যাবো, ওরা শুনে হাসতে হাসতে ঠাট্টার ছলে বললেন, আপনি বিলেত যাবেন আর আমরা এখানে বসে ভেরেন্ডা ভাজবো? আমি বললাম, আমাকে কি করতে হবে? ওরা বললেন, কাঁথা-কম্বল নিয়ে পার্টি অফিসে চলে আসেন। কি করতে হবে বোঝেন না? তো কাঁথা-কম্বল নিয়ে পরদিন আমি পার্টি অফিসে যাইনি কিন্তু ইন্টারভিউ কার্ডটা ছিঁড়ে ফেলেছিলাম।

ইতিহাসের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন সাহেব (সম্ভবত তখন ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট) ছিলেন ইন্টারভিউ বোর্ডের অন্যতম সদস্য। তিনি আমার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেছিলেন। কলকাতা থেকে ফিরে এসে আমাকে জিজ্ঞাস করেছিলেন, সরদার কেন আপনি গেলেন না? হোয়াই ডিড ইউ নট গো? আমি বললাম, না স্যার আমি দেশ ছেড়ে যেতে আগ্রহী নই। এটা একটা ঘটনা। মাহমুদ হোসেন সাহেব আশ্চর্য হয়েছিলেন। নিশ্চিত স্কলারশিপ পেয়েও বিলাত যেতে চায় না- এ কেমন ছেলে। বলে রাখা ভালো যে এই ড. মাহমুদ হোসেন ভারতের এক সময়ের রাষ্ট্রপতি জাকির হোসেনের ছোট ভাই।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কমিউনিস্ট পার্টির কাজের প্রয়োজনে সরদার ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার কাজ থেকে ইস্তাফা দেন। তার পদত্যাগপত্র পেয়ে বিভাগীয় প্রধান বিস্মিত হয়ে বলেন, হোয়াট ডু ইউ মিন বাই ইট? সরদার ভাই তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তিনি যেমন সহজে শিক্ষক হয়েছিলেন তেমনি সহজে শিক্ষকতার কাজ ছেড়েও দিয়েছিলেন। অধ্যাপক হরিদাস ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছিলেন, আই হ্যাভ নেভার সিন ও বয় লাইক হিম। অর্থাৎ এ ছেলে একটু অন্য পথে হাঁটে।

সরদার ভাইয়ের রাজনৈতিক জীবন, বারবার কারাবরণ আন্ডার গ্রাউন্ড জীবন, কারাগারে দীর্ঘদিন অনশন, নানা নির্যাতন ভোগ ইত্যাদি বিষয়ে পৃথকভাবে লেখার ইচ্ছে রইল।

আমার জীবনে সরদার ভাইয়ের লেখার প্রভাবের কথা আমাকে বারবার স্মরণ করতে হবে। বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছি জীবনের চলার পথে যখনই অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে, হতাশা ছেয়ে ধরেছে অথবা বিষাদের ঘোরে আচ্ছন্ন হয়েছি তখনই সরদার ভাইয়ের লেখা হাতে তুলে নিয়ে জীবনের আনন্দ ফিরে পেয়েছি। সরদার ভাইকে স্মরণ করতে গিয়ে নিজের কথা এসে যাচ্ছে। উপায় নেই, ছোটখাটো এই মানুষটি জীবনকে সুন্দর করার জন্য প্রতিনিয়ত আমাকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। আরও দশজনের মতো দীর্ঘ চাকরি জীবনে নানা আলো-ছায়া-অন্ধকারের মধ্য দিয়ে পার হতে হয়েছে আমাকেও। কখনও বা বিবেকের কারণ জীবন হয়ে উঠেছে অসহনীয়। হতাশায় ভরে গেছে মন-প্রাণ। সে সময় চোখের সামনে খুলে ধরেছি অধ্যাপক বেনজামিন জোয়েটকৃত ‘উরধষড়মঁবং ড়ভ ঢ়ষধঃড় বইয়ের সরদার ভাইয়ের করা অনুবাদ ‘প্লেটোর সংলাপ। সক্রেটিসের বিচার এবং মৃত্যুর কাহিনী সংবলিত এ বইয়ের এক এক করে পাতা এগিয়েছি আর মন থেকে ভয়-সংশয়-আতংক দূর হওয়া শুরু হয়েছে কীভাবে যেন। একদিন সরদার ভাই আমাদের অফিসে এলে তাকে সে কথা জানাই। তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তখন তিনি আর একটি কাহিনী বলেন। ব্যাংকে চেক ভাঙানোর জন্য তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাউন্টারের কাছে পেঁৗছলে ব্যাংক কর্মচারীটি জিজ্ঞেস করলেন তিনি ‘প্লেটোর সংলাপ’ লেখক সরদার ফজলুল করিম কিনা? জানার পর বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে সরদার ভাইয়ের মনকে ভরিয়ে দিলেন। এমনই অনেক আপনার বইয়ের আপনার না জানা পাঠক নিশ্চয় আপনাকে স্মরণ করবে চিরকাল সরদার ভাই।

সরদার ভাইয়ের লেখার বিষয় ও গভীরতা আমাদের চিন্তায় সম্পূর্ণ বা ‘জ্ঞানকোষ’ যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘দর্শনকোষ’-১৯৭৩ সালে তিনি বাংলায় না লিখতেন তবে জীবন ও পৃথিবীকে জানতে বাঙালি পাঠককে অপেক্ষা করতে হতো আরও অনেক দিন।