‘মৎস্য বর্জ্যে হাজার কোটি টাকার রপ্তানি’

চিংড়িসহ অন্যান্য মাছের বর্জ্য রপ্তানি করেই বছরে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে অভিমত দিয়েছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাজধানীতে এক কর্মশালায় এজন্য ‘সঠিক নীতি সহায়তা’র উপর গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, দেশে বছরে ৯৩ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য ও চিংড়ি বর্জ্য তৈরি হলেও ব্যবহার করা যায় মাত্র ৯০০ টন। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন মৎস্য বর্জ্যের দাম হাজার ডলার।

কর্মশালায় মৎস্য অধিদফতরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯৩ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়। এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য আমাদের বোঝা। আমরা এর মাত্র ৯০০ টন ব্যবহার করতে পারি। বাকি বর্জ্যের সদ্ব্যবহার করতে পারি না। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে এক টন বর্জ্যের দাম এক হাজার মার্কিন ডলার। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে এ বর্জ্য বিক্রি করেই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। তবে এজন্য সরকারকে সঠিক নীতি সহায়তা দিতে হবে।

এ খাতকে কাজে লাগাতে পারলে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব- মন্তব্য করে তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় এই খাতের বিস্তার সম্ভব হলে দেশজুড়ে এ শিল্পে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। ‘মৎস্য ও চিংড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এই কর্মশালা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ফিশ ফাউন্ডেশন (বিএসএফএফ) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফিয়া ওবার্ট, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান।

চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান মৎস্য বর্জ্য রপ্তানি করছে জানিয়ে বিএসএফএফ চেয়ারম্যান বলেন, কিন্তু চীন বা ভিয়েতনাম যেরকম রপ্তানি মূল্য পাচ্ছে আমরা সেরকম পাচ্ছি না।

কর্মশালায় মৎস্য বর্জ্য সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর বলেন, এজন্য কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

দক্ষ জনবল, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, কাঁচামালের সহজ প্রাপ্যতা এবং সংগ্রহ ব্যয় নিয়েও ভাবনার বিষয় আছে। তবে এ সবের সমন্বয় করতে পারলে এ শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, মৎস্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ওষুধ, চামড়া এবং মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর এ খাতকে এগিয়ে নিতে মৎস্য অধিদফতর, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠন, জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি (ইউএনইউ-এফটিপি), আইসল্যান্ড এবং বিএসএফএফ এর সমন্বিতভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মাছের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুটি উপকারী দিক আছে। এক- জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি থেকে এটি আমাদের রক্ষা করবে। দুই- এটি আমাদের ভবিষ্যত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।