আয়তন বাড়ছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের

ঢাকা শহরের আশপাশে উপ-শহর হিসেবে গড়ে ওঠা ১৭৮.৭৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা যুক্ত হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি)। এর মাধ্যমে দ্বিগুণেরও বেশি হচ্ছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের আয়তন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের পটিয়া ভেঙে নতুন উপজেলা হচ্ছে ‘কর্ণফুলী’। এটি হবে দেশের ৪৯০তম উপজেলা। ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির আয়তন বৃদ্ধি এবং কর্ণফুলীকে উপজেলা করার প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিতে (নিকার) উঠছে আজ। মন্ত্রিপরিষদ ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএসসিসিতে নতুন যুক্ত হচ্ছে ৬৪.১৭ বর্গ কিমি. এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলভুক্ত ৮টি ইউনিয়ন- শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মাণ্ডা, দক্ষিণগাঁও এবং নাসিরাবাদ। ডিএনসিসিতে নতুন যুক্ত হচ্ছে ১১৪.৫৮ বর্গ কিমি. এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের আরও ৮টি ইউনিয়ন- বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, বেরাইদ, ডুমনি, উত্তরখান, দক্ষিণখান এবং হরিরামপুর। আর পটিয়ার চরলাক্ষ্যা, চরপাথরঘাটা, জুলধা, বড়উঠান ও শিকলবাহা ইউনিয়ন এলাকা নিয়ে গঠিত হচ্ছে কর্ণফুলী উপজেলা। ইউনিয়ন ও জনসংখ্যা এবং আয়তন উপজেলা গঠনে বিদ্যমান নীতিমালার শর্ত পূরণ না করলেও ভৌগোলিক অবস্থান, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দুর্যোগ ও সামাজিক অনগ্রসরতা বিবেচনায় নতুন এই উপজেলা গঠন করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ডিএসসিসির বর্তমান আয়তন ৪৫ বর্গ কিমি. এবং ডিএনসিসির আয়তন ৮২.৬৩ বর্গ কিমি.। দুই সিটি কর্পোরেশনের মোট আয়তন ১২৭.৬৩ বর্গ কিমি.। এর মধ্যে ডিএসসিসি ডিএনসিসির চেয়ে ৩৭.৬৩ বর্গ কিমি. ছোট। আর সম্প্রসারিত হওয়ার পর দুই সিটি কর্পোরেশনের মোট আয়তন হবে ৩০৬.৩৮ বর্গ কিমি., যা আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। সম্প্রসারণের পর ডিএসসিসি ৮৮.০৪ বর্গ কিলোমিটার ছোট থাকবে ডিএনসিসি থেকে।

অন্যদিকে একটি পৌরসভা ও ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা, যার আয়তন ৩৭৩ বর্গকিলোমিটার ও লোকসংখ্যা সাড়ে ৫ লাখ। এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের কর্ণফুলী থানাকে উপজেলায় উন্নীতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই উপজেলার জনসংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ১৪০ জন এবং আয়তন ৫৫ দশমিক ৩৭ বর্গকিলোমিটার। উপজেলা সদর থেকে এসব ইউনিয়নের গড় দূরত্ব ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত কর্ণফুলী উপজেলা সমুদ্র উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ এলাকা।

পটিয়া উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব ও দুর্গম যোগাযোগের কারণে সরকারি বিভিন্ন সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক কঠিন। এছাড়া পটিয়ার ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-১২-এর অন্তর্ভুক্ত। কর্ণফুলী উপজেলার জন্য প্রস্তাবিত বাকি ৫টি ইউনিয়ন-পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম-১৩ আসনের আওতাভুক্ত।

খোঁজখবরে জানা যায়, সম্প্রসারিত ডিএসসিসিতে যুক্ত হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ এলাকার ৪০ ভাগ এলাকা। এর মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইলসহ আশপাশের এলাকায় স্মার্ট শহরের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা ডিএসসিসি মেয়রের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হবে। সরেজমিন ডেমরা-সারুলিয়ার ডিএনডি বাঁধ এলাকা ঘুরে জলাধার-খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার চিত্র দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পানি নিষ্কাশন নালাগুলো বন্ধ করে ফেলায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার কয়েক লাখ মানুষের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন জানান, বিভাজনজনিত কারণে ডিএসসিসি খুবই চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। ডিএনডি বাঁধ এলাকা ডিএসসিসিকে আরও চ্যালেঞ্জে ফেলে দেবে। এছাড়া অন্যান্য এলাকায়ও অপরিকল্পিত নগরায়ন হয়েছে। ওইসব এলাকা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে কাজ করার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছি। সরেজমিন ঘুরে ডিএনসিসি এলাকার বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, বেরাইদ, ডুমনি, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও হরিরামপুর এলাকার বেহাল চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এসব এলাকার বেশিরভাগ সড়ক অত্যন্ত সরু। নেই পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। কোনো সড়কেই নেই ফুটপাত। সাঁতারকুলের পানি নিষ্কাশন খালগুলো ভরাট করে ফেলছে কিছু আবাসন কোম্পানি। ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) যে খাল দেখানো হয়েছে ১৩০ ফুট, সরেজমিন পরিদর্শনে সেটি দেখা গেছে মাত্র ১৫ ফুট। খাল পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ। এছাড়া এসব এলাকায় পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট।

এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ডিএনসিসিতে যেসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে, সেসব এলাকার বিষয়ে আমাদের নিজস্ব কিছু চিন্তা-ভাবনা আছে। তবে তা এখনও গণমাধ্যমকে বলার পর্যায়ে আসেনি। তিনি আরও জানান, গেজেট প্রকাশের পর সম্প্রসারিত এলাকার ব্যাপারে আমরা নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করব। জনবলসহ সামগ্রিক বিষয়ে আমাদের অনেক কাজ করার রয়েছে। সেগুলো গেজেট প্রকাশের পরই শুরু করব।