চলতি বছরই শেষ হবে মাওয়া জাজিরা সংযোগ সড়কের কাজ

কালাম আজাদ, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প থেকে ফিরে : ধীরে ধীরে আলোর মুখ দেখছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বহুমুখী এ সেতুর কাজ সম্পন্নে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে এ পর্যন্ত দিনভিত্তিক অগ্রগতি সন্তোষজনক। আর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, মাওয়া ও জাজিরা সংযোগ সড়ক এবং সার্ভিস এরিয়া-২ এর কাজ শেষ হবে চলতি বছরেই। বাদবাকি নদীশাসন ও মূল সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা যথাক্রমে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ও ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর নাগাদ।

জাজিরা সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর। এএমএল (আবদুল মোনেম লিমিটেড)-এইচসিএম জেভি (জাপানি প্রতিষ্ঠান) ঠিকাদারকে দেওয়া প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৯৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ১০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ সংযোগ সড়কের কাজ চলতি বছরের ৭ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। সংযোগ সড়কটির এ পর্যন্ত (সর্বশেষ গত ৬ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী) ভৌত বা বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যাতে ব্যয় হয়েছে ৯০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

অপরদিকে মাওয়া সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি। সড়কটির কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ২৬ জুলাই। ৩০ মাস (আড়াই বছর) মেয়াদি এ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১৯৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ১ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ সংযোগ সড়কের ঠিকাদারও এএমএল-এইচসিএম জেভি। সংযোগ সড়কটির এ পর্যন্ত ভৌত বা বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৭৯ দশমিক ২০ শতাংশ। সড়ক নির্মাণে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৫৬ কোটি টাকা।

এছাড়া সার্ভিস এরিয়া-২ এর আওতায় নির্মিত হয়েছে ১৮টি ডুপ্লেক্স ভবন এবং ১টি মোটেল মেস (কক্ষ সংখ্যা ৪০টি)। কাজ চলমান রয়েছে মসজিদ, সুপারভিশন অফিস, পানির ট্যাঙ্ক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গার্ড হাউস, ইলেকট্রিক সাব স্টেশন এবং অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ কেন্দ্র। আড়াই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ২০৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ হিসাবে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শুরু হওয়া সার্ভিস এরিয়া-২ এর কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ১১ জুলাই।

প্রকল্প বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তব বা ভৌত অগ্রগতির হার ৮৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে আবদুল মোনেম লিমিটেড।

এসবের বাইরে মূল সেতু নির্মাণে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড। ৪৮ মাস মেয়াদি মূল সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। সেতু নির্মাণ কাজের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৭১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

আর জাপানের সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন লিমিটেড কাজ করছে নদীশাসনের। ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ নদীশাসনের কাজ শেষ করার কথা ৪ বছরের মধ্যে। যার চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। নদীশাসনে এ পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৫২ কোটি ৬ লাখ টাকা।

প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতুর নিচের অংশের রেললাইনে কোনো দুর্ঘটনা হলে মানুষ যাতে সহজেই সড়কপথে উঠতে পারে সেজন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সোপান (সিঁড়ি) রাখা হবে। তিনি আরও জানান, পাইলিং করার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যামার অর্ডার দিয়ে জাপান থেকে তৈরি করে আনা হয়েছে। সম্পাদনা : সুমন ইসলাম