রাজধানীতে প্রচারণা ছাড়াই মিলছে সাড়া

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাজুড়ে বসানো হচ্ছে ১০ হাজার ওয়েস্টবিন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এরই মধ্যে কয়েক হাজার ওয়েস্টবিন বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসানো ওয়েস্টবিনগুলোতে ময়লা ফেলার বিনীত অনুরোধ করেছেন মেয়র সাঈদ খোকন। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বসানো ওয়েস্টবিনে লেখা হয়েছেÑ ‘এখানে আবর্জনা ফেলুন, আমাদের প্রিয় শহর পরিচ্ছন্ন রাখি’।
দুই সিটি করপোরেশনের তরফে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণা ছাড়াই দুই মেয়রের আহ্বানে সাড়া দিতে দেখা গেছে নগরবাসীকে। মিরপুর, ফার্মগেট, ইডেন কলেজ এলাকায় বসানো ওয়েস্টবিনগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নগরবাসীর অনেকেই চলতি পথে হাতের ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন এসব ওয়েস্টবিনে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খোন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম জানান, যেসব স্থানে মানুষের ভিড় বেশি সেসব স্থানে ১৫০ মিটার পরপর ওয়েস্টবিন বসানো হচ্ছে। আর যেসব স্থানে জনসমাগম তুলনামূলক কম হয়, সেসব স্থানে আপাতত ওয়েস্টবিন বসানো হচ্ছে ৩০০ মিটার পরপর। আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একে একে ৫ হাজার ৭০০টি ওয়েস্টবিন বসানোর কাজ শেষ হবে। পর্যায়ক্রমে আরও ডাস্টবিন বসানো হবে। প্রথম পর্যায়ে হাসপাতাল, বাস, লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ময়লা ফেলার ওয়েস্টবিন বসানো হয়েছে। এরপর ওয়েস্টবিনে ময়লা ফেলার জন্য করপোরেশনের তরফে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারণা চালানো হবে। এভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে এক পর্যায়ে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করতে করপোরেশনের তরফে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।ষ ১ম পৃষ্ঠার পর
জানা যায়, ২০১৬ সালকে পরিচ্ছন্নতার বছর ঘোষণা করে ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার ৭০০ ওয়েস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়। এরই মধ্যে ১ হাজার ৫১৭টি ওয়েস্টবিন বসানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে পুরো ৫ হাজার ৭০০ ওয়েস্টবিন বসানোর কাজ শেষ হবে। ডিএসসিসি সূত্র আরও জানায়, এরই মধ্যে ১, ২, ৩, ১০, ১৩ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১০০টি করে ওয়েস্টবিন বসানো হয়েছে। এছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৮৯টি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৫টি, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৭০টি, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩২টি, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২০টি, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০টি, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৭টি, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ১৮১টি, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৪০টি, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৪টি ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১৪টি ওয়েস্টবিন বসানো শেষ হয়েছে।
একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তরফে গত কয়েক দিনে রাজধানীর মিরপুর, ফার্মগেট, মহাখালী, গুলশান, বনানী ও কাকলী এলাকায় ওয়েস্টবিন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আর এসব এলাকার ওয়েস্টবিনগুলোতে পথচারীদের অনেকেই ময়লা ফেলতে শুরু করেছেন। সচেতন ব্যক্তিরা এখন খালি বোতল, চিপস কিংবা চকলেটের প্যাকেট ওয়েস্টবিনে ফেলছেন। কোনো ধরনের প্রচারণা ছাড়াই নগরবাসীর এ ধরনের সচেতনতা তৈরি হওয়ায় উৎসাহ পাচ্ছেন দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা চলতি মাসের মধ্যেই দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি ওয়েস্টবিন বসানোর জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। ওয়েস্টবিনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও এর পরিচর্যার জন্য তৈরি করা হচ্ছে আলাদা জনবলও।
ওয়েস্টবিন বসানোর সুফল পাওয়ার বিষয়ে ইডেনের শিক্ষার্থী আতিয়া সুরভী রুম্পা বলেন, ফুটপাতে ওয়েস্টবিন বসানোর উদ্যোগটি ভালো। ১০০ থেকে ১৫০ গজের দূরত্বে একেকটি ওয়েস্টবিন বসায় মনের অজান্তেই অনেকে এটি ব্যবহার করছেন। আইসক্রিম বা কোকের বোতল শেষ হওয়ার আগেই সামনে ওয়েস্টবিন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রচারণা ছাড়াই আমার মতো অনেকেই ওয়েস্টবিন ব্যবহার করছেন। তবে ওয়েস্টবিনের সুফল দৃশ্যমান করতে হলে দরকার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। এজন্য মেয়রদের আত্মপ্রচারের দৃষ্টিভঙ্গি ছেড়ে ওয়েস্টবিনের গায়ে ‘আমাকে ব্যবহার করুন’, ‘যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবেন না’ কিংবা ‘নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না’Ñ এমন আহ্বানমূলক লেখা থাকা দরকার।