ভালো দাম পাওয়ায় দাকোপের তরমুজচাষীদের মুখে হাসি

খুলনার দাকোপ উপজেলায় এবার তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে গতবারের চেয়ে এ বছর আবাদের পরিমাণ কমেছে।

দাকোপ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলায় নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ নম্বর পোল্ডারের (পাউবোর বাঁধ) বাজুয়া, দাকোপ, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব ও বানিশান্তা এ পাঁচটি ইউনিয়নে ২৪০ হেক্টর জমিতে এবার তরমুজ চাষ হয়েছে। গত বছর আবাদের পরিমাণ ছিল ৩৫০ হেক্টর। গতবারের চেয়ে এ বছর ১০০ হেক্টর কম জমিতে আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদনও হয়েছে ভালো।

সূত্র আরো জানায়, ১৯৮৯ সালে উপজেলার বাজুয়া এলাকায় সর্বপ্রথম তরমুজ চাষ করেন কৃষক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও পংকজ কয়াল। ফলন ভালো হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তাদের দেখে আরো অনেকে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তবে গতবার ভালো দাম না পাওয়ায় এবার এলাকায় তরমুজ চাষ কিছুটা কমেছে। কিন্তু ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

পশ্চিম বাজুয়া এলাকার তরমুজচাষী তরুণ কুমার মণ্ডল জানান, এ বছর তিনি আট বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে ব্যয় হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

একই এলাকার চাষী বিপুল কুমার মণ্ডল বলেন, নয় বিঘা জমিতে ৬৭ হাজার টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেছেন। বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এতে তার ভালো লাভ হয়েছে।

বাজুয়া চাঁদপাড়া এলাকার কৃষক অখিল রায় বলেন, ৪১ শতক জমিতে ৮ হাজার টাকা খরচ করে চাষ করে তরমুজ বিক্রি করেছেন ১ লাখ টাকার। একই এলাকার রণজিত রায়, ঝন্টু গাইনসহ আরো অনেক চাষী এ বছর তরমুজ চাষের লাভের কথা জানান।

মোরেলগঞ্জের তরমুজ ব্যবসায়ী রেজাউল শেখ জানান, এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন না হলেও দাম খুব ভালো। প্রতি বিঘা তরমুজ ক্ষেত কিনতে ব্যয় হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলে আরো বেশি লাভ হতো বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, গতবারের চেয়ে এবার এলাকায় তরমুজ চাষ কম হয়েছে। সেচের ব্যবস্থা না থাকায় চাষের পরিমাণ কমেছে। তবে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।