এক বছরে ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার বেড়েছে ১৪১%

দেশে ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার প্রথমবারের মতো ৩০০ গিগাবাইটস পার সেকেন্ড (জিবিপিএস) ছাড়িয়েছে। দেশে বর্তমানে সাতটি প্রতিষ্ঠান ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার দাঁড়িয়েছে ৩০৪ জিবিপিএস। গত বছরের একই সময়ে দেশে ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার ছিল ১২৬ জিবিপিএস। এক বছরের ব্যবধানে এ ব্যবহার বেড়েছে ১৪১ শতাংশ। কম মূল্য ও কনটেন্টের সহজলভ্যতাই ব্যান্ডউইডথের চাহিদা বাড়ার পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

দেশে চাহিদার সিংহভাগ ব্যান্ডউইডথই সরবরাহ করছে বেসরকারি খাতের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছয় ইন্টারন্যাশনাল টিরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) প্রতিষ্ঠান। তবে এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল শেষে শুধু বিএসসিসিএলের সরবরাহকৃত ব্যান্ডউইডথের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২১ জিবিপিএস। এর মধ্যে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ভারতে রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। আর আইটিসিগুলো সরবরাহ করছে ১৮৩ জিবিপিএসের বেশি ব্যান্ডউইডথ।

প্রসঙ্গত, বিএসসিসিএল ও আইটিসিগুলো ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ককে (পিএসটিএন) ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠান পরে তা গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করে।

গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে ব্যান্ডউইডথের চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে ব্যান্ডউইডথের চাহিদা ছিল ৭ দশমিক ৫ জিবিপিএস। আর ২০০৯ সালে এ চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ৮ জিবিপিএস। ২০১০ সালে তা বেড়ে ১৫ জিবিপিএস ও ২০১১ সালে প্রায় ২৩ জিবিপিএসে দাঁড়ায়।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত ব্যান্ডউইডথের মূল্য হ্রাস, ইন্টারনেট সেবার গ্রাহক বৃদ্ধি, সরকারি পর্যায়ে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম চালু ও ভারতে ব্যান্ডউইডথ রফতানির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার বেড়েছে। এছাড়া সেলফোন অপারেটরদের থ্রিজি সেবার গ্রাহক বৃদ্ধিও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ব্যান্ডউইডথের চাহিদা অনেক বেড়েছে। দাম কমার কারণে মূলত চাহিদার এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ব্যান্ডউইডথের দাম কয়েক দফা কমিয়েছে বিএসসিসিএল। ২০০৮ সালে দেশে প্রতি মেগাবিটস পার সেকেন্ড (এমবিপিএস) ব্যান্ডউইডথের দাম ছিল ৭২ হাজার টাকা। বর্তমানে বিএসসিসিএল প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ৬২৫ টাকায় বিক্রি করছে।

এ সময়ের মধ্যে বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটিও বেড়েছে। ২০০৮ সালে কার্যক্রম শুরুর সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি ছিল ৭ দশমিক ১৩ জিবিপিএস। ২০০৯ সালে এটি বাড়িয়ে ৪৪ দশমিক ৬ জিবিপিএস করা হয়। আর ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি আরো ১৬০ জিবিপিএস বাড়ানো হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি দাঁড়িয়েছে ২০০ জিবিপিএস।

বর্তমানে একমাত্র সাবমেরিন কেবল সংযোগ হিসেবে সাউথইস্ট এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-ফোরের (সিমিউই-৪) সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ। কেবলের বাংলাদেশ অংশটির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বিএসসিসিএল। এর বাইরে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ছয় আইটিসিকে লাইসেন্স দেয়া হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগ হিসেবে সিমিউই-৫ এর সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। এতে করে আরো ১ হাজার ৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন করবে বাংলাদেশ।

বিটিআরসির তথ্যানুযায়ী, মার্চ শেষে ইন্টারনেট সেবার সংযোগ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ১২ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে দেশের ছয় সেলফোন অপারেটরের ইন্টারনেট সংযোগ সংখ্যা ৫ কোটি ৮০ লাখ ৪৫ হাজার। এ সময়ে আইএসপি ও পিএসটিএন অপারেটরদের ইন্টারনেট সেবার আওতায় সংযোগ সংখ্যা বেড়ে ৩১ লাখ ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। আর ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার।

অন্যতম শীর্ষ আইটিসি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্র্যাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেন, দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় কনটেন্টও সহজলভ্য হয়েছে। এসবই ব্যান্ডউইডথের চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।