তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ ভাগ আরো বাড়বে, ইঙ্গিত বিশ্বব্যাংকের

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের তত্ত্বাবধানে দেশের পোশাক কারখানার অগ্নিব্যবস্থাপনা, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। তাদের প্রাথমিক পরীক্ষায়ও বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার সংখ্যা খুবই কম বলে স্বীকৃতি মিলেছে। এ বার্তা বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের বাংলাদেশ সম্পর্কে আস্থা বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে এর সুফলও দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে গার্মেন্টস রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) হিসাবে, গত ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সার্বিক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। আর আলোচ্য সময়ে গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যার ও ওভেন রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে সাড়ে সাত ও ১৩ শতাংশ। আসছে মাসগুলোতেও রপ্তানির এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছে।

গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ রপ্তানির জন্য কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতার (ইউটিলিটি ডিক্লারেশন-ইউডি) সনদ দিয়ে থাকে। ইউডি’র হিসাবে ভবিষ্যত্ তিন/চার মাসের রপ্তানি আন্দাজ করা যায়। ওই হিসাব বলছে, আসছে মাসগুলোতে গার্মেন্টস রপ্তানির আদেশ গত বছরের একই সময়ের চাইতে বেশি। দেশের মোট রপ্তানিতে এককভাবে গার্মেন্টস খাতের অবদান ৮১ শতাংশ। ফলে গার্মেন্টস খাতের রপ্তানি বাড়লে তা সার্বিক রপ্তানিতে প্রভাব ফেলে।

ইপিবি’র হিসাবে, গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নিটওয়্যার ও ওভেন মিলিয়ে মোট রপ্তানি হয়েছে মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি মার্কিন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য। এবার ২শ’ কোটি ডলার বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৬৬ কোটি ডলারে। এই রপ্তানি বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ। এর উপর ভর করে সার্বিক রপ্তানিও বেড়েছে ৯ দশমিক ২২ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১০ মাসে মোট রপ্তানি ২ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার হলেও এবার তা ২ হাজার ৭৬৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে গার্মেন্টস রপ্তানি সম্ভাবনার বিষয়টি সমপ্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে চীন ধীরে ধীরে গার্মেন্টস খাত থেকে বেরিয়ে আসছে। চীনের ছেড়ে দেয়া বিশাল গার্মেন্টস বাজার ধরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ভালো অংশ বাংলাদেশের কব্জায় আসতে পারে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, গার্মেন্টস রপ্তানি বাড়ছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে পোশাকের দর বাড়ছে না। কিছু ক্ষেত্রে উল্টো কমছে। অথচ সংস্কারের জন্য উদ্যোক্তাদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের গার্মেন্টস রপ্তানি বছরে ২৫ বিলিয়ন ডলার হলেও আগামী ৫ বছর পর অর্থাত্ ২০২১ সালে তা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য রপ্তানি আরো বেশি হারে বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারের নীতি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, অনেক কারখানা বিনিয়োগ করে গ্যাসের জন্য বসে আছে। গার্মেন্টস উদ্যোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে গ্যাস-বিদ্যুতের যোগান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে কর্পোরেট ট্যাক্সের জটিলতার কারণেও অনেকেই এ খাতে বাড়তি বিনিয়োগ করতে পারছেন না। এছাড়া যারা সংস্কারে ব্যয় করছেন, তাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।