প্রজন্মের আশার দিশারি

বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি যদি না থাকতেন, তাহলে হয়তো আমরা এই সোনার বাংলা ও স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। আমরা অকপটে গাইতে পারতাম না ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…’।

বঙ্গবন্ধুর সাহসিকতা ও বীরত্বে যেমন ছিল বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রজ্বলিত একটি নক্ষত্র ও পথিকৃত; তেমনি তার কন্যা, দেশরতœ শেখ হাসিনাও তার পিতার আদর্শে বলীয়ান। পিতার মতন শেখ হাসিনাও সেই সাহসিকতা ও বীরত্বের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিটি পদক্ষেপে। বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যক্ষভাবে তা দেখতে পাচ্ছে ও উপলব্ধি করছে। এ দেশের মানুষের প্রতিটি দুঃসময়ে ও চরম মুহ‚র্তে পাশে দাঁড়াচ্ছেন কখনো বন্ধু হয়ে, কখনো অভিভাবক হয়ে আবার কখনো নতুন প্রজন্মের আশার দিশারি হয়ে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য শেখ হাসিনা আসলেই বিধাতার অন্যতম উপহার।

১৯৯৬ সালের আগে যখন বিএনপি ক্ষমতায়, তখন দেশের অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। বাংলাদেশের মানুষ জোট সরকারের অত্যাচারে জর্জরিত। ঠিক তখনই স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য হাজির হলেন জননেত্রী ও বাংলাদেশের মানুষের শেষ ভরসা শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। বাংলাদেশে যেন নতুন সূর্য উদিত হলো। বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে পাশে পেয়ে যেন কোনো এক অজানা অমূল্যরতœ খুঁজে পেয়েছে। সারা দেশের মানুষের মাঝে আস্থা ফিরে এসেছে। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। জীবন-জীবিকার আশার প্রদীপ নিয়ে জনগণ এগিয়ে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা ও তার সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে কিভাবে দেশের উন্নয়ন সাধন করা যায়। দৃশ্যমান অনেক উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি বিএনপি সরকারের রেখে যাওয়া বেহালদশা থেকে দেশকে টেনে উপরে তুলে ধরল। আর শুরু হলো সারা দেশে স্বস্তির বাতাস…।

পরবর্তীতে ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় এল বিএনপি-জামায়াত জোট। আবারো শুরু হলো তাদের মানসিক বিকারগ্রস্ত তাণ্ডব। স্বাধীনতার সপক্ষে যারা ছিল, তাদের প্রতি অমানবিক অত্যাচার, নির্যাতন। তারা দেশের সাধারণ মানুষের ওপরও চালালো ইতিহাসের পাতায় তুলে রাখার মতো বর্বরতার প্রতিচ্ছবি। যার ভিডিও ফুটেজ এখনো দেখলে শরীর শিউরে উঠে। হত্যা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মারামারি ইত্যাদি ছিল তাদের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড। বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিল না। তারা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ওপর চালিয়েছে নির্মম নির্যাতন। বিএনপি-জামায়াত জোট এভাবে পাঁচটি বছর অত্যাচার ও নির্যাতনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ ও স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের পুরো কোনঠাসা করে রেখেছিল। তবে বিএনপি-জামায়াত জোট এ পাঁচ বছরে একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়ে গেছে পাঁচ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। এর চেয়ে বিশাল পাওয়া তাদের জন্য আর কি হতে পারে…! বিএনপি-জামায়াত জোট একসঙ্গে ও একসময়ে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় বোমা মারে। তাদের কাছে বোমাবাজি ও সন্ত্রাসবাদীরাই বীরত্বের সম্মান পায়। জঙ্গিবাজদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা দিতেও বিএনপি-জামায়াত দেরি করেনি।

২০০৬ থেকে ২০০৮ইং পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকার পর বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ আর চুপ করে থাকতে পারেনি। দেশের জনগণ আবারো বিপুল ভোটের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনল। শেখ হাসিনা আবারো শান্তির দূত হয়ে ফিরে আসল বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার এবং দুর্নীতিতে পাঁচ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের অতীত গøানি মুছে দিয়ে উন্নতির স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেয়ার জন্য। শেখ হাসিনা এতে যথেষ্টভাবে সফল হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনেক উপরে। যা কখনো বাংলাদেশের মানুষ ও বিএনপি-জামায়াত জোট কল্পনাও করতে পারেনি।

উন্নয়নশীল কর্মকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বে সমাদৃত হচ্ছেন। তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আজ দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের রোল মডেল হয়েছে। পেয়েছে তার স্বীকৃতির পুরস্কারও।

কেউ কেউ এটাকে রূপকথা ভেবে এখনো ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু না, এটা কোনো রূপকথা নয়, এটাই আজকের বাস্তবতা।

শুধু দুঃসময়ে নয়, দেশে খেটে খাওয়া মানুষদের কঠিন সময়েও শেখ হাসিনা ব্যথিত। তাই পরিশ্রমের মূল্য দিতে শেখ হাসিনা তাদের পাশে দাঁড়াতে দেরি করেনি। একটা কথা আছে- মানুষ, মানুষের জন্য। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা বলতে পারি, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য। দেশ ও জনগণের প্রতি শেখ হাসিনার দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও উন্নয়নের ধারা অনন্তকাল মানুষের মাঝে কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে। স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোট যেন আর তাদের নোংরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, দেশের স্বাধীনতাকামী ও শান্তিপ্রিয় মানুষের সে ব্যাপারে সচেতন, সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।